রাহুল গাঁধী ‘স্যুট-বুট কি সরকার’-এর তকমা দিয়েছেন। রোজই সনিয়া-রাহুল অভিযোগ তুলছেন, মোদী সরকার শিল্পপতিদের কথা ভাবে। গরিব চাষির কথা ভাবে না।
বিরোধী দলের এই অভিযোগ ঝেড়ে ফেলতে এ বার বাজেটে কেন্দ্র কৃষিতেই সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ইঙ্গিত। অরুণ জেটলির অর্থ মন্ত্রকে এখন তারই প্রস্তুতি চলছে। নজর থাকছে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর নতুন প্রযুক্তি এবং ক্ষুদ্র-সেচ ও গ্রামের পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকে।
সমালোচকরা বলতেই পারেন, এ হল বিহারের হার থেকে বিজেপির শিক্ষা। সে রাজ্যে ভোটে ধরাশায়ী হয়ে এখন গ্রামের মানুষের মন জয়ের চেষ্টা করছেন মোদী-জেটলি-অমিত শাহ। কিন্তু অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা বলছেন, পরপর দু’বছর অনাবৃষ্টির ফলে কৃষি ক্ষেত্রে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখেই সম্ভবত বাজেটে কৃষি ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিতে হচ্ছে।
বস্তুত রাজ্যগুলির তরফেও দাবি উঠেছে, বাজেটে কৃষির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাড়তি নজর দেওয়া হোক। বরাদ্দ হোক আরও বেশি অর্থ। বাজেটের প্রস্তুতি পর্বে রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন অরুণ জেটলি। সেখানেও সব রাজ্য একযোগে দাবি তুলেছে, কৃষির গুরুত্ব বাড়াক কেন্দ্রীয় বাজেট।
অর্থ মন্ত্রকের শীর্ষ স্তরের একটি সূত্রের দাবি, গত অর্থবর্ষে কৃষি ক্ষেত্রে বৃদ্ধি তো হয়ইনি। উল্টে উৎপাদন ০.২% কমেছিল। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ছ’মাসে কৃষি ক্ষেত্রে বৃদ্ধি মাত্র ২%। সরকারি পূর্বাভাস বলছে, গোটা বছরে কৃষি ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ১.১ শতাংশে পৌঁছবে। কৃষির ঢিমেতালে এগোনোর প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়েছে গ্রামের অর্থনীতিতে। বহু রাজ্যেই ঋণ শোধ করতে না-পেরে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। কৃষকদের আয় কমে যাওয়ায় চাহিদায় টান পড়েছে। ট্রাক্টর থেকে মোটরবাইকের মতো যে-সব পণ্যের বিক্রি মূলত গ্রামে, সেগুলির বিক্রি কমেছে। তার ধাক্কা লেগেছে শিল্প ক্ষেত্রেও। কৃষি ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করতে এ বার তাই ক্ষুদ্র-সেচ ও বৃষ্টির জল ধরে রেখে পুনর্ব্যবহার করার মতো প্রকল্পগুলিতে সব থেকে বেশি জোর দেওয়ার সম্ভাবনা। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা ও প্রধানমন্ত্রী কৃষি সেচ যোজনা-র কাজ শুরু করেছে মোদী সরকার। রাজ্যগুলিকেও এই সব প্রকল্পে নজর দিতে বলা হচ্ছে। বাজেটে সে দিকে গুরুত্ব আরও বাড়ানোর কথা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ইঙ্গিত, কৃষিঋণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক নাবার্ড-এর অধীনে বিশেষ তহবিল তৈরি হতে পারে, যেখান থেকে শুধুমাত্র সেচের জন্য ঋণ দেওয়া হবে। এই তহবিল গড়ার জন্য সম্ভবত বাজারে করমুক্ত বন্ড ছাড়ার প্রস্তাব আনা হবে। একই ভাবে ছোট ও ভাগচাষিদের ঋণ দেওয়ার জন্য বিশেষ খাতে অর্থ বরাদ্দ করা হতে পারে বাজেটে। ক্ষুদ্র সেচের জন্য ঋণকে পরিকাঠামো-ঋণের তকমা দেওয়া নিয়েও ভাবনা-চিন্তা চলছে। এর পিছনে যুক্তি হল, চাষের একটা বড় অংশ এখনও বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। আর সেই কারণেই গত দু’বছরের অনাবৃষ্টিতে কৃষিতে ধাক্কা লেগেছে।
কিছু দিন আগেই একশো দিনের কাজের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে অরুণ জেটলি স্পষ্ট করেন, মোদীও ইউপিএ-সরকারের এই প্রকল্পে নতুন করে জোর দিতে চাইছেন।