ছবি: সংগৃহীত।
খাতার ডিজ়িটাল কপি ঝাপসা। কোনও লেখাই পড়া যাচ্ছে না। ঘটনার জেরে বিতর্কের কেন্দ্রে কোএম্পট এডুটেক। ওই সংস্থার বিরুদ্ধে দ্বাদশের পরীক্ষার উত্তরপত্র মোবাইলের মাধ্যমে স্ক্যান করার অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। এর জন্য হায়দরাবাদের ওই সংস্থাকে জরিমানা করতে চলেছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন। বোর্ডের এক আধিকারিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে এই বিষয়ে বিশদ জানিয়েছেন।
সূত্রের খবর, সিবিএসই যে দরপত্র আহ্বান করেছিল, তাতে আবেদন জানিয়েছিল কোএম্পট এডুটেক। বোর্ড ওই আবেদন গ্রহণ করার পর ওএসএম পদ্ধতিতে খাতা দেখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে দেয়। ২৮ আগস্ট জারি করা ওই দরপত্রে যে সব শর্ত রাখা হয়েছিল, তা অমান্য করার অভিযোগে আর্থিক জরিমানা করা হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে। এ ছাড়াও বিতর্কিত সংস্থার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হবেও জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, সংস্থার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সিবিএসই-র এক কর্মকর্তাই জানিয়েছিলেন। তবে, অভিযুক্ত সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বোর্ড। কারণ দরপত্রের সংশোধনী নথিতে সেই সংক্রান্ত বিধি বাতিল করা হয়েছিল আগেই।
এই সংস্থার বিরুদ্ধে আগেও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। ২০১৯ সালে তেলঙ্গানায় ইন্টারমিডিয়েট বোর্ডের ইন্টারমিডিয়েট (প্লাস টু) পরীক্ষায় খাতা দেখা নিয়েও একই সমস্যা হয়েছিল। কোএম্পট এডুটেক তখন গ্লোবারেনা টেকনোলজিস নামে পরিচিত ছিল। ঘটনার জেরে পাশ করতে পারেনি ৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী। ফল প্রকাশের পরের সপ্তাহেই ১৮ জন পরীক্ষার্থী আত্মঘাতীও হয়েছেন। ওই সংস্থার বিরুদ্ধে অনুমোদনবিহীন সফট্অয়্যার ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছিল।
এ ছাড়াও ভুয়ো নথি প্রদান, পরীক্ষায় যান্ত্রিক গোলমাল এবং মার্কশিটে ত্রুটি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ রয়েছে কোএম্পট এডুটেক-এর বিরুদ্ধে। নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তিতে ওই কাজের দায়িত্বভার নিয়েছিল বিতর্কিত সংস্থাটি। সংস্থার গাফিলতিতে পরীক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে বলেও দাবি করেছে ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়ার নাগপুর ইউনিট-এর সদস্যেরা।
১ জুন থেকে চালু করা হচ্ছে সিবিএসই-র পুনর্মূল্যায়নের আবেদনের পোর্টাল। পড়ুয়ারা যাতে কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখোমুখি না হন, সে জন্য নতুন করে ওই পোর্টাল চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পোর্টালটি সুরক্ষিত রাখতে সাইবার বিশেষজ্ঞ এবং আইআইটি প্রতিষ্ঠানগুলি বিশেষ ভাবে নজরদারি করছেন। তবে, বোর্ডের তরফে সুরক্ষায় গাফিলতির দায়ও স্বীকার করা হয়েছে।