“আমেরিকার সামরিক সিদ্ধান্ত বিষয়ে আপনার যা-ই মনে হোক না কেন, সে বিষয়ে মতামত দেওয়ার কোনও অধিকার আপনার নেই।” জনপ্রিয়তম এআই চ্যাটজিপিটি-র প্রযুক্তি-সংস্থা ওপেনএআই-এর মালিক স্যাম অল্টম্যান কোনও রাখঢাক ছাড়াই সংস্থার কর্মীদের কথাগুলো জানিয়ে দিলেন। ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স-এর সঙ্গে অন্য এআই সংস্থা অ্যানথ্রপিক-এর খুব ঝামেলা চলছে, কারণ তারা আমেরিকার সামরিক কাজে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র তৈরিতে তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে দিতে রাজি হয়নি। এর মধ্যেই ওপেনএআই-এর সঙ্গে চুক্তি হল পেন্টাগনের— আশঙ্কা, আমেরিকার নাগরিকদের উপরে নজরদারির কাজেও ব্যবহৃত হতে পারে এই কৃত্রিম মেধা। দুনিয়া জুড়ে ক্ষোভের সম্মুখীন ওপেনএআই। চুক্তির কথা প্রকাশ্যে আসতেই ঢল নেমেছে চ্যাটজিপিটি আনইনস্টল করার। চাপে পড়ে অল্টম্যান প্রকাশ্য বিবৃতি দিলেন। বললেন, নাগরিকদের উপরে নজরদারির কাজে যাতে তাঁদের প্রযুক্তি ব্যবহার না-করা যায়, চুক্তিতে সে কথা তাঁরা রেখেছেন। আরও বললেন, কৃত্রিম মেধা ব্যবহার নিয়ে এই বিতর্কের মধ্যেই পেন্টাগনের সঙ্গে তাঁদের চুক্তি যেভাল বার্তা দেয়নি, সেটা তাঁরা স্বীকার করছেন। প্রবল ক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তি, সর্বশক্তিমান রাষ্ট্র, আর মুনাফালোভী কর্পোরেট স্বার্থ, এবং তার বিরুদ্ধে নাগরিক প্রতিরোধ— চেনা দ্বন্দ্ব, আবার।
দ্বন্দ্বে: চ্যাটজিপিটি ও ওপেনএআই-এর প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান। ছবি: রয়টার্স।
আলো নেই
হাভানা-সহ কিউবার একটা বড় অংশ ডুবে আছে অন্ধকারে। দেশের এক বড় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে অপ্রত্যাশিত বিভ্রাটের জেরে দেশ জুড়েই বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত, সারাতে ক’দিন লেগে যাবে। স্রেফ যান্ত্রিক গোলযোগ? কিউবাবাসী আমেরিকার জুজু দেখছেন। আমেরিকার সঙ্গে কমিউনিস্ট কিউবার সংঘাতের ইতিহাস পুরনো, ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটির উপর আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় এখন বিদ্যুৎ শিল্প-সহ নানা খাতে লগ্নিও মিলছে না। পরিস্থিতি সঙ্গিন হয়েছে সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজ়ুয়েলা থেকে তেলের চালান তথা আমদানিতে বাধা তৈরি করায়। এখন টিভি-সম্প্রচার, ইন্টারনেট-পরিষেবা ব্যাহত; সৌরবিদ্যুতে তবু বাড়িঘর-ব্যবসাপাতি থেকে ট্র্যাফিক ব্যবস্থা চলছে কোনও মতে।
জল সমাধি
মানুষের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ক্ষেত্রে হাইড্রোলাইসিস নামক এক পরিবেশ বান্ধব প্রক্রিয়া চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কটল্যান্ড। প্রক্রিয়াটি, যা অনেক সময় ওয়াটার ক্রিমেশন (জল সমাধি) বা জলাবদ্ধতা (অ্যাকোয়ামেশন) নামেও পরিচিত, ইতিমধ্যেই চালু রয়েছে আমেরিকার ২৮টি রাজ্য, কানাডা, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউ জ়িল্যান্ডে। এটি বাতাসে সরাসরি কোনও বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণ করে না কিংবা এতে ‘এক বার ব্যবহারযোগ্য’ কফিনের ব্যবহার কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে বলেই মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করছে প্রক্রিয়াটি।
ওদের বাঁচাতে
প্রযুক্তির উন্নতিতে এখন পাখির চোখের মতো লক্ষ্যবস্তু তাক করা কোনও ব্যাপার নয়, তবু কেন ইরানে মেয়েদের ইস্কুল গুঁড়িয়ে যায়, ঝরে যায় দেড়শোরও বেশি শিশুপ্রাণ? আর ঐতিহাসিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মর্যাদার স্থাপত্য— তাদেরই বা কী ভবিতব্য? ইউনেস্কো আশঙ্কায়, ইজ়রায়েল-আমেরিকার বিমানহানার জেরে তেহরানের বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল ‘গোলেস্তান প্রাসাদ’ও ক্ষতিগ্রস্ত। অথচ তার অবস্থান ‘বাফার জ়োন’-এ! যুধ্যমান দেশগুলিকে ইরানের বিশ্ব ঐতিহ্যস্থলগুলির ভৌগোলিক অবস্থানের খুঁটিনাটি জানিয়ে সতর্ক করেছে ইউনেস্কো, মনে করিয়ে দিয়েছে ১৯৫৪-র হেগ কনভেনশন ও ’৭২-এর আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জাতীয় ও বৈশ্বিক মর্যাদার সংস্কৃতি-ঐতিহ্যগুলিকে যে কোনও শর্তে রক্ষার প্রতিশ্রুতির কথা।
ক্ষতিগ্রস্ত: গোলেস্তান প্রাসাদ। ছবি: রয়টার্স।
মহাপ্রলয়ের ঘণ্টা
মানবসৃষ্ট জলবায়ু বিপর্যয়ের পরিণাম সামুদ্রিক তুফান। চন্দ্র ঝড়ের পর লাগাতার আরও ছ’টি ঝড়ের তাণ্ডবে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগালের উপকূল ভরেছে হাজারো সামুদ্রিক পাখির মৃতদেহে। জানুয়ারি থেকে ফ্রান্সেই ভেসে এসেছে বিরল সৌন্দর্যের প্রতিভূ পাফিন-শ্যাগ সমেত কুড়ি হাজার পক্ষিদেহ। আশঙ্কা সমুদ্রের গ্রাসে হারিয়েছে বহু, তাই সংখ্যা অনেক বেশি। একে শীত, তায় সমুদ্র ভয়াল, প্রবল হাওয়া, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি। অনাহারে-ক্লান্তিতে নিবেছে জীবনদীপ। পাখিদের অকালমৃত্যুতে একটি প্রজন্ম তথা প্রজাতির বিলুপ্তির চিহ্ন। অথচ, তাদের নিয়ে গবেষণার অর্থ কমছে। জলবায়ু বিপর্যয়কে অবহেলার উপায় নেই, সতর্ক করছে মৃত্যুমিছিল।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে