LPG Black Market

৭ বছরের জেল, সঙ্গে সীমাহীন জরিমানা! অত্যাবশ্যক পণ্য আইনে রান্নার গ্যাস মজুত ও কালোবাজারিতে হতে পারে কী কী শাস্তি?

রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি ও মজুত আটকাতে ইতিমধ্যেই ৭১ বছরের পুরনো ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন’ বা একা (এসেনশিয়াল কমোডিটিজ় অ্যাক্ট) জারি করেছে কেন্দ্র। তাতে কী কী কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, তার হদিস রইল আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ১৭:১১
Share:

—প্রতীকী ছবি।

ইরান যুদ্ধের জেরে ব্যাহত অপরিশোধিত খনিজ তেল এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানি। হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় কোনও ভাবেই পশ্চিম এশিয়ার জ্বালানি ঘরে তুলতে পারছে না ভারত। এই পরিস্থিতিতে রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি আটকাতে ১৯৫৫ সালের ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন’ বা একা (এসেনশিয়াল কমোডিটিজ় অ্যাক্ট) জারি করেছে কেন্দ্র, যাতে এলপিজি সিলিন্ডারের মজুতদারিতে রয়েছে কড়া শাস্তির বিধান।

Advertisement

কী বলা হয়েছে সাত দশকের পুরনো আইনে? ‘একা’র তিন নম্বর ধারা অনুযায়ী, কেন্দ্র মনে করলে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে যে কোনও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ বজায় রাখতে বা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারবে। আমজনতার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সামগ্রীর ন্যায্য মূল্যের বণ্টন এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও ‘একা’র বিজ্ঞপ্তি জারির আইনগত বৈধতা রয়েছে সরকারের।

চলতি বছরের ৯ মার্চ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্র। ফলে রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি আটকাতে এলপিজি সিলিন্ডারের উৎপাদন, সরবরাহ, বিতরণ এবং ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও নিষিদ্ধ করার অধিকার চলে এসেছে প্রশাসনের হাতে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি আদেশ লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট আইনের তিন নম্বর ধারা মেনে ব্যবস্থা নিতে পারবেন কেন্দ্র বা রাজ্যের আধিকারিক।

Advertisement

বর্তমানে বাড়ি বা গুদামে রান্নার গ্যাস মজুত করলে যাবতীয় এলপিজি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিতে পারবেন জেলাশাসক বা সম পদমর্যাদার অফিসার। পাশাপাশি, এই আইনের সাত নম্বর ধারা মেনে গ্রেফতার করা যাবে অভিযুক্ত মজুতদারকে। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা রুজু করবে স্থানীয় পুলিশ বা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (ইবি)। শুধু তা-ই নয়, এতে অভিযুক্ত মজুতদারের তিন মাস থেকে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং মোটা অঙ্কের জরিমানা হতে পারে।

এই আইনে জরিমানার কোনও নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। অভিযুক্তের অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তা ঠিক করবেন বিচারক। এ ক্ষেত্রে মজুত করা রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের সংখ্যা, কালোবাজারি থেকে প্রাপ্ত অর্থ এবং ধৃতের আর্থিক পরিস্থিতি সাজা ঘোষণার সময় মাথায় রাখতে বলা হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তি রান্নার গ্যাসের ডিলার হলে জেল ও জরিমানার পাশাপাশি আরও বড় শাস্তির বিধান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ধৃতের ব্যবসা নিষিদ্ধের নির্দেশ দিতে পারবে স্থানীয় প্রশাসন। সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হবে তাঁর লাইসেন্স। পাশাপাশি, খনিজ তেল ও এলপিজি সরবরাহকারী রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির কাছেও কালো তালিকাভুক্ত হয়ে যাবেন তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement