Delhi Diary

দিল্লি ডায়েরি: কোন অসুবিধা ডেকে আনলেন মেনকা?

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে একটি মামলায় মেনকা অনলাইনে ভিডিয়ো কনফারেন্সে হাজির হন। প্রধান বিচারপতি মজা করে বলেন, “আচ্ছা, আপনি এখন থেকেই অনলাইনে হাজির হতে শুরু করেছেন। এত দিন তো সশরীরে এজলাসে হাজির হতেন!”

প্রেমাংশু চৌধুরী, অগ্নি রায়, অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ০৬:১৫
Share:

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে সদ্য রাজ্যসভায় সাংসদ হিসাবে পাঠিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এখনও তিনি শপথ নেননি। এর মধ্যেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে একটি মামলায় মেনকা অনলাইনে ভিডিয়ো কনফারেন্সে হাজির হন। প্রধান বিচারপতি মজা করে বলেন, “আচ্ছা, আপনি এখন থেকেই অনলাইনে হাজির হতে শুরু করেছেন। এত দিন তো সশরীরে এজলাসে হাজির হতেন!” মেনকা লজ্জা পেয়ে বলেন, “না না, শুধু আজকের জন্য।” প্রধান বিচারপতি মুচকি হেসে বলেন, “ঠিক আছে, ঠিক আছে।” অন্য এক দিন বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালার বেঞ্চের মামলায় হাজির ছিলেন মেনকা। পরের শুনানির দিন ঠিক হতে মেনকা বলেন, “ওই দিন আমার একটু অসুবিধা আছে।” পারদিওয়ালা হাসতে হাসতে বলেন, “আপনার এখন অসুবিধা হবেই। আপনি নিজে অসুবিধা ডেকে এনেছেন!” শুনে বেঞ্চের অন্য বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের সঙ্গে বাকি আইনজীবীরাও হাসতে শুরু করেন।

বহুমুখী: আইনজীবীর পোশাকে মেনকা গুরুস্বামী।

পাশে সাইক্লিংয়ের সময় মেনকা।

‘চলো নিজ নিকেতনে’

বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন আসছে। চলতি অধিবেশনে তাই মন নেই সাংসদদের। বিশেষ করে ভোটমুখী রাজ্যের লোকসভা সাংসদদের আসন প্রায়শই থাকছে শূন্য, তাঁরা পড়ে রয়েছেন মাঠেঘাটে প্রচারে। তৃণমূলের দুর্গ সামলাচ্ছেন সৌগত রায়, প্রতিমা মণ্ডল, জুন মালিয়া। রাজ্যসভায় ডেরেক ও’ব্রায়েন, নাদিমুল হক, সাগরিকা ঘোষ, সাকেত গোখলে। কথা ছিল শনি এবং রবিবারেও চলবে অধিবেশন, মহিলা সংরক্ষণ আইনটি বাস্তবায়িত করতে সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাবে সরকার। কিন্তু ছুটি মিলেছে। ভোটের দায় বিজেপিরও রয়েছে: বিশেষত অসম, ও বঙ্গে। হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন সাংসদরা, শুক্রবার থেকেই যে যার রাজ্যমুখী।

একটু উষ্ণতার জন্য

মন্ত্রিত্ব বড় বালাই। তৈরি থাকতে হয় সব রকম পরিস্থিতির জন্য, সব তাপমাত্রার জন্যও! সম্প্রতি বিজ্ঞানমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ পরিদর্শনে যান গোয়ায় ন্যাশনাল সেন্টার ফর পোলার অ্যান্ড ওশান রিসার্চ-এর বরফ গবেষণাগারে। গবেষণাগারের তাপমাত্রা সব সময়ই মাইনাস কুড়ি! বিভিন্ন অভিযানে সংগৃহীত আন্টার্কটিকার ‘আইস কোর’ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তা জরুরি। মন্ত্রীর এই বিষয়গুলিতে গভীর আগ্রহ। প্রায়ই ঘুরে দেখেন নানা গবেষণাগার। সে দিন পরে গিয়েছিলেন তাঁর প্রিয় লাল রঙের মোটা ফোমের জ্যাকেট, যা প্রবল শীতেও মানানসই! শীতকালে পশ্চিম বা পূর্ব ইউরোপের দেশে বেড়াতে গেলে এই জ্যাকেটটি তাঁর সঙ্গী হয়।

অন্য মাঠে

মাত্র বারো রানে হেরে গেল সাংসদদের ক্রিকেট দল। মেজর ধ্যানচাঁদ ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে দিল্লি পুলিশ বনাম সাংসদদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হল। সাংসদদের টিমের হয়ে একদা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট অনুরাগ ঠাকুর অর্ধশতক করেও জেতাতে পারলেন না। উল্টো দিকে, দিল্লির পুলিশ কমিশনার সতীশ গোলচা একাই অনুরাগ ঠাকুর, দুষ্যন্ত সিংহ, সৌমিত্র খানের ক্যাচ নিয়ে সেরা ফিল্ডারের সঙ্গে ম্যাচ জয়ের ট্রফিও নিয়ে গেলেন। আয়োজক, হামিরপুরের বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর জানালেন, সবটাই ভারতে টিবি রোগকে হারাতে।

বিনা বেতনেই

এক জন নামজাদা শিল্পপতি। ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ বারোশো কোটিরও বেশি। অন্য জন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন। তাঁর ঘোষিত সম্পত্তির মূল্য এক কোটিরও কম। প্রথম জন হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রের সাংসদ, কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নবীন জিন্দল। অন্য জন মণিপুরের কংগ্রেস সাংসদ বিমল আকোইজাম আমঙ্গচা। বর্তমান লোকসভার সাংসদদের মধ্যে শুধুমাত্র এই দু’জন সাংসদের বেতন না-নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জানাল লোকসভার সচিবালয়।

বিবেচক: রাহুলের পাশে বিমল।

‘ম্যায় শায়র তো নহি’

রেল মন্ত্রকের বাজেট বরাদ্দ সংক্রান্ত বিতর্কের জবাবে সুযোগ পেলেই আক্রমণ শাণাচ্ছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। কখনও কটাক্ষে বা সুর চড়িয়ে, কখনও আবার ছোট ছোট কবিতায় বিরোধীদের জবাব দিচ্ছিলেন। ইঞ্জিনিয়ার তথা প্রাক্তন আমলা অশ্বিনী কাঠখোট্টা মানুষ বলেই পরিচিতি। কিন্তু সে দিন একের পর এক শায়েরি! স্পিকার ওম বিড়লা বলে বসেন, রেলমন্ত্রী তো কবি হয়ে গিয়েছেন। রেলমন্ত্রীর জবাব, “স্পিকার মহাশয়, আমি তো টেকনোক্র্যাট ছিলাম, সংসদ আমাকে কবি বানিয়েছে।”


আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন