ভারতে এ বার ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ওয়ালমার্টের বিরুদ্ধে

ছোট থোকে মোটা ঘুষ। ব্যবসায় কার্যসিদ্ধির জন্য ভারতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠল ওয়ালমার্ট স্টোর্সের বিরুদ্ধে। এক মার্কিন দৈনিকের রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্প্রতি আমেরিকার সরকারি তদন্তেই উঠে এসেছে এই তথ্য।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৫ ০৪:৩০
Share:

ছোট থোকে মোটা ঘুষ। ব্যবসায় কার্যসিদ্ধির জন্য ভারতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠল ওয়ালমার্ট স্টোর্সের বিরুদ্ধে।

Advertisement

এক মার্কিন দৈনিকের রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্প্রতি আমেরিকার সরকারি তদন্তেই উঠে এসেছে এই তথ্য। দেখা গিয়েছে, কখনও আমদানি করা পণ্য ছাড়াতে, তো কখনও বিপণি বা অফিসের জায়গা পাওয়ার জন্য (রিয়েল এস্টেট পারমিট) এ দেশে বারবার ঘুষ দিতে হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম খুচরো ব্যবসা (রিটেল) সংস্থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার অঙ্ক বেশি নয়। ২০০ ডলারেরও (১৩ হাজার টাকা) কম। অনেক ক্ষেত্রে আবার তা ৫ ডলার (৩৩০ টাকা) মতো! কিন্তু এমন ছোট-ছোট ঘুষই দিতে হয়েছে কয়েক হাজার বার। যে কারণে সব মিলিয়ে তার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে বহু লক্ষ কোটি ডলার।

ওয়ালমার্ট ইন্ডিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং কর্পোরেট বিষয়ক বিভাগের প্রধান রজনীশ কুমারের দাবি, ‘‘এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছি। এই মুহূর্তে এ নিয়ে এর বেশি কিছু বলা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’’

Advertisement

অনেকে বলছেন, এই ঘটনা থেকে অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট। তা হল, কেন ভারতে ব্যবসা করা এখনও এত কঠিন। কেন ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সূচকে বিশ্বে এত নীচে এই দেশ। তাঁদের যুক্তি, এ ক্ষেত্রে ওয়ালমার্টকে কোথাও আকাশছোঁয়া অঙ্ক ঘুষ দিতে হয়নি। বরং তা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আধিকারিকদেরকে। ছোট-ছোট অঙ্কে। অর্থাৎ, বাধা এসেছে পায়ে-পায়ে। ছোট-ছোট কাজ কিংবা ছাড়পত্রের জন্যই চাওয়া হয়েছে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা। বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, ঘুষ ছাড়াও কি ওই কাজ একই ভাবে এগোতো?

আমেরিকার আইন অনুযায়ী, অন্য কোনও দেশে ব্যবসা করতে গিয়ে সেখানে কাউকে ঘুষ দিতে পারে না মার্কিন সংস্থাগুলি। কিন্তু বছর তিনেক আগে মেক্সিকোয় সেই নিয়ম ভাঙার অভিযোগ ওঠে ওয়ালমার্টের বিরুদ্ধে। শুরু হয় তদন্ত। সেই সূত্রেই খতিয়ে দেখা শুরু হয় যে, ভারত, ব্রাজিল এবং চিনেও রিটেল বহুজাতিকটি ওই একই নিয়ম ভেঙেছে কি না। মার্কিন সংবাদপত্রটির দাবি, তদন্ত শেষে দেখা যাচ্ছে, মেক্সিকোয় ঘুষ দেওয়ার ঘটনা বরং তুলনায় কম। তার থেকে হয়তো বেশি বার নিয়ম ভাঙা হয়েছে ভারতেই।

তবে এই ঘটনায় অন্তত একটি বিষয়ে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে মার্কিন সংস্থাটির ভারতীয় শাখা। তা হল, ঘুষ দেওয়ার ফলে সংস্থা অনৈতিক ভাবে যে মুনাফা করে, সাধারণত তার থেকেই জরিমানা করে মার্কিন আইন। কিন্তু ২০১৪ সালে ২৩২ কোটি টাকা লোকসান করেছে ওয়ালমার্টের ভারতীয় শাখা। গত বছর তাদের ব্যবসার অঙ্কও কমেছে ৩২%। ফলে সে ভাবে জরিমানা হয়তো তাদের গুনতে হবে না।

সুনীল মিত্তলের ভারতী এন্টারপ্রাইজেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ২০০৭ সালে ভারতে পা রাখে ওয়ালমার্ট। কিন্তু ২০১৩ সালে সেই গাঁটছড়া ভেঙে গিয়েছে। তার উপর এক ছাদের তলায় বহু ব্র্যান্ডের পণ্যের খুচরো ব্যবসায় (মাল্টি ব্র্যান্ড রিটেল) বিদেশি লগ্নির পথ প্রশস্ত করতে এখনও পর্যন্ত নীতিগত ভাবে সায় নেই মোদী সরকারের। ফলে এ দেশে এই মুহূর্তে একা পাইকারি সংস্থা হিসেবেই ব্যবসা করছে ওয়ালমার্ট। ২০১২ সালে আবার অভিযোগ ওঠে যে, ভারতে লগ্নির সময় বিদেশি মুদ্রা আইন ভেঙেছে সংস্থা। তা নিয়ে বিপাকেও পড়তে হয়েছিল তাদের।

সেই সমস্ত ঝড়-ঝ়ঞ্ঝার পরে এ বার এই ‘ঘুষ কাণ্ড’ ওয়ালমার্ট ইন্ডিয়ার সমস্যা আরও বাড়ায় কি না, এখন সে দিকেই নজর সকলের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement