ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
পরিচয় জাল করে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের প্রতারণার একটি ঘটনা সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এমস থানার অন্তর্গত রামপুর বুজ়ুর্গ গ্রামের পাংচার মেরামতকারী রাজ প্রজাপতির নামে একটি ভুয়ো সংস্থা খোলা হয়েছিল এবং প্রায় ১০০ কোটি টাকার ব্যবসা করা হয়েছিল। ২৮ কোটি টাকার জিএসটি বকেয়া সংক্রান্ত একটি সিজিএসটি সমন ওই ব্যক্তির বাড়িতে পৌঁছোলে পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
পুলিশের কাছে রাজ বয়ান দিয়েছেন, বোনের বিয়ের জন্য টাকার প্রয়োজন হলে তিনি গ্রামের অমিত গুপ্ত নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা ধার করেন। রাজের দাবি, সেই সময় তাঁর ব্যক্তিগত নথি (আধার কার্ড এবং প্যান কার্ড) এবং স্বাক্ষর নিয়ে রাখেন অমিত। পুলিশ সূত্রে খবর, সেই সব নথির অপব্যবহার করে একটি ভুয়ো সংস্থা খোলা হয়। একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্টও খোলা হয় বলে জানা গিয়েছে। কোম্পানিটির নাম মেসার্স গ্যাজেট্রিক টেকনোলজি প্রাইভেট লিমিটেড।
খবরে প্রকাশ, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি তদন্ত চলাকালীন বারাণসীর সিজিএসটি কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে, উক্ত সংস্থাটির বার্ষিক ব্যবসা ছিল প্রায় ১০০ কোটি টাকার এবং বকেয়া জিএসটি ছিল ২৮ কোটি টাকা। সেই মর্মে রাজ প্রজাপতির নামে একটি সমন জারি করা হয়। ২৭ মে বারাণসীর সিজিএসটি রাজকে তলব করে এবং ২৯ মে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। এই তলবের পর, ৩০ মে এমস থানায় নথিপত্রের অপব্যবহার এবং জালিয়াতির অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন ওই দরিদ্র ব্যক্তি। এই মামলাটি নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফ থেকে।
এক্সের (সাবেক টুইটার) ‘গোরক্ষপুর পুলিশ’ নামের হ্যান্ডল থেকে ঘটনাটির বিষয়ে জানা গিয়েছে। যদিও ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পর ওই ব্যক্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নেটাগরিকেরা। তবে, অভিযুক্ত অমিত গুপ্তের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি।