NIPAH Virus

সংক্রামক

পশ্চিমবঙ্গ ‘নিপা’ ভাইরাস নামের সঙ্গে অপরিচিত নয়। ইতিপূর্বে একাধিক বার বাংলাদেশ সংলগ্ন জেলাগুলিতে নিপা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছিল। কিন্তু কোনও বারই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।

শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৪৬
Share:

আপাতত খানিক স্বস্তি। পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই নার্সের মধ্যে এক জনের অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গিয়েছে। তাঁদের সংস্পর্শে আসা অধিকাংশের জন্য আশঙ্কাও কেটেছে। কিন্তু রোগটি নিপা, যার মারণক্ষমতা ভয়ঙ্কর বেশি, তাই নিশ্চিন্ত থাকার উপায় নেই। অতএব সাবধানতা সর্ব স্তরেই মেনে চলা প্রয়োজন। এখনও সাম্প্রতিক সংক্রমণের উৎসটি নির্দিষ্ট ভাবে জানা যায়নি। সংক্রমিত পানীয়, না কি অজানা জ্বরে মৃত রোগী— উৎস খোঁজার কাজটি এখনও চলছে। যে কোনও ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে, বিশেষত তা যদি কোভিড বা নিপা জাতীয় হয় যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষরা রোগ সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন, সেখানে রোগের উৎসটি জানা প্রয়োজন। তাতে আগামী দিনে প্রতিরোধের অস্ত্রটিকে জোরদার করে তোলা সম্ভব। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিষয়টি এখনও অজানা থাকায় ফের নতুন সংক্রমণের খোঁজ পাওয়া অথবা এই রোগকে ঘিরে অহেতুক গুজব ছড়ানো— উভয় সম্ভাবনাই পুরোমাত্রায় থেকে যাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ ‘নিপা’ ভাইরাস নামের সঙ্গে অপরিচিত নয়। ইতিপূর্বে একাধিক বার বাংলাদেশ সংলগ্ন জেলাগুলিতে নিপা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছিল। কিন্তু কোনও বারই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। কিন্তু ২০০১ সালের গোড়ায় শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি যে অজানা জ্বরে অনেকগুলি মৃত্যুর সাক্ষী হয়েছিল, পরবর্তী কালে জানা যায় সেই অজানা জ্বরের কারণ নিপা ভাইরাস। সে বার সংক্রমণ অত্যধিক না ছড়ালেও ৭০ শতাংশের অধিক মৃত্যুহার আতঙ্ক ছড়িয়েছিল দুই জেলায়। দেশের মধ্যে প্রথম নিপা-র সেই প্রাদুর্ভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন পঞ্চাশের কাছাকাছি মানুষ। পরবর্তী কালে কেরল এই রোগ সংক্রমণের শিকার হয়েছে একাধিক বার। প্রাণহানিও ঘটেছে। বন্ধ হয়েছে স্কুল-কলেজ। উদ্বেগের বিষয় হল, নিপা-র এখনও অবধি কোনও প্রতিষেধক নেই। কোনও নির্দিষ্ট ওষুধও আবিষ্কৃত হয়নি। সুতরাং, একেবারে গোড়ার দিকে তৎপরতা, সচেতনতা বৃদ্ধি, এবং রোগ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আনা এই রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। আপাতত পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রথম দু’টি ক্ষেত্রে পারদর্শিতা দেখিয়েছে। প্রয়োজন, তৃতীয় ক্ষেত্রেও পুরাতন সরকারি কু-অভ্যাসটি ত্যাগ করে স্বচ্ছতা বজায় রাখা। সংক্রামক মারণব্যাধির ক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়টিতে আত্মতুষ্টি বা অস্বচ্ছতার কোনও জায়গা নেই। অন্যথায় পরিস্থিতি যে কোন পর্যায়ে যেতে পারে, কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ তার সাক্ষাৎ প্রমাণ।

জনগণের নিয়মিত অভ্যাসগুলিতেও পরিবর্তন জরুরি। রোগ বিষয়ে বেপরোয়া মনোভাব এবং দৈনন্দিন অপরিচ্ছন্নতা— উভয়ই সামান্য রোগব্যাধিকেও স্বল্প সময়ে বিরাট আকার দিতে পারে। আধখাওয়া ফল না-খাওয়া, আনাজপাতি, ফল, মাছ-মাংস কিনে আনার পর ভাল ভাবে পরিষ্কার করা, খাওয়ার আগে হাত ধোয়া, জ্বরাক্রান্ত ব্যক্তির কাছে যাওয়ার সময় মাস্ক পরিধান করা, সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া— এর জন্য স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকার প্রয়োজন পড়ে না। শুধুমাত্র মারণব্যাধি নয়, সাধারণ অসুস্থতা ঠেকাতেও এই অভ্যাসগুলি জরুরি। অযথা আতঙ্কে না ভুগে দৈনন্দিন জীবনে এগুলি মেনে চললে আগামী দিনের মহামারি, অতিমারি ঠেকানোর পথটি সহজতর হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন