—প্রতীকী ছবি।
ধরাশায়ী শেয়ারবাজার। দাম পড়েছে সোনা-রুপোর। এ-হেন পরিস্থিতিতে সরকারি বন্ডে দেখা গেল আলোর ঝলক। এতে একলাফে নয় বেসিস পয়েন্ট বেড়েছে মুনাফার অঙ্ক। স্টক, মিউচুয়াল ফান্ড এবং মূল্যবান ধাতু ছেড়ে এ বার কি তবে পকেট ভরাতে বন্ডে লগ্নিতে নজর দেবেন বিনিয়োগকারীরা? লাভের পরিমাণ বা ইল্ড ঊর্ধ্বমুখী হতেই তুঙ্গে উঠেছে সেই জল্পনা।
২০৩৫ সাল পর্যন্ত ১০ বছরের মেয়াদি সরকারি বন্ডের বেঞ্চমার্ক ৬.৪৮ শতাংশ ধার্য করেছিল রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)। গত শুক্রবার, ২০ মার্চ সেটা ৬.৭৩৬৯ শতাংশে উঠে আসে। ২৩ মার্চ, সোমবার আরও বেড়ে মুনাফার অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৬.৮২৬১ শতাংশ। সূচকের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আপাতত বজায় থাকবে বলেই মনে করছেন আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
বন্ডের বাজারে সুদের হার বৃদ্ধির নেপথ্যে অবশ্য একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ব বাজারে হু-হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। পাশাপাশি, ডলারের নিরিখে দুর্বল হয়েছে ভারতীয় টাকা বা রুপি। এই দু’য়ের জেরে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে আরবিআইয়ের ঋণ সরবরাহ, যা বন্ডের দামের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের কথায়, সরবরাহ বাড়লে এবং চাহিদা কমলে, সাধারণত উপরে উঠতে শুরু করে ইল্ড বা মুনাফার সূচক।
সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, বর্তমান অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ বিপুল পরিমাণে কেন্দ্রীয় সরকারি বন্ড বিক্রির পরিকল্পনা করেছে দেশের একাধিক রাজ্য। এর মাধ্যমে বাজার থেকে ৫৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে তারা। আগে সেটা ১০ হাজার কোটি টাকা হবে বলে মনে করা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে চলতি আর্থিক বছরের (২০২৫-’২৬) শেষ ত্রৈমাসিকে (জানুয়ারি-মার্চ) রেকর্ড সংখ্যক বন্ড ছাড়বে আরবিআই।
আর্থিক বিশ্লেষকদের বড় অংশই মনে করেন, স্বল্প মেয়াদে অস্থিতিশীল থাকবে বন্ডের বাজার। তবে সেটা লগ্নির সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে বললে অত্যুক্তি হবে না। সার্বভৌম বন্ডের মোটা মুনাফার জেরে সরকারি সিকিউরিটিজ় এবং উচ্চ মানের কর্পোরেট বন্ডকে বিনিয়োগের জন্য বেছে নিয়ে পারে আমজনতা। এগুলিতে ঝুঁকি থাকলেও দুর্দান্ত রিটার্নের সম্ভাবনার দিকটা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউই।
ভারতের মতোই সরকারি বন্ডে ইল্ড বা মুনাফার অঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও। সেখানে ১০ বছরের বন্ডে সুদের হার বেড়েছে তিন বেসিস পয়েন্ট। ফলে মার্কিন ট্রেজ়ারি বন্ডে মুনাফার অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৪.৪১ শতাংশ, যেটা গত আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া দু’বছরের মেয়াদি বন্ডে ৪ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে, সুদের হার ৩.৯৪ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে। ফলে আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজ়ার্ভ সুদের হার বৃদ্ধি করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: সরকারি বন্ডে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই এতে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)