—প্রতীকী ছবি।
ইরান যুদ্ধের জেরে মারাত্মক অস্থির শেয়ার বাজার। কোনও দিন সূচক উঠছে তো পরের দিনই তা ছিটকে পড়ছে খাদে। এর প্রভাব পড়েছে মিউচুয়াল ফান্ডেও। ফলে আতান্তরে পড়েছেন খুচরো লগ্নিকারীরা। শুধু তা-ই নয়, পরিস্থিতি যা তাতে লোকসান মেনে নিয়ে ওই তহবিল থেকে টাকা তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন অনেকেই। যদিও সম্পূর্ণ ভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
সম্প্রতি ‘কোয়ান্ট’ মিউচুয়াল ফান্ডের রিপোর্টকে উদ্ধৃত করে এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম ‘মানি কন্ট্রোল’। সেখানে বলা হয়েছে, অস্থিরতার সময় ভয় পেয়ে বাজার ছেড়ে পালিয়ে গেলে ভুল করবেন খুচরো বিনিয়োগকারীরা। বরং কৌশলী রাস্তা অবলম্বন করে এই সময় লগ্নি করতে পারেন তাঁরা। নতুন গ্রাহকদের জন্য বর্তমান সময়কে ভাল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।
‘মানি কন্ট্রোল’ জানিয়েছে, সেনসেক্স এবং নিফটি-৫০র মতো সূচকগুলি প্রবল চাপের মুখে থাকলেও ‘কোয়ান্টে’র রিপোর্ট সেটাকে কোনও কাঠামোগত সমস্যা হিসাবে দেখছে না। বরং এই অস্থিরতাকে বাজার সমন্বয়ের একটা পর্যায় হিসাবে ব্যাখ্যা করছে তারা। সেখানে স্টকের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সংশোধিত হচ্ছে। আর তাই লগ্নিকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
তা ছাড়া অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ী, চাঙ্গা বাজার বিনিয়োগের আদর্শ সময় নয়। উল্টে সূচক নিম্নমুখী হওয়ার সময় সেখানে টাকা ঢালা ভাল। কারণ, তখন কম লগ্নিতে বেশি স্টক বা ইক্যুইটি হাতে পাবেন গ্রাহক। যদিও এ দেশের নাগরিকদের মধ্যে পতন দেখলেই বাজার ছেড়ে পালানোর একটা প্রবণতা রয়েছে। তাঁরা ভুলে যান যে এই অস্থিরতা সাময়িক। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার পর পুনরুত্থান ঘটে সূচকের।
বিশেষজ্ঞেরা এ ব্যাপারে দেশের ‘মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন’ বা জিডিপি (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট) বৃদ্ধির উদাহরণ টেনেছেন। যুদ্ধের কারণে এর গতি শ্লথ হলেও অনেক দেশের চেয়ে সেটা দ্বিগুণ জোরে ছুটছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জন্য আর্থিক পরিস্থিতি ভেঙে পড়ার কোনও আশঙ্কাই নেই।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই এই তহবিলে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)