বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম তলানিতে। ১১ বছরের মধ্যে সব থেকে নীচে। ফলে লোকসান কমাতে খরচ ছাঁটাই করছে সারা পৃথিবীর তেল-গ্যাস সংস্থাগুলি। এই অবস্থায় ভারতে ওই ক্ষেত্রে লগ্নি টানতে কী করণীয়, তা খতিয়ে দেখার জন্য মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
দু’ঘণ্টার ওই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ তেল বহুজাতিক বিপি-র চিফ এগ্জিকিউটিভ বব ডাডলি, ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির এগ্জিকিউটিভ ডিরেক্টর ফতিহ বিরোল, রয়্যাল ডাচ শেলের ডিরেক্টর (প্রকল্প ও প্রযুক্তি) হ্যারি ব্রেকেলম্যানস প্রমুখ। ছিলেন অর্থ মন্ত্রী অরুণ জেটলি, বিদ্যুৎ ও কয়লামন্ত্রী পীযুষ গয়াল, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অরবিন্দ পানাগড়িয়াও।
বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম নেমে এসেছে ব্যারেলে ৩৭ ডলারে। ফলে সঙ্কটে পড়েছে তেল ও গ্যাস সংস্থাগুলি। কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে খরচ ছাঁটাইয়ে বাধ্য হচ্ছে তারা। তাই এক দিকে যেমন তারা কর্মী ছাঁটাই ও সম্পদ বিক্রির রাস্তা নিচ্ছে, তেমনই কমাচ্ছে কর্মী। সে ভাবে হাত দিচ্ছে না নতুন প্রকল্পে। থমকে আছে পুরনো প্রকল্পগুলিও।
এমনিতে বিশ্ব বাজারে তেলের দর তলানিতে ঠেকা কেন্দ্রের কাছে পড়ে পাওয়া সুযোগ। কিন্তু তেল বহুজাতিকগুলির বিনিয়োগে রাশ আবার সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের পক্ষে। কারণ, গত পাঁচ বছরে নতুন করে কোনও বড় তেল ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়নি এ দেশে। কাঙ্খিত উচ্চতায় পৌঁছচ্ছে না তেল-গ্যাসের উৎপাদন। এই পরিস্থিতি বদলাতে একান্ত জরুরি দেশি-বিদেশি সংস্থার লগ্নি। আর সেই লক্ষ্যেই এ দিন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মোদীর এই বৈঠক।
সেখানে ওই ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ম-কানুন, গ্যাসের দাম বাজারের হাতে ছেড়ে দেওয়া, দূষণ কমাতে দেশে গ্যাসের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়ে কথা হয়েছে। আলোচনায় উঠেছে আরও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসঙ্গ। আগামী দিনে তেল-গ্যাস ক্ষেত্রকে আরও বেশি করে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পেও সামিল করতে চান মোদী।