Gold ETF

শুল্ক বাড়তেই হলুদ ধাতুর লগ্নিতে হুড়োহুড়ি, প্রধানমন্ত্রীর আবেদনের জেরে এ বার কাগুজে সোনায় বাম্পার রিটার্ন?

হায়দরাবাদের জনসভায় দেশের জনতাকে সোনা কেনার থেকে আপাতত বিরত থাকার আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফলে মিউচুয়াল ফান্ড বা শেয়ারবাজারে কাগুজে সোনায় ঢালাও লগ্নি করছেন বিনিয়োগকারীরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ১৮:১৪
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমজনতাকে সোনা কেনা বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফলে প্রমাদ গুনছে দেশের অলঙ্কার শিল্প। পাশাপাশি, লগ্নির বাজারে ঘুরপাক খাচ্ছে আরও একটি জটিল প্রশ্ন। এ বার কি তবে হলুদ ধাতুতে বিনিয়োগেও বিরত থাকতে বলবে সরকার? কাগুজে সোনার কেনা-বেচায় আসতে চলেছে বড় কোনও বিধিনিষেধ? এই প্রতিবেদনে তার হদিস দিচ্ছে আনন্দবাজার ডট কম।

Advertisement

আর্থিক বিশ্লেষকদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর ভাষণে দেশের জনগণকে সোনায় লগ্নি করতে বারণ করেননি। শুধুমাত্র আগামী এক বছরের জন্য হলুদ ধাতুর গয়না বা বাট কেনার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কারণ, অলঙ্কারের জন্য প্রতি বছর বিপুল পরিমাণে সোনা আমদানি করে থাকে ভারত। এতে খরচ হয় কোটি কোটি ডলার। মার্কিন মুদ্রার নিরিখে টাকার দাম পড়ে যাওয়ায় সেখানে রাশ টানতে চাইছে কেন্দ্র।

সম্প্রতি, আমদানি কমাতে সোনা-রুপোয় শুল্ক বৃদ্ধি করে মোদী প্রশাসন। ফলে ছয় থেকে একলাফে বেড়ে তা পৌঁছে গিয়েছে ১৫ শতাংশে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই শেয়ারবাজারে কাগুজে সোনা কেনায় লগ্নিকারীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ফলে বুধবার, ১৩ মে হলুদ ধাতু ও রুপোর ‘এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড’ বা ইটিএফের দাম ১৫ শতাংশ পর্যন্ত চড়তে দেখা গিয়েছে। এতে ঊর্ধ্বমুখী হয় বিনিয়োগকারীদের মুনাফার সূচক।

Advertisement

ব্রোকারেজ ফার্মগুলির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সোনার ২৫টি ইটিএফের মধ্যে সর্বাধিক বৃদ্ধি পেয়েছে ‘কোয়ান্টাম গোল্ড ফান্ড’। বৃহস্পতিবার, ১৪ মে বাজার বন্ধ হলে দেখা যায় ১৩১.৯০ টাকায় দৌড় থামিয়েছে সেটি। শেষ পাঁচ দিনে এর সূচক বেড়েছে ৫.৭৮ শতাংশ। আর গত ছ’মাসে প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে এই ইটিএফের দাম।

বিশ্লেষকেরা সোনার দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে একাধিক কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দুনিয়া জুড়ে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হওয়ায় নিম্নমুখী রয়েছে শেয়ার সূচক। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হলুদ ধাতুকে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছেন লগ্নিকারীরা। তা ছাড়া গত কয়েক বছর ধরেই স্বর্ণভান্ডার বৃদ্ধির দিকে নজর দিয়েছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা আরবিআই।

সেই লক্ষ্যে প্রায়ই হলুদ ধাতু কিনছে এ দেশের কেন্দ্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ফলে খোলা বাজারে হু-হু করে বাড়ছে সোনার চাহিদা। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়ছে তার দামও। তবে মুদ্রাস্ফীতির জেরে বর্তমানে যথেষ্ট চাপের মধ্যে রয়েছে হলুদ ধাতুর দর, যা আগামী দিনে স্থিতিশীল জায়গায় যাবে বলে আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে কলকাতার বাজারে হলমার্কযুক্ত (২২ ক্যারেট) ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৬০০ টাকায় ঘোরাফেরা করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮,২০০ টাকা বেড়েছে এর দাম। শেয়ারবাজারের ‘মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে’ (এমসিএক্স) অচিরেই যা ১.৮৬ লক্ষ টাকায় পৌঁছোনোর পূর্বাভাস দিয়েছে একাধিক ব্রোকারেজ ফার্ম।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ারবাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকিসাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement