সম্পাদক সমীপেষু

বেশ কয়েক দিন ধরে এ রাজ্যে কর্পোরেট তথা অসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমকে নিয়ে একটা ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে চলছে। এর শুরু সিএমআরআই-তে এক রোগিণীর মৃত্যুর পরবর্তী ভাঙচুর দিয়ে।

Advertisement
শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০১৭ ০০:০০
Share:

ডাক্তার নয় বিশ্বায়নই ভিলেন

Advertisement

বেশ কয়েক দিন ধরে এ রাজ্যে কর্পোরেট তথা অসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমকে নিয়ে একটা ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে চলছে। এর শুরু সিএমআরআই-তে এক রোগিণীর মৃত্যুর পরবর্তী ভাঙচুর দিয়ে। কলকাতা ময়দানে শেষ যে বার বইমেলা হল, এক দিন দেখি এক প্রৌঢ় ঢোলা পাজামা আর নস্যি রঙের পাঞ্জাবি পরে কাঁধে ঝোলা ব্যাগ নিয়ে মেলার মাঠে ঘুরছেন। ভূমেন্দ্র গুহ। আরে ইনিই তো ডা. বি এন গুহরায়, মেডিকেল কলেজে ১৯৮৫’তে আমার বাবার পেসমেকার বসিয়েছিলেন। লেডি হার্ডিঞ্জ ব্লক তখন ওঁর ভয়ে তটস্থ থাকত। প্যান্ট শার্ট পরা বাঙালি সাহেব যেন। সেই মানুষ বইমেলায় এই বেশে! তা হলে কি ডাক্তারি ছেড়ে দিলেন! কৌতূহল হল। মেলার মাঠে প্রায় আধ ঘণ্টা ওঁর সঙ্গে এ কথা সে কথার ফাঁকে ডাক্তারি ছেড়ে দিয়েছেন কি না জিজ্ঞাসা না করে থাকতে পারলাম না। যা জবাব পেলাম তাতে বোঝা গেল সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর একরাশ বিরক্তি, হতাশা থেকে উনি চিকিৎসা করা প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন। দরগা রোডে ওঁর বাড়িতে নামমাত্র রোগী দেখেন।

ওঁর মুখেই শোনা, এক সময় মহারাষ্ট্র ও পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার গুণমানে কত ভাল ছিল। যা ধ্বংসের শুরু সেই ১৯৮৪-তে। বামফ্রন্টের বড় শরিকের বড় নেতা তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বামপন্থী কর্মচারী ইউনিয়নের ভয়ে বাঘে গরুতে একঘাটে জল খায়। সঙ্গে প্র্যাকটিসিং নন-প্র্যাকটিসিং নিয়ে তুমুল গণ্ডগোল। এক ঝাঁক অধ্যাপক চিকিৎসকের সরকারি চাকরিতে ইস্তফা দেওয়া ইত্যাদি। ওই সময় শুরু হয় অল বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফেডারেশন পরিচালিত ছাত্র আন্দোলন। যার মূল এজেন্ডাই ছিল সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতিসাধন করা, পড়ুয়া ডাক্তারদের নিজেদের দাবির সঙ্গে রোগীকল্যাণের ব্যাপারটা জুড়ে দিয়ে এক অভিনব আন্দোলন চালান ওই মেডিক্যাল পড়ুয়াদের সংগঠন। সেই আন্দোলন ভাঙতে ঝান্ডা থেকে ডান্ডা খুলে পথে নেমে পড়ে সরকারি বামেদের ছাত্র ইউনিয়ন। মেরেও আন্দোলন থামানো যায়নি। মাঝখান থেকে রাজ্যে উচ্চমানের সরকারি চিকিৎসাব্যবস্থা ও পঠনপাঠন শিকেয় উঠল।

