— প্রতীকী চিত্র।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যুদ্ধে বিশ্বে জ্বালানি সঙ্কট যখন তীব্র আকার ধারণ করেছে, ঠিক তখনই তেল রফতানিকারীদের সংগঠন ওপেক ছাড়ার কথা ঘোষণা করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। মঙ্গলবার পশ্চিম এশিয়ার দেশটি জানাল, ১ মে থেকে আর তার সদস্য থাকছে না তারা। ফলে এ বার নিজেরাই তেল উত্তোলনের পরিমাণ স্থির করতে পারবে তারা। বাধা থাকবে না বিশ্ব বাজারে ইচ্ছামতো তা সরবরাহেও। যা ভবিষ্যতে তেলের জোগান বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের একাংশের। যদিও, আজ এই খবর সামনে আসার পরেই বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলে ১১৩ ডলারের কাছে পৌঁছেছিল। পরে তা নেমে রয়েছে ১১১ ডলারের আশপাশে। তার উপরে হরমুজ় প্রণালী না খোলা পর্যন্ত তেল উত্তোলন বাড়িয়েও দামে সুরাহা হবে বলে মনে করছেন না তাঁদের অন্য অংশ।
মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের পরামর্শদাতা আনোয়ার গারগেশ জানান, গাল্ফ দেশগুলি একে অপরকে নানা ভাবে সাহায্য করে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে তারা রয়েছে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায়। তাই এই সিদ্ধান্ত। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এটা দেখতে গেলে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৈতিক জয়। তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে ওপেকের ভূমিকায় খুশি নন তিনি। ২০১৬ সালে প্রথম ক্ষমতার আসার পর থেকেই তাদের উত্তোলন বাড়িয়ে দাম কমানোর বার্তা দিচ্ছিলেন। পরে করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়েও একই কথা শোনা গিয়েছে ট্রাম্পের মুখে।
আবার আমিরশাহিও কয়েক বছর ধরেই আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে যে সব শহরের পরিকাঠামো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এই দেশটির দুবাই তাদের অন্যতম। আবার তেল উত্তোলন বাড়ানো নিয়ে ওপেকের অঘোষিত নেতৃত্ব সৌদি আরবের সঙ্গে মতান্তরেও জড়িয়েছে তারা। ফলে এই বিদায় গোষ্ঠীর ভাঙনকেই তুলে ধরছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের। উল্লেখ্য, বর্তমানে ওপেক দেশগুলি যে তেল উত্তোলন করে, তার ৩% আসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে। এখন দেখার তারা উত্তোলন বাড়ালে ভবিষ্যতে তেলের দামে হেরফের হয় কি না।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে