‘শতায়ু বিশ্ব’ (১৮-১) সম্পাদকীয়টি প্রাসঙ্গিক। জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও মেডিক্যাল সায়েন্স-এর অকল্পনীয় উন্নতির ফলে বিশ্ব জুড়ে, বিশেষ করে উন্নত দেশগুলিতে গড় আয়ু অনেকটা বেড়ে গেছে। পৃথিবীতে বেশির ভাগ দেশের পপুলেশন পিরামিড দেখতে হয় সাধারণ পিরামিড আকৃতির মতো অর্থাৎ পিরামিডের মাথা সরু এবং নীচের অংশ চওড়া। জনসমষ্টির বিভিন্ন বিভাগের ক্রমানুপাত অনুযায়ী নীচের দিকে থাকে শিশু, তার উপর কিশোর, পরে যুবা, প্রৌঢ় ও সর্বোচ্চে প্রবীণ। কিন্তু বতর্মান বিশ্বে জাপান ও স্বল্প কয়েকটি দেশের পপুলেশন পিরামিডের আকৃতি ঠিক উল্টো। অর্থাৎ, এই সকল দেশের জনসংখ্যার পিরামিড চিত্রটির উপরের অংশটি চওড়া ও নীচের অংশটি সরু। বিশেষ করে জাপানের মতো দেশের জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঋণাত্মক, তাই এই দেশের শিশুর সংখ্যা কম। তুলনায় বয়স্কদের সংখ্যা অনেক বেশি। এর কারণ গড় আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি। এ দেশে শতায়ুর কাছাকাছি মানুষের সংখ্যা লক্ষাধিক। আমাদের দেশের শর্ত অনুযায়ী যে ব্যক্তি ষাট বছরে পৌঁছে গিয়েছেন, তিনি সিনিয়র সিটিজ়েন হিসেবে গণ্য হবেন।
সত্যি যে, জাপানে সিনিয়র সিটিজ়েন-এর সংখ্যা অধিক হওয়ার ফলে ব্যবসার বিভিন্ন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে। যেমন— অ্যাডাল্ট ডায়াপারের ব্যবহার বেড়েছে। এ ছাড়াও বৃদ্ধ ও বয়স্কদের ব্যবহারযোগ্য লাঠি, কোমরবন্ধনী, বেডপ্যান ইত্যাদি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের নির্মাতা এবং সেবাপ্রদানকারী সংস্থার সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু সমস্যা হল, এই বয়স্কদের অনেকেই একা থাকেন। একাকিত্ব বড় সমস্যা এঁদের ক্ষেত্রে। আগামী বছরগুলিতে বিশ্বের সব দেশেই এই সমস্যা ব্যাপক হারে দেখা দেবে। আমাদের দেশে এখনই তার লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করেছে। উন্নত দেশগুলিতে বয়স্কদের থাকার উপযোগী উন্নত মানের নির্ভরযোগ্য বৃদ্ধাবাস যথেষ্ট সংখ্যায় পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের দেশে এই ধরনের বৃদ্ধাবাস বিরল। প্রবীণদের একাকিত্ব দূরীকরণের সুবিধা প্রায় দুর্লভ। সরকারের এই বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা একান্ত কাম্য।
সজল কুমার মাইতিকলকাতা-৯৭
নিঃসঙ্গ
সম্পাদকীয় প্রবন্ধ ‘শতায়ুর বিশ্ব’-এ শতায়ুদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যে সব সিনিয়র সিটিজ়েন এগিয়ে চলেছেন ‘একশো মিটার দৌড়’-এর সীমানা ছু্ঁতে বা পার করতে ধীরে অথচ দৃঢ় পায়ে, তাঁদের নিয়ে ইতিবাচক অনেক দিকের দিশা দেখানো হয়েছে এই প্রবন্ধে। তবে মাথায় রাখতে হবে, অলস শরীর রোগব্যাধির আধার যাতে না হয়ে ওঠে, তার জন্য মানুষকে কর্মঠ থাকতে হবে আজীবন, পেশাগত অবসর অনিবার্য হলেও তার পরেও নানা কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগ হাতের নাগালেই থাকে, যার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখা একান্ত জরুরি। শরীর নামক সূক্ষ্ম যন্ত্রটিও সময়ের চাপে ক্ষয়ের পথে হাঁটবে। তার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যাতে সচল থাকে, কলকব্জায় যাতে মরচে ধরে না যায়, তার উপায়ও ভাবতে হবে বইকি।
রোজ দু’-তিন কিলোমিটার দূষণমুক্ত আবহাওয়ায় হেঁটে আসা রুটিনের মধ্যে রাখলে তা মনের জোর বাড়ায়, শরীরও ঝরঝরে থাকে। পাড়ার নানা সমাজকল্যাণের কাজে জড়িয়ে থাকলে নিজেকে ব্যস্ত ও প্রাণচঞ্চল বোধ হয়। সব কিছুর পরেও নতুন একটি ধারণা উঠে আসছে, তা হল ‘কমিউনিটি ওল্ড-এজ হোম’, যেখানে কেয়ারটেকার প্রবীণদের ব্যক্তিগত সংস্পর্শে থাকবেন, প্রয়োজনমতো চিকিৎসক, ওষুধ, বিনোদন সব ব্যবস্থা করে দেবেন তাঁদের জন্য। একাকিত্বে ভোগা প্রবীণরা অন্তত কথা বলার সঙ্গী বা প্রতিবেশী পাবেন। সেখানে ম্যানেজার, হাউসকিপিং, স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ প্রয়োজনীয় সব বন্দোবস্ত করে স্থায়ী কর্মচারী রেখেও শতায়ুদের পাশে দাঁড়াতে পারে সরকার বা কোনও সংস্থা।
অনিশ্চয়তা জীবনদীপ দ্রুত নিবিয়ে দেওয়ার ইন্ধন জোগায়। যাঁরা বিশ্বকে নিজেদের শৈশব, যৌবন, প্রৌঢ়ত্ব ও বার্ধক্যের অভিজ্ঞতার ঝুলি উপুড় করে সমৃদ্ধ করলেন, সেখানে দীর্ঘায়ু আশীর্বাদ না অভিশাপ, এই জিজ্ঞাসা অপ্রয়োজনীয়। প্রায় সব দেশই বৃদ্ধদের জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তুলতে নতুন নতুন নীতি প্রণয়ন করছে, সঙ্গে বিচিত্র প্রকল্পও। এইটুকু প্রচেষ্টায় যে হাসিমুখের ছবি উঠে আসবে, তা সমাজের সার্থকতার বিজ্ঞাপন হয়ে উঠবে তো বটেই।
সৌম্যেন্দ্র নাথ জানা, কলকাতা-১৫৪
আরও কিছু দিন
মানুষ মরতে চায় না। স্ত্রী-সন্তান-পরিজন নিয়ে বহু বছর বেঁচে থাকার ইচ্ছা সে লালন করে মনের মধ্যে। মানুষের শিক্ষা, বুদ্ধি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি— এ সবই আরও বেশি দিন বেঁচে থাকার ইচ্ছা পূরণ করে চলছে। ফলে, ১০০ ক্লাবের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্য দিকে, বহু দেশে শিশুজন্মের হার কমছে। অবস্থাটা সহজে বোঝানো যায় একটি শব্দ দিয়ে— মাথাভারী। ‘শতায়ুর বিশ্ব’ প্রবন্ধে প্রাসঙ্গিক অনেকগুলি দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই বেশি করে উঠে এসেছে জাপানের বৃত্তান্ত। তাদের এই মুহূর্তের চ্যালেঞ্জ হল, অবসরপ্রাপ্ত কর্মক্ষম শক্তিকে লাভজনক কাজে লাগানো। তাতে দেশ এবং তার নাগরিক, উভয়েই খুশি। কথাটা হয়তো যথাযথ জাপান, চিন, ইউরোপের বেশির ভাগ উন্নত ধনাঢ্য দেশের পক্ষে। কিন্তু বাকি উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশগুলির বেলায় এমন ভাবনা কাজে আসবে কি?
স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের উদ্বেগ ভারতকে নিয়ে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে ভারতবাসীর আয়ু বেড়েছে সন্দেহাতীত ভাবে। কিন্তু সমীক্ষা বলছে, দেশের ৪০ ভাগ উন্নতির ফল সম্পদের অসমবণ্টনের কারণে জমেছে এক ভাগ ধনী উপরতলাবাসীর ভাগ্যে। সারা দুনিয়ার স্বাভাবিক প্রবণতা অনুসারে ভারতের জনসংখ্যা এক দিন বৃদ্ধির হারে তো বটেই, সংখ্যাতেও হয়তো কমতে শুরু করবে। কিন্তু আজ? দেশের বিপুল কর্মক্ষম শ্রমশক্তি উপযুক্ত কাজ পাচ্ছে না। দেশের সম্পদ ব্যয় করে তার যা শিক্ষা, তার উপযুক্ত কাজ জুটছে না। নিজের এবং পরিবারের ব্যয় চালানোর জন্যে তাকে পরিযায়ী হতে হচ্ছে। বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন নেই, এমন স্থায়ী চাকরির জন্য আবেদন করছে স্নাতকোত্তর কি পিএইচ ডি প্রার্থী, অনেক ক্ষেত্রেই নিজের ডিগ্রির কথা গোপন রেখে। উচ্চশিক্ষিত প্রার্থী শিক্ষকতার জন্য পরীক্ষায় যোগ্য প্রমাণিত হয়ে দীর্ঘ দিন চাকরি করার পরও ভাগ্যনিয়ন্তাদের অসাধুতায় চাকরি চলে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করতে পথে অবস্থান করতে হচ্ছে, পিটিয়ে তুলে দিচ্ছে পুলিশ। নতুন করে ক’টা বৃহৎ শিল্প গড়া হচ্ছে, আর ক’জন সেখানে চাকরি পাচ্ছে, কে বলবে? ছোটখাটো ব্যবসা চলে যাচ্ছে বহুজাতিক সংস্থার গর্ভে। নতুন কর্মসংস্থান বিশেষ নেই। উচ্চমেধা চলে যাচ্ছে বিদেশের শ্রীবৃদ্ধিতে। রাজনৈতিক ঝোল-টানাটানিতে নিঃস্বপ্রায় এই দেশে সুস্থ বার্ধক্যের ছবি কল্পনা করা দুষ্কর।
জনসংখ্যায় আজ আমরা দুনিয়ায় এক নম্বর। আমাদের দরকার ভিন্ন মডেল। নয়তো বেশি দিন বাঁচার ইচ্ছেটুকু যাবে শুকিয়ে। সে বড় সুখের কথা নয়।
বিশ্বনাথ পাকড়াশি, শ্রীরামপুর, হুগলি
ট্রেনে দেরি
শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় বজবজ যাত্রাপথে সময় লাগে ৫০ মিনিট, সেখানে ৩৫ মিনিট দেরি। গত ২৫ বছরে অফিসের ব্যস্ত সময়ে নতুন কোনও ট্রেন বাড়েনি, সেখানে এই অব্যবস্থা। এই রকম বেলাগাম দেরি হাওড়া, শিয়ালদহের সমস্ত লোকাল ট্রেনে নিয়মিত হয়েই চলেছে। দূরপাল্লার ট্রেনগুলির দেরি তো এখন জলভাত। যাত্রীদের অসুবিধার কথা রেল কোনও দিন ভেবেছে কি? ট্রেনে সারা বছরে হাজার হাজার দেরির কারণ কি রিপোর্ট হয়, মূল কারণ কি আদৌ খোঁজা হয়েছে কোনও দিন? না কি গতানুগতিক মনগড়া রিপোর্ট ও কারণ লিখে ফাইল চাপা পড়ে যায়?
রাধারমণ গঙ্গোপাধ্যায়, বজবজ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে