NEET Re Exam 2026

যানজট থেকে দুর্ঘটনা নিট দিতে পারলেন না অনেকেই, বাধা এল বোরখা-কণ্ঠীর ধর্মীয় চিহ্নে

এনটিএ-র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দুপুর দেড়টার পর পরীক্ষাকেন্দ্রে আর কোনও পরীক্ষার্থীকেই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। একাধিক কারণে মুম্বই, বেঙ্গালুরু, দিল্লি, ভোপালের বেশ কিছু কেন্দ্রে সময় মতো পৌঁছাতে পারেননি পরীক্ষার্থীদের একাংশ। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ পরীক্ষা দিতে পেরেছেন। আবার অনেকেই পাননি অনুমতি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ১২:০০
Share:

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

নিট ইউজি-র পুনঃপরীক্ষা শেষ হয়েছে রবিবার। মেডিক্যাল স্নাতকে ভর্তির প্রবেশিকা দিয়েছেন ২২ লক্ষ ৭৯ হাজার জন। ২১ জুন দেশের ৫,৪৪০টি এবং বিদেশের ১৪টি কেন্দ্রে ওই প্রবেশিকা নেওয়া হয়েছে। আয়োজক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-র (এনটিএ) তরফে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা বলা হলেও দেশ জুড়ে ঘটেছে বেশ কিছু ঘটনা। কোথাও নির্ধারিত সময়ের পর কেন্দ্রে পৌঁছে পরীক্ষা দিতে পারেননি পরীক্ষার্থীরা। কোথাও পোশাক বিধির কারণে পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশের মুখে বাধা পান তাঁরা।

Advertisement

রাজস্থানে পরীক্ষার্থীর পোশাক নিয়ে বিতর্ক

রাজস্থানের অজমেঢ়ের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীকে বোরখা খুলে নিয়ে ভিতরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। সংবাদসংস্থার কাছে কুলসুম বানো নামে এক পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, ওই পোশাক পরেই তিনি ৩ মে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। সে দিন কোনও সমস্যা যদি না হয়ে থাকে, তা হলে রবিবার কেন বোরখা খুলে ভেতরে যেতে বলা হচ্ছে? যদিও বিতর্কের মুখে এনটিএ পরে জানায়, ওই পরীক্ষার্থীকে অজমেঢ়ের ওই পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

কোথাও মিলেছে সুযোগ, আবার পরীক্ষা দিতে পারেননি অনেকে

এনটিএ-র বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, দুপুর দেড়টার পর পরীক্ষাকেন্দ্রে আর কোনও পরীক্ষার্থীকেই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। অথচ যানজটের কারণে মুম্বই, বেঙ্গালুরু, দিল্লি, ভোপালের বেশ কিছু কেন্দ্রে সময় মতো পৌঁছাতে পারেননি পরীক্ষার্থীদের একাংশ। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ পরীক্ষা দিতে পেরেছেন। আবার অনেকেই পাননি অনুমতি।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, কর্নাটকের কোপ্পালে গাড়ি খারাপ হওয়ার কারণে সময় মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে পারেননি বিবি ফতিমা নামের এক পরীক্ষার্থী। যথাযথ কারণ জানানোর পরও তাঁকে পরীক্ষার দেওয়ার অনুমতি দেননি কর্তব্যরত আধিকারিকরা।

ভোপালে পথদুর্ঘটনার কবলে পড়েন এক পরীক্ষার্থী। নির্ধারিত সময়ের পরে তিনি পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছালে তাঁকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সংবাদসংস্থাকে পরীক্ষার্থীর কাকা জানান, তিনি আধিকারিকদের অনুরোধ করেছিলেন, যাতে তাঁর ভাইপোকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত ওই পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননি।

অহমদাবাদের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে কণ্ঠী এবং সুতোর মতো ধর্মীয় চিহ্নযুক্ত অলঙ্কার খুলে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়। ঘটনার জেরে ওই কেন্দ্রে বাইরে হিন্দু সংগঠনের তরফে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে বিশৃঙ্খলা রুখতে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করেন।

বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেসের রাজনৈতিক সমাবেশের কারণে বিভিন্ন রাস্তায় যানজটের মুখে পড়েন পরীক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট পরে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন অনেকেই। দেরি করে পৌঁছানোর পরও তাঁদের সকলকেই পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়েছিল।

মুম্বইয়ের এক প্রান্ত অন্য প্রান্ত পরীক্ষা দিতে এসেও পরীক্ষা দিতে পারনেনি দু’জন। দুপুর দেড়টার পর মহর্ষি দয়ানন্দ কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন তাঁরা। একজন থাকেন কুরলাতে, দ্বিতীয়জন ডোম্বিবলি থেকে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন।

ফটক টপকেও হয়নি শেষ রক্ষা

নির্ধারিত সময়ের পর পৌঁছে পরীক্ষা দেওয়ার আশায় পরীক্ষাকেন্দ্রের মূল ফটক টপকেছিলেন তিন পরীক্ষার্থী। রবিবার বেঙ্গালুরুর রামনারায়ণ কলেজে এই ঘটনা ঘটেছে। জানা গিয়েছে, ওই তিন পরীক্ষার্থী ট্রাফিক সমস্যার কারণে দেরি করে পৌঁছেছিলেন পরীক্ষাকেন্দ্রে। মূল প্রবেশ বন্ধ থাকায় তাঁরা গেট টপকে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের পরীক্ষার দেওয়ার অনুমতি মেলেনি। ওই পথেই তাঁদের ফিরে আসতে হয়েছে।

অনলাইন ম্যাপে বিড়ম্বনা

উত্তরপ্রদেশে অনলাইন ম্যাপ দেখে ভুল কেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন কয়েকজন পরীক্ষার্থী। সঠিক কেন্দ্রে সময় মতো না পৌঁছাতে পারায় পরীক্ষা দিতে পারেননি তাঁরা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ দিনের পরীক্ষা শেষ হয়। পরীক্ষা ঘিরে বিভিন্ন কেন্দ্রে সমস্যার মুখে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। তবে, এনটিএ-র তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ বারের পরীক্ষা হয়েছে নির্বিঘ্নে। সব পরীক্ষার্থীর জন্য যথাযথ ব্যবস্থাপনা ছিল। এনটিএ-র দাবি, এ বার বিশেষ ভাবে সক্ষম ও অসুস্থ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১০ হাজারেরও বেশি। জানা গিয়েছে, ৩৭ দিনের মধ্যে এই পরীক্ষা আয়োজন করার জন্য ৭ লক্ষেরও বেশি আধিকারিক, অবজ়ার্ভার, পুলিশ এবং কর্মী কাজ করেছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement