Coronavirus

অবহেলিত

একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সর্বাধিপত্যকামী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বারংবার নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবনে নজরদারি চালাইবার অভিযোগ উঠে।

Advertisement
শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২০ ০২:২৯
Share:

সমগ্র বিশ্বে কোভিড-১৯’এর দাপট যত বাড়িতেছে, তত মানুষের ইন্টারনেট-নির্ভরতাও বৃদ্ধি পাইতেছে। দৈনন্দিন মেলামেশা সম্পূর্ণ বন্ধ হইবার ফলে ‘ভার্চুয়াল’ জগতের উপর নির্ভরতা বিনা পথ নাই। কিন্তু সাইবার জগতের মূল সমস্যা, যত তাহার উপর নির্ভরতা বাড়ে, তত তাহার বিপদের সম্মুখে উন্মুক্ত হইবার আশঙ্কাও বাড়িয়া যায়। কেননা, অধিক পরিমাণে ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে তুলিয়া দিলে তাহা চুরি হইবার আশঙ্কা অধিক, এবং সেই তথ্য লইয়া কুকীর্তির ভয়ও বেশি। এই মুহূর্তে যখন সমগ্র সমাজই সাইবার জগতে উঠিয়া গিয়াছে, তখন এই শঙ্কা বৃদ্ধি পাইতেছে বইকি। যে সকল অ্যাপে অতি জরুরি বৈঠক এবং কম জরুরি আড্ডা বসিতেছে, সেই সকল স্থলে এই ভীতিকে সত্য প্রমাণ করিয়া ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হইয়া যাইতেছে। হ্যাকাররাও নানা কৌশলে এই সকল অ্যাপ কব্জা করিয়া ব্যবহারকারীদের বিপদে ফেলিতেছে। বস্তুত, সাইবার-সুরক্ষায় ছিদ্র লইয়া অভিযোগ নূতন নহে, কোভিড-যুগে তাহা কেবল ফুলে-ফলে পল্লবিত হইয়াছে।

Advertisement

এহ বাহ্য। একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সর্বাধিপত্যকামী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বারংবার নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবনে নজরদারি চালাইবার অভিযোগ উঠে। কোভিড-যুগেও শুনা গিয়াছে, তাইওয়ান এবং দক্ষিণ কোরিয়া নাকি স্মার্টফোন ও বিগ ডেটা বা বৃহৎ তথ্যভাণ্ডারকে সংযুক্ত করিয়া ফেলিবার ফলে কোভিড-১৯’এর বিরুদ্ধে লড়াই করিবার ক্ষেত্রে সুবিধা পাইয়াছে। সেই পথ খুঁজিয়া দেখিতে তৎপর হইয়াছে ব্রিটেনও। আসলে, উক্ত পন্থাকে যথার্থ বলিয়া সাব্যস্ত করা যাইলে সরকারি ও বেসরকারি তথ্যভাণ্ডারের আইনগত, নীতিগত ও প্রযুক্তিগত যাবতীয় বিতর্কগুলি বহু দূর অবধি চাপা দেওয়া যাইবে। ব্যক্তি-আচরণে নজরদারি চালাইতে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের জন্যে ঘুরপথে যৌক্তিকতা তৈয়ারির ইহা অপেক্ষা ভাল উপায় আর কী? অতএব, কোভিড-১৯ পর্ব মিটিয়া গেলে রাষ্ট্রনেতারা যখন পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বসিবেন, তখন যদি অসুখ সারাইতে বৃহৎ তথ্যভাণ্ডার নির্মাণের কথা বলা হয়, বিস্মিত হইবার কিছু নাই।

তবে, স্বার্থসিদ্ধির রাজনীতিতে সমস্যা কেবল জটিলতর হয়। যে কোনও জনপরিষেবার ক্ষেত্রে দীর্ঘ দিন ধরিয়া সমস্যার সমাধান না করিলে পরিমাণ কী হইতে পারে, কোভিড-১৯’এ তাহা বহুলাংশে অনুধাবন করিয়াছে বিভিন্ন দেশের প্রশাসন। কুড়ি বৎসর ধরিয়া নানা নীতি, কৌশল ও আইন স্থির করিবার পরেও এই অতিমারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করিবার পরেই বুঝা গেল যে ইহার সহিত লড়িবার জন্য তাহারা এখনও তৈয়ারি নহে। সেই দেশের সকল ক্ষেত্রগুলি যে ভাবে বিপন্ন হইয়া উঠিয়াছে, তাহাতে কবে আবার তাহা স্বাভাবিক হইবে, ইহাও অনুমান করা দুঃসাধ্য হইতেছে। ইহার কারণ কী? অতিমারির সহিত লড়িবার জন্য সরকারি স্তরে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক স্তরে প্রয়োজনীয় গতিশীলতা নাই। বারংবার তাহাদের প্রস্তুত হইতে বলা হইলেও শেষাবধি কাজের কাজ হয় নাই। সাইবার-সুরক্ষা একেবারে ভিন্নধর্মী সমস্যা হইলেও তাহাতেও এমন অসংখ্য সঙ্কট দীর্ঘ দিন ধরিয়া অবহেলিত। কোনও দিন বড় বিপদ আসিলে তাহা অতিক্রম করিবার ক্ষেত্রে এই প্রস্তুতিহীনতাই বড় বাধা হইতে পারে। কোভিড-১৯ হইতে শিক্ষা লওয়া আবশ্যক।

Advertisement

(অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেনআপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।)

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন