Kunal Kamra Controversies

গণতন্ত্রের কৌতুক

কুণাল তাঁর শোয়ে জনপ্রিয় বলিউডি সিনেমার গানের প্যারডি করেছিলেন, সেখানেই ব্যঙ্গের ছলে উঠে এসেছিল মহারাষ্ট্রে ২০২২-এর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একনাথ শিন্দের দল ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা।

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৪১
Share:

এক বছর আগে এক কমেডি শোয়ের ভিডিয়োতে কুণাল কামরা মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দেকে ব্যঙ্গ করে বিশ্বাসঘাতক তথা ‘গদ্দার’ বলেছিলেন, আজও তার জের চলছে। শিবসেনা সমর্থকদের ভিডিয়ো-রেকর্ডিংয়ের অকুস্থল ভাঙচুর, কুণালের বিরুদ্ধে এফআইআর ও মামলা দায়ের-সহ আরও নানা কাণ্ড ঘটেছে এই এক বছরে, কিন্তু কমেডিয়ান নিজের দাবিতে ছিলেন অনড়। ক’দিন আগেও মহারাষ্ট্র আইন পরিষদের ‘প্রিভিলেজেস কমিটি’র সামনে আত্মপক্ষ সমর্থনে তিনি যা বললেন, ভারতীয় গণতন্ত্রের বর্তমান পরিস্থিতিতে সে-দিকে আলাদা করে নজর দেওয়া যেতে পারে: সংবিধান ও নাগরিক অধিকার, শিল্পী ও শিল্পের স্বাধীনতা বনাম রাজনীতিকদের রসিকতা বোঝার অপারগতা ইত্যাদির পাশাপাশি কপিরাইট আইন ও তাকে শিল্পীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার, এমনকি আইনসভার লক্ষ্মণরেখার মতো বিষয়ও উঠে এসেছে সেখানে।

কুণাল তাঁর শোয়ে জনপ্রিয় বলিউডি সিনেমার গানের প্যারডি করেছিলেন, সেখানেই ব্যঙ্গের ছলে উঠে এসেছিল মহারাষ্ট্রে ২০২২-এর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একনাথ শিন্দের দল ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা। ভারতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতারা প্রকাশ্যে বিরোধী নেতা বা প্রতিবাদী সাধারণ মানুষকেও অহরহ ‘গদ্দার’ বললে তা কোনও মতেই অপরাধ নয়, অথচ সামান্য হাসির গানে নেতাবিশেষকে একই অভিধায় বিশেষিত করলে শিল্পী চক্ষুশূল হয়ে যাচ্ছেন, এই অগণতান্ত্রিক দ্বিচারিতাই কি এতে হাট হয়ে পড়ল না? এও মনে রাখা দরকার, যে নেতা-সমর্থকেরা আজ সামান্য একটি প্যারডিকে পর্যন্ত সহ্য করতে পারছেন না, তাঁদের পুরোধা বালাসাহেব ঠাকরে এক দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র এঁকেছেন, তাঁর রাজনৈতিক কার্টুন নিক্ষিপ্ত হয়েছিল ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী-সহ বহু রাজনীতিক ও ক্ষমতাধরদের দিকে— তা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ হয়নি; শিল্প ও রাজনীতির পরিসরে কোথাও ঠোকাঠুকি লাগেনি। শিল্পী তথা নাগরিকের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ভারতের সংবিধানে স্বীকৃত ও রক্ষিত, যত ক্ষণ না তা সহনাগরিকের জীবনের ক্ষতি করছে বা দেশের নিরাপত্তায় বাধা হচ্ছে— একশো চল্লিশ কোটির দেশে এক জন কৌতুকশিল্পীর একটি হাসির গান সেই স্তরের ঝুঁকি, এটাই কি তবে বাস্তব সত্য?

এই ক্ষমতাতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়ার সামর্থ্য সব নাগরিকের থাকে না। কুণালের বিরুদ্ধে এই অভিযোগও উঠেছিল, জনপ্রিয় গানের সুর প্যারডি করে তিনি কপিরাইট আইন ভঙ্গ করেছেন। সাধারণ মানুষ দূরস্থান, এক জন শিল্পীরও এই সংক্রান্ত আইনি জ্ঞান সর্বদা না-ও থাকতে পারে, এবং রাজনীতিকরা সেই সুযোগ চাইলেই কাজে লাগাতে পারেন; থানা পুলিশ মামলা হুমকি চরিত্রহনন ইত্যাদির পাশাপাশি আনুষঙ্গিক বিধিভঙ্গের জটিলতার জালে নাগরিককে জড়িয়ে ফেলতে পারেন। কুণাল এই সবই সামলেছেন, এমনকি কমিটির সামনে দাঁড়িয়ে এ যুক্তিও দেখিয়েছেন যে তাঁর করা প্যারডি এক ‘অতীত’ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে, সেই সময়ের বিধানসভাও দু’বছর আগেই ‘অতীত’, অতীতের ঘটনা সম্পর্কিত মন্তব্যের উপর বিশেষাধিকার ক্ষমতা প্রয়োগের এক্তিয়ার বর্তমান বিধানসভার নেই। সংবিধান ও নাগরিক অধিকার নিয়ে স্পষ্ট জ্ঞান, আইনি যুক্তির অকাট্যতা— ক্ষমতাতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এগুলির গুরুত্ব যে কতখানি, এক কৌতুকশিল্পীর সূত্রে বোঝা গেল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন