Poor Condition Of Road

সম্পাদক সমীপেষু: দুর্ভোগের পথ চলা

শহরের বিভিন্ন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে সেগুলিকে দীর্ঘ দিন ধরে ও ভাবেই ফেলে রাখা এখন একটা ব্যাধিতে পরিণত। এতে শুধু যানচলাচলই নয়, সাধারণ মানুষেরও যাতায়াতে সমস্যা হয়। এখন রোড ট্যাক্স কোনও ভাবেই ফাঁকি দেওয়া যায় না। কারণ রোড ট্যাক্স না দিলে দূষণ সংক্রান্ত ছাড়পত্র মেলে না।

শেষ আপডেট: ০৪ মে ২০২৬ ০৪:৫৯
Share:

‘উন্নয়নের অগ্নিমূল্য’ (৯-৪) শীর্ষক সম্পাদকীয়তে কলকাতা শহরের রাস্তা ও ফুটপাতগুলির বেহাল অবস্থা যথার্থ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একটা শহর প্রধানত সৌন্দর্যময় হয়ে ওঠে সেই শহরের রাস্তা ও ফুটপাতের সময়মতো সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতার কারণে। কিন্তু সব সময়েই আমরা দেখি উল্টো ছবি। বর্ষাকালে শহরের রাস্তায় জল জমে যায় নিকাশি ব্যবস্থার ঠিকমতো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে। যদিও এই সমস্যা অন্যান্য রাজ্যের বড় বড় শহরেও রয়েছে। পাশাপাশি, শহরের অধিকাংশ রাস্তাই অসমান। বহু জায়গা খানাখন্দে ভরা। এই খানাখন্দগুলিই যখন দায়সারা ভাবে পিচ দিয়ে তাপ্পি মারা হয়, তখনই অসমান হয়ে যায় রাস্তাগুলি। বিশেষত বাইপাসের রাস্তা, যেগুলি এক সময় শহরের গর্ব ছিল, আজ তারও একই হাল।

সেই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে সেগুলিকে দীর্ঘ দিন ধরে ও ভাবেই ফেলে রাখা এখন একটা ব্যাধিতে পরিণত। এতে শুধু যানচলাচলই নয়, সাধারণ মানুষেরও যাতায়াতে সমস্যা হয়। এখন রোড ট্যাক্স কোনও ভাবেই ফাঁকি দেওয়া যায় না। কারণ রোড ট্যাক্স না দিলে দূষণ সংক্রান্ত ছাড়পত্র মেলে না। অথচ, সঠিক চেকিংয়ের অভাবেও বহু রোড ট্যাক্স অনাদায়ি থেকে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও এ রাজ্যে যে পরিমাণ রোড ট্যাক্স আদায় হয়, সে অর্থেও যথেষ্ট কাজ হয় না বললেই চলে।

অন্য দিকে, শহরের ফুটপাতের অবস্থাও তথৈবচ। অধিকাংশ ফুটপাতই প্রশাসনের ও স্থানীয় দাদাদের সহযোগিতায় হকারদের কবলে। ফুটপাতের উপর তাঁদের জিনিসপত্র এমন ভাবে রাখা থাকে যে, সেগুলি থেকে দূরে থাকতে অনেক সময় পাশের পথচারীর সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে চলতে হয়। অনেকে ভিড় এড়াতে তাই গাড়ির রাস্তায় নেমে পড়েন, যা কম ঝুঁকির নয়। আর পুজোপার্বণ এলে তো ফুটপাত দিয়ে চলাই সমস্যা হয়ে যায়। তা ছাড়া অধিকাংশ এলাকাতে ফুটপাতে দোকানগুলি গা ঘেঁষাঘেঁষি করে তৈরি। এখানে অনেক জায়গাতেই সঠিক অগ্নিনির্বাপণ বা নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই দাহ্য বস্তুও রাখা হয়। ফলে কোনও কারণে আগুন লাগলে দোকানগুলি তো বটেই, পথচলতি মানুষদেরও কী হাল হতে পারে, সহজে অনুমেয়।

রাস্তা ও ফুটপাতের অবস্থা ঠিকমতো আছে কি না, দেখার দায় প্রশাসনের। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে সেই দায় তাঁরা নিতে আগ্রহী নন। ফলে ভোগেন সাধারণ মানুষ। অথচ, নির্বাচন এলেই রাস্তা বা ফুটপাত সারাইয়ের ধুম পড়ে। কেন? এই বিচিত্র মনোভাবের আশু পরিবর্তন জরুরি। না হলে মানুষের ভোগান্তি বাড়বে বই কমবে না।

স্বরাজ সাহা, কলকাতা-১৫০

অতিরিক্ত নয়

আজকের সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রতিনিয়ত চোখে পড়ছে— সন্তানকে ভাল ভাবে মানুষ করার চেষ্টায় অনেক অভিভাবক অজানতেই তাকে অতিরিক্ত প্রশ্রয় দিয়ে ফেলছেন। ভালবাসা ও দায়িত্বের সীমা অতিক্রম করে যখন সব চাওয়া-পাওয়া পূরণ করা হয়, তখন তা সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য আশীর্বাদ নয়, বরং বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায় অনেক সময়। বর্তমান সময়ের অনেক অভিভাবক নিজেরা কঠোর পরিশ্রম করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হলেও সেই সংগ্রামের মূল্যবোধটি সন্তানদের শেখাতে ভুলে যাচ্ছেন। তাঁরা মনে করেন, সন্তান যেন কোনও কষ্ট না পায়। তাই ছোটখাটো চাহিদা থেকে শুরু করে অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতাও সহজেই মেনে নেওয়া হয়। কিন্তু এই অভ্যাস ধীরে ধীরে সন্তানের চরিত্র ও মানসিকতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হল— অনেক ক্ষেত্রে সন্তান ভুল করলেও অভিভাবকেরা সেই ভুলকে সমর্থন করেন। শাসন বা সংশোধনের পরিবর্তে সন্তানের পক্ষ নেওয়াকে তাঁরা ভালবাসার প্রকাশ মনে করেন। অথচ, এতে সন্তানের মধ্যে ঠিক-ভুল বিচার করার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সে অজানতেই ভুল পথের দিকে এগিয়ে যায়। অকারণে অতিরিক্ত প্রশ্রয় দেওয়া হয়তো মুহূর্তের আনন্দ দেয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা সন্তানের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। সন্তানকে অযথা সব কিছু দেওয়ার নামই ভালবাসা নয়। বরং তাকে সুশিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং আত্মনির্ভরতার শিক্ষা দেওয়া বেশি জরুরি। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিলাসিতা নয়, কেবল প্রয়োজনীয় জিনিসই দিন। কারণ এক জন সুশিক্ষিত ও মার্জিত সন্তান শুধু পরিবারের নয়, সমাজ ও দেশের জন্যও মূল্যবান সম্পদ। এক দিন অভিভাবকেরাই উপলব্ধি করবেন— এক জন ভাল মানুষ গড়ে তোলা পৃথিবীর জন্য যেমন লাভ, তেমনই নিজেরও সবচেয়ে বড় সাফল্য।

উজ্জ্বল সাঁতরা, জামালপুর, পূর্ব বর্ধমান

প্রকৃত শিক্ষা

শিক্ষা হল জাতির মেরুদণ্ড। অথচ, বর্তমানে আমাদের দেশে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা গভীর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যে শিক্ষা মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারত, তা আজ অনেকটাই সার্টিফিকেটসর্বস্ব ও যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মূলত পরীক্ষাকেন্দ্রিক। সৃজনশীলতা বা মেধা বিকাশের চেয়ে পাঠ্যবইয়ের পড়া মুখস্থ করে খাতায় উগরে দেওয়া এখানে মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুঁথিগত বিদ্যার চাপে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা আজ অবহেলিত। ফলে উচ্চশিক্ষিত হয়েও অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সহমর্মিতা দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষা আজ পণ্যে পরিণত হয়েছে। সরকারি স্কুল-কলেজের তুলনায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা কোচিং সেন্টার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষাকে ব্যয়বহুল করে তুলেছে। বিশেষত, গ্রামীণ এলাকায় স্কুলগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা এবং দক্ষ শিক্ষকের অভাব শিক্ষাব্যবস্থার দৈন্য দশাকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রকৃত জ্ঞান অর্জন ও দক্ষতা বৃদ্ধি। কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার, শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করা একান্ত জরুরি। একটি উন্নত জাতি গঠনে ত্রুটিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থার কোনও বিকল্প নেই। সরকার ও সমাজ— উভয়কেই সম্মিলিত ভাবে কাজ করতে হবে যাতে আমাদের উত্তরসূরিরা কেবল ডিগ্রিধারী নয়, বরং প্রকৃত অর্থেই শিক্ষিত ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

অনির্বাণ দাস, চন্দননগর, হুগলি

প্রবীণদের জন্য

বয়স্ক নাগরিকদের পক্ষে লোকাল ট্রেনে ভ্রমণ করা ভীষণ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে ভিড়ের কারণে। লোকাল ট্রেনের এখন তিনটি কোচ সংরক্ষিত মহিলাদের জন্য এবং অফিস টাইমে লেডিজ় স্পেশাল চালিয়ে মহিলাদের কষ্ট রেল কিছুটা হলেও লাঘব করেছে। কিন্তু সরকারের এটাও মনে রাখা উচিত, এখন আমাদের দেশের জনসংখ্যার প্রায় কমবেশি বারো শতাংশ বয়স্ক নাগরিক। তাই, প্রতিটি লোকাল ট্রেনে একটি বগি প্রবীণদের জন্য সংরক্ষণ করা হোক, যাতে ভিড়ে বা অফিস টাইমে তাঁদের অসুবিধা না হয়।

অলোক ভট্টাচাৰ্য, কলকাতা-৫৬

জল অপচয়

কিছু দিন আগে সূর্য সেন রোড দিয়ে যাওয়ার পথে দেখলাম পথের ডান দিকে একটি বহুতল নির্মিত হচ্ছে। তাতে মেশিনে সিমেন্ট বালি মাখা হচ্ছে বরাহনগর পুরসভার পাঠানো পানীয় জলের ট্যাঙ্ক থেকে। পুরসভার ট্যাঙ্কের গায়ে লেখা থাকে ‘জলের অপর নাম জীবন। জল অপচয় করবেন না’। একটি পুরসভা এক জন প্রোমোটারের ইমারত তৈরিতে সেই মহার্ঘ জল দিতে সম্মত হল কী করে?

সমীর কুমার ঘোষ, কলকাতা-৬৫

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন