‘প্রমাণ’ দিতে নদিয়ার শুনানিকেন্দ্রে এ ভাবেই হাজিরা। ছবি: পিটিআই।
সারি সারি নাচার মুখের সারি। খবরের কাগজে। টেলিভিশনে। রোজ রোজ। প্রত্যহ। আর ভাল লাগে না। একদম ভাল লাগে না। আরও খারাপ লাগে, যখন সেই মুখচোখে লেখা থাকে অন্তহীন অসহায়তা।
সারা পশ্চিমবঙ্গের গাঁ-গঞ্জ জুড়ে ভিড় জমেছে বৃদ্ধ, নাচার, গরিব অসহায় মানুষের। ভিড় জমেছে শহরে। ভিড় জমেছে আধা শহর এবং মফস্সলে। হাজিরার ভিড়। সে ভিড়কে হাজিরা দিতে হচ্ছে এসআইআরের শুনানিকেন্দ্রে। প্রমাণ করতে যে তাঁরা ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ নন। তাঁরা হুট বলতে ধাক্কা পাসপোর্ট নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে এসে পড়েননি। তাঁদের প্রমাণ করতে হচ্ছে, তাঁদের শিকড় এ দেশের মাটিতেই গভীর ভাবে প্রোথিত।
কারও বয়স আশি, কেউ পঁচাশি, কারও নব্বই। অশীতিপর, নবতিপর সেই মানুষেরা কেউ লাঠি ঠুকতে ঠুকতে, কেউ সন্তানের কোলে-কাঁখে চড়ে, কেউ হামাগুড়ি দিয়ে পৌঁছোচ্ছেন রাষ্ট্রের ডাকে।
রাষ্ট্র! সেই কবে বাংলাদেশের কবি লিখেছিলেন, ‘রাষ্ট্র মানেই লেফ্ট রাইট লেফ্ট’।
‘রাষ্ট্র বললেই মনে পড়ে স্বাধীনতা দিবসের
সাঁজোয়া বাহিনী,
রাষ্ট্র বললেই মনে পড়ে রেসকোর্সের কাঁটাতার,
কারফিউ, ১৪৪-ধারা,
রাষ্ট্র বললেই মনে পড়ে ধাবমান খাকি
জিপের পেছনে মন্ত্রীর কালো গাড়ি,
কাঠগড়া, গরাদের সারি সারি খোপ
কাতারে কাতারে রাজবন্দী;
রাষ্ট্র বললেই মনে হয় মিছিল থেকে না-ফেরা
কনিষ্ঠ সহোদরের মুখ
রাষ্ট্র বললেই মনে হয় তেজগাঁ
ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা,
হাসপাতালে আহত মজুরের মুখ।
রাষ্ট্র বললেই মনে হয় নিষিদ্ধ প্যামফ্লেট,
গোপন ছাপাখানা, মেডিক্যাল
কলেজের মোড়ে ‘ছত্রভঙ্গ জনতা-
দুইজন নিহত, পাঁচজন আহত’- রাষ্ট্র বললেই
সারি সারি ক্যামেরাম্যান, দেয়ালে পোস্টার!
রাষ্ট্র বললেই ফুটবল ম্যাচের মাঠে
উঁচু ডায়াসে রাখা মধ্য দুপুরের
নিঃসঙ্গ মাইক্রোফোন
রাষ্ট্র মানেই স্ট্র্রাইক, মহিলা বন্ধুর সঙ্গে
এনগেজমেন্ট বাতিল,
রাষ্ট্র মানেই পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত
ব্যর্থ সেমিনার
রাষ্ট্র মানেই নিহত সৈনিকের স্ত্রী
রাষ্ট্র মানেই ক্রাচে ভর দিয়ে হেঁটে যাওয়া
রাষ্ট্র মানেই রাষ্ট্রসংঘের ব্যর্থতা
রাষ্ট্রসংঘের ব্যর্থতা মানেই
লেফ্ট রাইট, লেফ্ট রাইট, লেফ্ট।’
সেই ‘রাষ্ট্র’ তার নাগরিকদের ডেকেছে শুনানিতে। রাষ্ট্রের নাম নির্বাচন কমিশন। কারণ, রাষ্ট্র দেখেছে, ভোটার তালিকায় কারও নামের বানান ভুল। কারও পদবির বানানে সামান্য ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’। যে অসঙ্গতির কারণ রাষ্ট্রযন্ত্রের কোনও কর্মচারীর ভ্রান্তি। যে ভুল তাঁরা করেছিলেন সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র এবং ভোটার তালিকা তৈরি করতে গিয়ে। এখন সেই ভুলের দাদন দিতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষকে।
কাউকে চাকরিতে ছুটি নিয়ে মুম্বই বা বেঙ্গালুরু থেকে চলে আসতে হচ্ছে। কাউকে কলকাতার কর্মস্থল ছেড়ে ছুটি নিয়ে যেতে হচ্ছে গ্রামের বাড়িতে। অসুস্থ অধ্যাপককে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে হচ্ছে শুনানিতে। প্রাক্তন সহকর্মীর পঁচাত্তর বছরের সদ্যবিধবা মা’কে নিয়ে যেতে হয়েছে শুনানিকেন্দ্রে। মিনিট পঁয়তাল্লিশ পর যখন শুনানি-সহ রাষ্ট্রের সব কাজকর্ম শেষ হয়েছে, তখন বৃদ্ধা আকুল এবং উতলা। কারণ, তাঁকে কোনও রসিদ দেওয়া হয়নি! রাষ্ট্রের অধীন নির্বাচন কমিশনের এই অজ্ঞাতকুলশীল, মানবিকতা-রহিত এবং তথাকথিত পেশাদারদের কে বোঝাবে যে, বুড়ো বুড়ো মানুষেরা কতখানি উতলা হয়ে পড়েন একটি রসিদের অপ্রাপ্তিতে। তাঁরা এটিএম কাউন্টার বোঝেন না। তাঁরা স্মার্টফোন ব্যবহার করতে শেখেননি। তাঁরা সব কাগজ-কলম-দলিল-দস্তাবেজের মানুষ। ওই একটি রসিদে কয়েদ থাকে তাঁদের নশ্বর অস্তিত্ব। বয়সের ভারে তাঁরা তাঁদের ক্ষীণকায় অস্তিত্বটুকু নিয়ে এই দুর্দমনীয় গতিতে ছুটতে-থাকা সমাজের এক কোনায় কোনওমতে সরু হয়ে বেঁচে থাকেন। বেঁচে থাকেন এবং প্রায় নিঃসাড়ে যাওয়ার দিন গোনেন। রাষ্ট্র তাঁদের সেই যাপন নিয়েও প্রশ্ন তোলে। রাষ্ট্রের কাছে ‘জো হুজুর’ বলে হাজিরা দিয়ে তাঁদের প্রমাণ দিতে হয় যে, তাঁরা এই দেশের নাগরিক। যে দেশে তাঁরা জন্ম নিলেন, ছোটবেলা থেকে এই এত বুড়ো হলেন, যে দেশে তাঁরা চাকরি-বাকরি করে, জীবনের বিচিত্র সব ঢেউয়ে হাবুডুবু খেতে খেতে সংসার সামলে গেলেন, এখন জীবনের উপান্তে পৌঁছে তাঁদের সেই দেশের নাগরিকত্ব প্রমাণ করার জন্য মরতে মরতেও যেতে হয়।
আসানসোল থেকে পুরুলিয়া, উদ্বিগ্ন-বিপন্ন মুখের সারি। ছবি: রয়টার্স এবং এএফপি।
রাষ্ট্রের অবশ্য সে সব খতেন রাখতে বয়েই গিয়েছে! কারণ, রাষ্ট্র মানেই তো ‘লেফ্ট রাইট লেফ্ট’।
দেখতে দেখতে নিজের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। মা চলে গিয়েছেন গত মার্চ মাসের শুরুতে। ফলে এই বছরে আর সেই সময়টা পোহাতে হয়নি। কিন্তু ২০২৪ সাল পর্যন্ত যে অভিজ্ঞতা বছর বছর হয়েছে, তার তুলনা হয় না। মা শিক্ষকতা করতেন অশোকনগরের একটি স্কুলে। জোর করে নেওয়ানো স্বেচ্ছা অবসরের পর থেকে তিনি পেনশনভোগী। কিন্তু সরকারের সেই পেনশন পেতে গেলে তাঁকে নিজের বেঁচে থাকার লিখিত প্রমাণ দাখিল করতে হত ব্যাঙ্কে। পোশাকি ভাষায় ‘লাইফ সার্টিফিকেট’। হাঁটুর ব্যথায় কাতর হওয়ার আগে পর্যন্ত মা নিজেই যেতেন টুকটুক করে ব্যাঙ্কে সেই শংসাপত্রের ফর্ম ফিল আপ করে নিয়ে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রমাণ দিয়ে আসতে হত, তিনি জীবিত। রাষ্ট্র যেন তাঁর পেনশনটা বন্ধ না করে।
জীবনের শেষ কয়েকটা বছর মা সম্পূর্ণ চলচ্ছক্তিহীন ছিলেন। হয় বিছানা, নয় হুইলচেয়ারে বন্দি। ফলে ব্যাঙ্কে যাওয়ার দায় বর্তেছিল আমার উপর। অক্টোবরের শেষ থেকেই মা তাড়া দিতেন। বিরক্তি দেখাতাম। আসলে এড়িয়ে যেতে চাইতাম। যত দেরি করে যাওয়া যায়। যেতে খারাপ লাগত। বছরের পর বছর ব্যাঙ্কে গিয়ে দেখতাম, লাঠি ঠুকতে ঠুকতে প্রৌঢ়-প্রৌঢ়া, বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা আসছেন তাঁরা যে জীবিত, তার প্রমাণ দিতে। কারও কারও হাত কাঁপে, ফলে সই মেলে না। অর্জিত পেনশনের জন্য ব্যাঙ্কের আধিকারিকের খ্যাঁকানি খান অসহায়ের মতো। লাইন দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে কাউকে কাউকে মাথা ঘুরে পড়েও যেতে দেখেছি। মনখারাপ হয়ে যেত। রাগও হত। কারণ, প্রতি বার নিয়ম বদলে যেত! এবং সেটা আগে থেকে জানানো হত না। শুধুমাত্র ওই কাজটার জন্য অফিসে ছুটি নিতে হত। এমনিতে আধঘণ্টায় হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু যদি ব্যাঙ্ক আবার কোনও অশ্রুতপূর্ব ফ্যাঁকড়া তোলে। যদি আবার ফর্ম নিয়ে কোথাও দৌড়োতে হয়।
তবে ক্বচিৎ কদাচিৎ সহৃদয় অফিসারও মিলে যেতেন। তাঁদের সহমর্মিতা দেখে ভাল লাগত। কিন্তু তাঁরা ব্যতিক্রমই ছিলেন। মা চলে গিয়েছেন। কিন্তু সেই ব্যতিক্রমীদের সঙ্গে এখনও কুশল সম্পর্ক রয়ে গিয়েছে।
সাধারণ ভাবে ব্যাঙ্ক থেকে জীবিত থাকার শংসাপত্রের ফর্ম নিয়ে পেনশনভোগীকে দিয়ে ফিল আপ এবং সই করিয়ে কোনও একজন চিকিৎসককে দিয়ে তাঁর ‘সিল’, রেডিস্ট্রেশন নম্বর-সহ সই করিয়ে জমা দেওয়ার রীতি ছিল। কোনও একটা বছরে গিয়ে শুনলাম, সরকারি চিকিৎসকের সই লাগবে। অথবা কোনও ম্যাজিস্ট্রেট। কিংবা কোনও পুলিশ অফিসারের। কী গেরো! কোথায় পাব সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক? কোথায় পাব ম্যাজিস্ট্রেট? শেষপর্যন্ত খানিক চেনাশোনা ধরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এক পুলিশ আধিকারিকের থেকে গিয়ে ফর্মে সই নিলাম। পরের বছর আবার তাঁর সই নিয়ে ফর্ম জমা দিতে গিয়ে শুনি, পুলিশ-টুলিশ হবে না। ডাক্তার চাই। ততদিনে খানিকটা দড় হয়ে গিয়েছি। ফলে প্রশ্ন করলাম, সরকারি ডাক্তার না বেসরকারি হলেও চলবে? ভাবলেশহীন মুখে ব্যাঙ্কের আধিকারিক বললেন, ‘‘যিনি আপনার মা’কে নিয়মিত চিকিৎসা করেন। সরকারি হোক বা প্রাইভেট।’’
এই মেরেছে! বড় ধরনের কোনও অসুস্থতা না হলে সেই চিকিৎসক তো আসেন মাসে একবার। ঘটনাচক্রে, ঠিক সেই সময়েই তিনি ছুটি নিয়ে এক সপ্তাহের জন্য দেশের বাইরে বেড়াতে গিয়েছেন। তাঁকে তখন কোথায় পাব!
মায়ের বিনা অনুমতিতেই অনৃতভাষণের পথে যেতে হল। অন্য এক চিকিৎসককে তুতিয়ে-পাতিয়ে তাঁকে দিয়ে ফর্মে সই করিয়ে গরুচোরের মতো মুখ করে ব্যাঙ্কে গিয়ে জমা দিলাম। খানিকটা ভয় যে করছিল না, তা নয়। ওই বিনাটিকিটে ট্রেন উঠলে যেমন মনে হয়, নির্ঘাত ধরা পড়ব (কী ভাবে যেন টিকিট পরীক্ষকেরা ঠিকঠাক ধরেও ফেলেন)। যদি ব্যাঙ্ক থেকে চিকিৎসককে ফোন করে। রাষ্ট্র তো। অতএব সর্বশক্তিমান। ধরা পড়লে কেলেঙ্কারি।
প্রতিবার লাইফ সার্টিফিকেট হাতে পাওয়ার পর মাকে ফোন করতাম। মাত্র দুটো শব্দ— ‘হয়ে গিয়েছে’। স্বস্তিটা ফোনেও দেখা যেত। বুঝতাম, ওই আশ্বস্তিটা আসলে হাঁটার ক্ষমতা হারিয়ে-ফেলা এক বৃদ্ধার অর্থনৈতিক ভাবে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার অভিজ্ঞান। যে সঞ্চয় থেকে প্রতিবছরের জন্মদিনে নীল খামে ভরা দুটো পাঁচশো টাকার নোট আসত। সঙ্গে মুক্তোর মতো হস্তাক্ষরে আশীর্বাণী।
বারবার মনে হত, এই বুড়ো বুড়ো মানুষগুলোর জন্য নিয়মটা একটু সরলীকৃত করা যায় না? যাঁরা নিঃসন্তান তাঁরা কী করবেন? এখনও ঠিক তেমনই মনে হচ্ছে। এই অশক্ত, বয়সের ভারে জীর্ণ ঝরাপাতার মতো মানুষগুলোর জন্য কেউ ভাবছে না? রাষ্ট্র তো তার নাগরিকদের কল্যাণ করবে। রাষ্ট্রের তো রসদের অভাব নেই। এঁদের বাড়ি গিয়ে সত্যি সত্যিই নাম-ঠিকানা যাচাই করে নেওয়া যেত না? সত্যি সত্যি, কারণ, খাতায়কলমে নির্দেশ একটা আছে বটে। কিন্তু তেমন করা হচ্ছে বলে কোনও উদাহরণ তো আশেপাশে শুনতে পাই না। জীবনের উপান্তে এসে এই হয়রানি কি সত্যিই এঁদের প্রাপ্য ছিল?
অনেক বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই বলছেন, এত রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া তো কোথাও এত গোলমাল নেই! ঠিকই। পশ্চিমবঙ্গ-সহ মোট ১২টি রাজ্যে এই দ্বিতীয় পর্বে এসআইআর হচ্ছে। প্রথম পর্বে হয়েছিল শুধু বিহারে। এই বাবুমশাইদের বলা যেত, দ্বিতীয় পর্বের ১২টি রাজ্যের মধ্যে ৯টি রাজ্যই বিজেপি-শাসিত। ফলে সেখানে ঝুটঝামেলা হওয়ার প্রশ্ন নেই (যদিও উত্তরপ্রদেশে প্রায় তিন কোটি নাম বাদ যাওয়া নিয়ে প্রকাশ্যেই উষ্মা ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ)। তিনটি অ-বিজেপি। তামিলনাড়ু, কেরল এবং পশ্চিমবঙ্গ। তামিলনাড়ুতে বিজেপির আশা বিজেপি-ও তত দেখে না। কেরলে পদ্মফুল ইতিউতি ফুটতে শুরু করেছে বটে। কিন্তু খুবই ইতিউতি। তার উপর ভর করে কামড় দেওয়া যায় না। পশ্চিমবঙ্গে যায়। যে চেষ্টা ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সাফল্যের উপর নির্ভর করে সেই ২০২১ সাল থেকে বিজেপি করে আসছে। শাসক তৃণমূল এখনও পর্যন্ত তাদের সে চেষ্টা ফলবতী হতে দেয়নি। মোদী-শাহের অশ্বমেধের ঘোড়া রুখে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২৬ সালে আবার সেই চেষ্টা শুরু হয়েছে। হোক। তৃণমূল সর্বশক্তি দিয়ে তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। করুক। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে হুড়মুড়িয়ে এসআইআর চালু করেছে ‘বাংলাদেশি ভোটার’ (আসলে তৃণমূলের ‘পুঁজি’ মুসলিম ভোটার) বাদ দেবে বলে। করুক! তৃণমূল তাদের অক্ষশক্তি নিয়ে ময়দানে নেমেছে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাধা দেবে বলে। নামুক!
কোনওপক্ষেরই কোনও অন্যায় নেই। গণতন্ত্রে সমস্ত রাজনৈতিক দল ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করবে। উচ্চাকাঙ্ক্ষী হবে। ভাববে ‘মারি অরি পারি যে কৌশলে’। তাতে পাপ বা অপরাধ নেই। কিন্তু রাষ্ট্র? রাষ্ট্র তো রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকবে। মানুষের কল্যাণ করবে। নাগরিকদের ভাল করবে। রাষ্ট্র কি তাঁদের হয়রানি করবে? করা উচিত?
লিখতে লিখতেই মনে হল, কী সব ছাইপাঁশ ভাবছি। ‘রাষ্ট্র বললেই মনে পড়ে ধাবমান খাকি জিপের পেছনে মন্ত্রীর কালো গাড়ি, কাঠগড়া, গরাদের সারি সারি খোপ।’
রাষ্ট্র মানে তো লেফ্ট রাইট লেফ্ট!
(ঋণ: কবি শহীদ কাদরী)