Advertisement

প্রায় ওই সময় থেকেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বেশ শাঁসালো ব্যবসার জায়গা হয়ে উঠল। আজ ঢাকুরিয়াতে নামী যে অসরকারি হাসপাতাল, সেটি ছিল সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র। নামমাত্র মূল্যে সেটি বর্তমান মালিকদের হাতে তুলে দিয়ে তৎকালীন সরকার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল। তাই আজকের ডামাডোলের শেকড় কিন্তু ওই সময় থেকেই গেড়ে বসেছে। আর ১৯৯০-র বিশ্বায়ন তো ‘সবার ওপর লাভ সত্য তাহার উপর নাই’ দর্শনটা আমাদের শিরায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। কেবল অসরকারি হাসপাতালকে বা তাদের সঙ্গে যুক্ত ডাক্তারবাবুদেরকে ভিলেন বানালে চলবে না। যে যার এলাকায় ওষুধের দোকান, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবে খোঁজ নিয়ে দেখুন— পাড়ার ডাক্তারবাবুর সঙ্গে ‘বন্দোবস্ত’ আছে। মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভরা ডাক্তারবাবুদের নানান কিছু দিয়ে হাত করেন, এ তো সবারই জানা। ব্যতিক্রম যে নেই, তা বলছি না। তবে সংখ্যায় কম।

আর একটি গল্প। পরিচিত এক ডাক্তার সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ছোটখাটো এক ওষুধের দোকানে সপ্তায় তিন দিন রোগী দেখছিলেন। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার— রোগীদের সামান্য কমদামি ওষুধ, কাউকে আবার শুধু জল খেয়ে বিশ্রাম নিতে বলছিলেন। রোগীও মন্দ হচ্ছিল না। হঠাৎ এক দিন ওষুধের দোকানের মালিক মাথা চুলকে ডাক্তারবাবুকে বললেন, ‘ডাক্তারবাবু এত কম ওষুধ লিখলে আমার চলে কী করে’। পর দিন থেকে ডাক্তারবাবু আর ওমুখো হননি।

Advertisement

বরুণ ভট্টাচার্য কলকাতা-৩৯

চরমপন্থা কেন এত সফল

‘আবার বিদ্বেষ আহ্বান’ (সম্পাদকীয়, ৮-৩) পড়ে হানা আরেন্ট-এর সেই অনবদ্য বিশ্লেষণের কথা মনে পড়ে গেল— ফ্যাসিজমের লক্ষ সর্বশক্তিমান নেতা বা নেত্রীর মুখে আক্ষরিক বুলি না, তার ইচ্ছাকে সর্বজনীন করা। পণ্ডিতেরা হিসাব করে দেখেছেন যে মারিন ল্য প্যাঁ তাঁর ভক্তকুলকে নিয়মিত মিথ্যা কথা বলেন। এর মধ্যে অনেকগুলিই দিনকে রাত করে দিতে পারে। ল্য প্যাঁ-র ভক্তদের এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁদের সাফ জবাব: ল্য প্যাঁ-র এই সব ছোটখাটো ভুলভ্রান্তি নয়, তাঁর সামগ্রিক দর্শনটাই আসল কথা।

আসল কথা, কর্পোরেট-বন্ধু অর্থনীতিজনিত আর্তনাদ আর বর্ণ ও জাতি সম্পর্কের ক্ষেত্রে হাসি-হাসি ভাব-ভালবাসা, এই দুটি বল একসঙ্গে নিয়ে প্রগতিশীল মাদারি-কা-খেল আর বিপুলসংখ্যক মানুষ দেখতে চাইছেন না। অর্থনৈতিক সংঘাতের রক্তের ছিটে লাগছে সব রকম সম্পর্কের উপর। হ্যাঁ, এই মানুষেরা শ্বেতাঙ্গ, হ্যাঁ এই মানুষেরা প্রধানত গ্রাম্য বা ছোট শহরের কিছুটা গোঁড়া খ্রিস্টান, হ্যাঁ এই মানুষদের একটা বিরাট অংশ ঝাঁ-চকচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল বোলচালে অভ্যস্ত নন। হ্যাঁ ক্লাইমেট চেঞ্জ তাঁরা বোঝেন না। কিন্তু তাঁরাও দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া আম-আদমিই। তাঁরা যদি দশকের পর দশক দেখেন আইনি, বেআইনি, আধা আইনি ভাবে তাঁদের দেশে ঢুকে পড়া কোটি কোটি ‘ইমিগ্র্যান্ট’দের সৌজন্যে বড় বড় কোম্পানি থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত বাড়িতে পর্যন্ত সেই সস্তা শ্রমের রমরমা, তা হলে তাঁদের পক্ষে শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে গিয়ে সংগঠিত পাল্টা মার দেওয়া কি খুব অস্বাভাবিক?

নিজের প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে এই সব সাধারণ মানুষ এখন চরম দক্ষিণপন্থাকে মেনে নিচ্ছেন, বিশ্বায়ন ভুলে নির্দ্বিধায় আলিঙ্গন করছেন অন্তর্মুখী জাতিরাষ্ট্রবাদী বিশ্বায়ন বিরোধিতা এবং জাতীয়তাবাদ। বিশ্ব জুড়ে এখন চরমপন্থার লড়াই। সেই যুদ্ধে নিজের দলে থাকলে জাতীয়তাবাদী আর অন্য দিকে গেলেই দেশদ্রোহী, সন্ত্রাসবাদী। মাঝামাঝি থাকার পরিসর আর নেই বললেই চলে। সাধারণ নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে বামপন্থার বা লিবারাল রাজনীতির আলো আর আলোড়ন তোলে না। ‘পোস্ট ট্রুথ’ যুগে চিন্তা নয়, সাহসই বেশি জনপ্রিয়। নিম্নবিত্ত মানুষ একটু ভালর আশায় সঙ্গ দেন সাহসী নেতা, নেত্রীকে। আমরা কেউ না চাইলেও তাই আজ বিশ্ব জুড়ে চরমপন্থা ও দক্ষিণপন্থার এক নতুন জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব। যে বিশ্বের সঙ্গে আমরা পরিচিত ছিলাম, সেটি ক্রমে অবলুপ্তির পথে।

শোভনলাল চক্রবর্তী কলকাতা-৯৪

দধি-কর্মা নয়, দধি-কর্ম

কিছু দিন আগে সরস্বতী পুজো সংক্রান্ত সংবাদে লেখা হয়েছিল, ‘...রবিবার বাড়িতে দধি-কর্মা বিতরণের অনুষ্ঠানে...।’ ‘দধি-কর্মা’ শব্দটি কিন্তু বাংলা অভিধানে নেই। প্রকৃত শব্দটি হল ‘দধি-কর্ম’। যার অর্থ দই-কড়মা, দই-ছাতু ইত্যাদি দিয়ে মাঙ্গলিক কাজের জন্য প্রস্তুত ভোগবিশেষ। যদি কড়মা অর্থেও শব্দটি হয়, তবে সেটি হতে হবে ‘দধি-কড়মা’। কিন্তু সেটি অপ্রচলিত। প্রসঙ্গত, অনেকেই লিখতে বা বলতে ‘দশকর্মা’ কথাটি ব্যবহার করেন। যদিও শুদ্ধ শব্দটি হল ‘দশকর্ম’। বঙ্গদেশের যন্ত্র ও কারিগরি অধ্যায়ের দেবতার নাম কিন্তু ‘বিশ্বকর্মা’। আরও একটি সংযোজন: পূজা-পার্বণে যেখানে শুদ্ধ শব্দটি হল ‘উপচার’, অনেক সময় সেখানে ‘উপাচার’— এই ভুল শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়।

গড্ডর বা ভেড়ার পালের অন্ধের মতো অনুসরণ গড্ডালিকা প্রবাহ নয়, শুদ্ধ বাংলায় ‘গড্ডলিকা প্রবাহ’।

প্রদীপরঞ্জন দাস কলকাতা-১৫৭

ভ্রম সংশোধন

রবিবারের কাগজে ছয়ের পাতায় ‘বড় জয় বড় হার’ শীর্ষক গ্রাফিক্সে নভজ্যোত সিংহ সিধুকে বিজেপি প্রার্থী লেখা হয়েছে। আসলে তিনি কংগ্রেস প্রার্থী। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement