গত কয়েক দশকে পশ্চিমবঙ্গ তথা সমগ্র দেশে পরিকাঠামো উন্নয়নের যে জোয়ার এসেছে, তার উল্টো পিঠে পরিবেশগত বিপর্যয়ের এক করুণ চিত্র ফুটে উঠছে। বিশেষ করে পাতালরেল প্রকল্প, জাতীয় সড়ক প্রশস্তকরণ এবং গঙ্গার উপর নতুন নতুন সেতু নির্মাণের জন্য যে বিপুল সংখ্যক প্রাচীন বৃক্ষছেদন করা হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ আজ অবধি সম্ভব হয়নি।
বন দফতরের বিভিন্ন রিপোর্ট এবং পরিবেশবিদদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ কাটার বিপরীতে অন্তত পাঁচটি চারা রোপণের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও, তার ‘সারভাইভাল রেট’ বা বেঁচে থাকার হার অত্যন্ত হতাশাজনক। পরিসংখ্যান বলছে, রোপণ করা চারার প্রায় ৬০-৭০ শতাংশই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এক বছরের মধ্যে মারা যায়। অথচ, একটি পূর্ণবয়স্ক বট বা অশ্বত্থ গাছ বছরে যে পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে এবং বায়ুমণ্ডল শীতল রাখে, তার অভাব পূরণে শত শত চারাগাছের প্রয়োজন হয়।
ফলে, বর্তমানে আমরা একাধিক সঙ্কটের সম্মুখীন। যেমন, হিট আইল্যান্ড এফেক্ট। বনভূমি নিধনের ফলে কলকাতা ও সংলগ্ন শহরতলির তাপমাত্রা পার্শ্ববর্তী গ্রামাঞ্চলের তুলনায় ৪-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকছে। কংক্রিটের জঙ্গল তাপ ধরে রাখছে, আর তা প্রশমিত করার মতো পর্যাপ্ত ‘গ্রিন কভার’ বা সবুজ আচ্ছাদন নেই। দুই, ভূগর্ভস্থ জলস্তর কমছে। বড় বড় গাছ কাটা পড়ায় বৃষ্টির জল মাটির গভীরে যাওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। জেলায় জেলায় জলসঙ্কট বাড়ছে। তিন, উষ্ণায়ন। গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে এপ্রিল-মে মাসের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেশি রেকর্ড করা হচ্ছে, যা সরাসরি বৃক্ষহীনতার ফলাফল।
ফলে উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন আর বিলাসিতা নয়, টিকে থাকার লড়াই। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, প্রতিটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাজেটে ‘বৃক্ষ প্রতিস্থাপন’ প্রযুক্তিকে বাধ্যতামূলক করা হোক, যাতে শতবর্ষী গাছগুলিকে কাটার পরিবর্তে অন্যত্র সরিয়ে বাঁচিয়ে রাখা যায়। এ ছাড়া, সড়ক বা রেল প্রকল্পের সমান্তরালে কেবলমাত্র শোভাবর্ধক গাছ না লাগিয়ে স্থানীয় প্রজাতির ছায়াপ্রদানকারী ও ফলদায়ী বৃক্ষ রোপণে জোর দেওয়া উচিত। আমরা যদি এখন থেকেই সচেতন না হই, তবে আগামী দু’-তিন দশকে হয়তো পশ্চিমবঙ্গ এক তপ্ত মরুভূমিতে পরিণত হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে উন্নয়নের দোহাই দিয়ে এই ‘সবুজ ধ্বংস’-এর দায় আমরা এড়াতে পারব না।
দেবাশিস চক্রবর্তী, শ্রীরামপুর, হুগলি
নবীন শক্তি
বর্তমান সময়ে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। পরিবেশ দূষণ, বেকারত্ব, মাদকাসক্তি, সাইবার প্রতারণা, নারীনির্যাতন, পথ-দুর্ঘটনা, মানসিক অবসাদ, খাদ্যে ভেজাল, প্লাস্টিক দূষণ, ই-বর্জ্যের ঝুঁকি— এই সমস্যাগুলির প্রভাব সরাসরি সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর পড়ছে। শুধুমাত্র সরকার বা প্রশাসনের পক্ষে একা সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় আশার জায়গা হয়ে উঠতে পারে যুব সমাজ। ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ যুবশক্তির দেশ। বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬৫% ৩৫ বছরের নীচে। পশ্চিমবঙ্গেও লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সামাজিক উদ্যোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, বহু যুবক-যুবতী বৃক্ষরোপণ, রক্তদান, স্বাস্থ্য সচেতনতা, শিক্ষা সহায়তা, প্লাস্টিক বিরোধী প্রচার, ই-বর্জ্য সংগ্রহ, পথ নিরাপত্তা সচেতনতা, নদী বা পুকুর পরিষ্কার, খাদ্য অপচয় রোধ ইত্যাদি কাজে সক্রিয় ভাবে যোগ দিচ্ছে। এনএসএস, এনসিসি, যুব সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান সমাজের বিভিন্ন স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তবে বাস্তব ছবির একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। বর্তমানে সমাজসেবার ক্ষেত্রেও প্রচারের প্রতিযোগিতা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত কাজের চেয়ে ছবি তোলা, ব্যানার, সমাজমাধ্যমে পোস্ট বা ব্যক্তিগত পরিচিতি বাড়ানোর প্রবণতা বেশি দেখা যায়। কিছু মানুষ সমাজসেবাকে জনপ্রিয়তা অর্জন বা রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরির মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করছে। ফলে প্রকৃত সামাজিক কাজের গুরুত্ব অনেক সময় আড়ালে চলে যায়।
আরও একটি বড় সমস্যা হল ধারাবাহিকতার অভাব। অনেক সময় আবেগের বশে বড় উদ্যোগ শুরু হলেও কিছু দিন পর তা বন্ধ হয়ে যায়। বাস্তব পরিকল্পনা, তথ্যভিত্তিক কাজ, প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য না থাকলে কোনও সামাজিক উদ্যোগ স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে না। যেমন, শুধু এক দিন পরিষ্কার অভিযান করলেই পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়, যদি মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন না হয়।
শুধু আবেগ দিয়ে নয়, বাস্তব ও ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব। তাই যুব সমাজের কাজ হওয়া উচিত সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়া। আজকের যুব সমাজ যদি সঠিক দিশা, সততা এবং দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে আসে, তা হলে সমাজে বাস্তব পরিবর্তন সম্ভব। কারণ যুব সমাজ শুধু ভবিষ্যতের নাগরিক নয়, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে কার্যকর পরিবর্তনকারী শক্তি। সমাজসেবা কখনও শুধুমাত্র প্রচার বা ব্যক্তিগত পরিচিতির বিষয় হওয়া উচিত নয়। এটি হওয়া উচিত দায়িত্ব, মানবিকতা এবং বাস্তব পরিবর্তনের আন্দোলন। একটি সচেতন, সুস্থ, বৈজ্ঞানিক ও মানবিক সমাজ গঠনে যুব সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ আজ প্রয়োজন ।
সুরজ ঘোষ, মেমারি-১, পূর্ব বর্ধমান
প্রত্যাশা
আমি এক জন অবসরপ্রাপ্ত আধাসরকারি কর্মচারী। সেই ছোট বয়স থেকে অনেক আন্দোলন দেখেছি। যখন থেকে ভোটাধিকার প্রাপ্ত হয়েছে, তখন থেকে প্রতি বার নিজের মতে সিলমোহর দিয়েছি। আশা করেছি আমার দেশের, আমার রাজ্যের মানুষ ভাল থাকবে। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষে সমাজের সকলকে খুশি করা হয়তো সম্ভব নয়, তবু বিভিন্ন সরকারের আমলে কিছু না কিছু ভাল প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তবে সব সরকারেই বেশ কিছু স্তাবকের দল ছিল, যাদের অসৎ আচরণই শেষ পর্যন্ত সেই সরকারের পতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নতুন সরকারের কাছে আমার প্রত্যাশা তিনটি। প্রথমত, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও পরিষেবা। দ্বিতীয়ত, মহিলাদের নিরাপত্তা। তৃতীয়ত, রাজ্যের মধ্যে অনেক কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে থাকা শূন্যপদগুলিতে নিয়োগ। যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ করলে উচ্চশিক্ষিত ছেলেমেয়েদের রাজ্য ছেড়ে বাইরে যেতে হবে না। নতুন সরকারের কাছে একান্ত আবেদন, আমাদের মতো এ রাজ্যের নাগরিকরা, যাঁরা সন্তানদের কষ্ট করে মানুষ করেছি, তাদের যেন এই বৃদ্ধ বয়সে কাছে পেতে পারি।
পৃথা রায়চৌধুরী, কলকাতা-২৮
ভুল তথ্য
প্রতি দিন এই সংবাদপত্রে অতীত দিনের একটি করে ছবি প্রকাশিত হয়ে থাকে। গত ৫ মে প্রকাশিত ছবি সংক্রান্ত ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে ‘সল্টলেক স্টেডিয়ামে জওহরলাল নেহরু গোল্ড কাপে ইরাক এবং কাতারের খেলোয়াড়দের মধ্যে গোলমাল’। এই পরিপ্রেক্ষিতে বলি ইরাক ও কাতারের মধ্যে ফুটবল খেলাটি হয়েছিল বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রাথমিক রাউন্ডের। আর সে বছর জওহরলাল নেহরু কাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল কেরলের কোচিতে। সে বার ইরাক ও কাতার নেহরু কাপে অংশগ্রহণ করেনি। খেলাটি সল্টলেক স্টেডিয়ামে হয়েছিল তৎকালীন এআইএফএফ সচিব অশোক ঘোষের বিশেষ উদ্যোগে। আমি নিজে খেলাটি দেখতে গিয়েছিলাম। তবে খেলার ফলাফলের কথা মনে নেই।
বাবলু নন্দী, কলকাতা-৭৯
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে