WB Elections 2026

দামের ছ্যাঁকা

আশঙ্কা, পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধি হবে। রান্নার গ্যাসের সরবরাহও প্রভাবিত হতে পারে। পশ্চিম এশিয়ায় এখনও যুদ্ধ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি, হরমুজ় প্রণালীতে অচলাবস্থাও অব্যাহত।

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:৩৭
Share:

আজ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ পর্বটি সমাপ্ত হবে। অতঃপর ফলাফল ও সরকার গঠনের অপেক্ষা। এবং আশঙ্কা, পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধি হবে। রান্নার গ্যাসের সরবরাহও প্রভাবিত হতে পারে। পশ্চিম এশিয়ায় এখনও যুদ্ধ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি, হরমুজ় প্রণালীতে অচলাবস্থাও অব্যাহত। সুতরাং, যে দেশ রান্নার গ্যাস এবং পেট্রোপণ্যের জন্য পশ্চিম এশিয়ার উপর অনেকখানি নির্ভরশীল, সে দেশে আগামী দিনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ স্বাভাবিক। বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলি পেট্রল-ডিজ়েলের সম্ভাব্য দাম বৃদ্ধি নিয়ে একাধিক বার সতর্ক করেছে। সম্প্রতি একটি সংস্থা জানিয়েছিল, ভোটপর্ব মিটলেই পেট্রল ডিজ়েলের দাম লিটারে ২৫-২৮ টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্য একটি সংস্থার রিপোর্টে তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে বাঁচাতে দাম বৃদ্ধিকে অবশ্যম্ভাবী হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাদের অনুমান, এই বৃদ্ধি হতে পারে লিটারে ন্যূনতম ১০ টাকা। গৃহস্থের অভিজ্ঞতা বলে, তেলে মূল্যবৃদ্ধিরআঁচ শুধুমাত্র যান-চলাচলের উপর পড়ে না, খাদ্যপণ্য-সহ অত্যাবশ্যক পণ্যও প্রবল ভাবে প্রভাবিত হয়। ফলে আঘাত আসবে সরাসরি হেঁশেলে, যেখানে রান্নার গ্যাস ইতিমধ্যেই এক প্রস্থ অনিশ্চয়তা তৈরি করে রেখেছে। এই জোড়া ধাক্কা মধ্যবিত্ত সামলাবে কোন মন্ত্রবলে?

অথচ, নির্বাচনী ময়দানে প্রতিটি দলই এই বিপদকে নিজের প্রয়োজনমতো ব্যাখ্যা করেছে। কেউ ভয় দেখিয়েছে, কেউ অবাধ আশ্বাসবাণী দিয়েছে, যার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতি সাযুজ্যপূর্ণ নয়। ইরানে আক্রমণ শুরু এবং হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই গৃহস্থের ও বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল। গ্যাস বুকিং-এ নিয়মবিধি কঠোর করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, প্রাধান্য পাবে গৃহস্থের জোগান। প্রবল শঙ্কা দেখা দিয়েছিল হোটেল-রেস্তরাঁর ব্যবসাক্ষেত্রে। খাস মধ্য কলকাতার অফিসপাড়ায় অনেক ছোট দোকান ঝাঁপ ফেলেছিল, অন্যরা বাধ্য হয়েছিল মেনুতে কাটছাঁট করতে। এলপিজি সঙ্কটে ব্যবসা বন্ধ হওয়ায় ভিনরাজ্য থেকে বহু সংখ্যক শ্রমিককে ফিরে আসতে হয়েছে। সেই সঙ্কট এখনও কাটেনি। স্বাভাবিকত্ব ফিরতে কত সময় লাগবে, কেন্দ্রীয় সরকার তা-ও স্পষ্ট জানায়নি। বরং হরমুজ়ে যে অবরোধ ইরান শুরু করেছিল, তার পাল্টা হিসেবে অবরোধে নেমেছে আমেরিকা। ভারতের বহু জাহাজ এখনও আটকে। আগামী দিনে তারা ফিরতে পারলেও, তেল ও গ্যাস আনতে সেই পথেই আবার জাহাজগুলি যেতে পারবে কি না, তা অনিশ্চিত।

বিকল্প তবে কী? গরিব, প্রান্তিক মানুষের কাছে বিদ্যুৎচালিত আধুনিক রান্নার সামগ্রী বিকল্প হতে পারে না। উনুনের ধোঁয়ার শ্বাসরোধী পরিবেশই কি তবে তাঁদের জন্য বরাদ্দ? ‘বিকল্প পথে তেল-গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা’র ফাঁপা আশ্বাসবাণী নয়, রাতারাতি অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়িয়ে ফেলা-র ধোঁয়াশামাখা তথ্য নয়, দেশের নাগরিককে সুস্পষ্ট তথ্য-সহ জানাতে হবে আগামী দিনে তাঁদের জন্য কী অপেক্ষা করছে। তেল সংস্থাগুলির ক্ষতি পূরণেই বা কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে? গণতন্ত্রে নাগরিকের তথ্য জানার অধিকার সংবিধানস্বীকৃত। নির্বাচনী মোহমায়ায় তাকে ভুলিয়ে রাখা প্রতারণার শামিল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন