Indian Rupee-US Dollar

বিদেশি লগ্নির অভাবে পড়েই চলেছে টাকার দাম, আশঙ্কা বাড়ছে মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও

সোমবার টাকা ফের নজিরবিহীন তলানি ছুঁয়েছে। এই প্রথম ডলার ৯৬ টাকায় থিতু হয়েছে। ৩৯ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬.২০ টাকায়। অর্থাৎ, এক ডলার কিনতে হলে এখন ৯৬.২০ টাকা খরচ করতে হবে। লেনদেন চলাকালীন এক সময় তা ৯৬.৩৯ টাকায় উঠেছিল।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ০৮:৪৯
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় মনমোহন সিংহের আর্থিক সংস্কারের পর থেকে এ দেশে যত প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নি (এফডিআই) আসত, তার থেকে অনেক কম এ দেশ থেকে বাইরে যেত। কিন্তু সূত্রের দাবি, মোদী সরকারের তৃতীয় জমানায় ভারত থেকে যে পরিমাণে লগ্নি বাইরে চলে যাচ্ছে, সেই তুলনায় বিদেশি লগ্নি আসছে না। ফলে টান পড়ছে বিদেশি মুদ্রা বা ডলারে। তার চাহিদা বাড়ছে। আর তার জেরে ডলারের তুলনায় পড়ছে টাকার দাম।

সোমবার টাকা ফের নজিরবিহীন তলানি ছুঁয়েছে। এই প্রথম ডলার ৯৬ টাকায় থিতু হয়েছে। ৩৯ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬.২০ টাকায়। অর্থাৎ, এক ডলার কিনতে হলে এখন ৯৬.২০ টাকা খরচ করতে হবে। লেনদেন চলাকালীন এক সময় তা ৯৬.৩৯ টাকায় উঠেছিল।

এ দিন অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু মন্তব্য করেছেন, ‘‘এ বার রাজনীতি থেকে আসল নীতিগত বিষয়ে যাওয়া প্রয়োজন। গত এক বছরে ডলারের তুলনায় টাকার দর ১১.২% কমেছে। এটা শুধু যুদ্ধের কারণে নয়। নিট এফডিআই গত ২২ মাস ধরে প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। এর মোকাবিলা করা না হলে মূল্যবৃদ্ধি বাড়বে।’’

অর্থনীতিবিদদের ব্যাখ্যা, বিদেশি মুদ্রার লেনদেন হিসেব হয় দু’টি খাতে। একটি বিদেশি মুদ্রা লেনদেনের চালু খাত। সেখানে তা আয় হয় রফতানি থেকে, আমদানির জন্য ব্যয় হয়। বরাবরই আমদানির জন্য বিদেশি মুদ্রা বেশি খরচ হয় বলে চালু খাতে ঘাটতি তৈরি হয়। অন্যটি হল মূলধনী খাত। সেখানে হিসেব হয় দেশে কতটা বিদেশি লগ্নি আসছে এবংএ দেশের সংস্থাগুলি কতখানি বাইরে লগ্নি করছে। সাধারণত যতটা পুঁজি বাইরে যায়, তার থেকে বেশি দেশে আসে। মূলধনী খাতে নিট বিদেশি লগ্নি বেশি হওয়ায়, সেই উদ্বৃত্ত বিদেশি মুদ্রা দিয়ে চালু খাতের ঘাটতি পূরণ করেও বেশি থাকে। যা দেশের বিদেশি মুদ্রার ভান্ডারে জমা হয়।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪-২৫ সালে নিট বিদেশি লগ্নির পরিমাণ ছিল মাত্র ৯৫ কোটি ডলার। আর গত অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) অগস্ট থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তা ছিল শূন্যেরও কম। অর্থাৎ, যত বিদেশি লগ্নি এসেছে, তার থেকে বেশি বেরিয়ে গিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে কিছুটা হাল ফেরে। অর্থ মন্ত্রকের চিন্তা হল, এ দেশের শিল্পপতিরা বিদেশে লগ্নি করতে উৎসাহী। দেশের বাজারে তাদের আগ্রহ নেই। যেমন, মে মাসেই ভারতের শিল্পমহল আমেরিকায় ২০০০ কোটি ডলার লগ্নির ঘোষণা করেছেন।

এক দিকে নিট বিদেশি লগ্নি শূন্যের কাছে। তার উপরে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে চড়া দরে তেল-গ্যাস কিনতে বেশি মুদ্রা খরচ হচ্ছে। ফলে ডলারে টান পড়েছে। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ডলার সাশ্রয়ের জন্য জ্বালানি এবং সোনার পিছনে খরচ কমানোর আবেদনকরতে হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন