ছবি: সংগৃহীত।
চড়া ফি দিয়ে পড়তে হয় কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্থ তিনটি সরকারি আইন কলেজ এবং হাজরা আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কসবা কলেজের ফি-ই সর্বাধিক। কেন এত চড়া ফি? এ বার তদন্তে নামছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।
শুধু কসবা কলেজ নয়। অভিযোগ, গত কয়েক বছরে দফায় দফায় ফি বৃদ্ধি হয়েছে এই সব কলেজে। জানা গিয়েছে, কসবা ল কলেজে একজন পড়ুয়াকে ভর্তির সময় দিতে হয় ২৭ হাজার টাকারও বেশি। হাজরা ল কলেজ-সহ অন্য দু’টি আইন কলেজে যেখানে ভর্তির ফি ৪ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে।
সূত্রের খবর, ২০১২ পর্যন্ত সরকার এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম মেনে নেওয়া হত ফি। তারপর বিধায়ক অশোক দেব পরিচালন সমিতির সভাপতি হওয়ার পর একলাফে এই ফি বৃদ্ধি পেয়ে যায় প্রায় তিন গুণ। অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের পর থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হয়।
জানা গিয়েছে, বর্তমানে ওই কলেজে পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ৭০০। উচ্চশিক্ষা দফতরের গাইডলাইন অনুযায়ী স্থায়ী কর্মী রয়েছেন ১১ জন। তার পরেও অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হয়, এই মুহূর্তে সেই সংখ্যা ১৪। মাস দুয়েক আগেও ১৭ জন অস্থায়ী কর্মী ছিলেন কসবার কলেজে।
২০১২-এ পরিচালন সমিতি পরিবর্তন হওয়ার পর কলেজের ২১ জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হয়। তার পরেই অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধি করা হয়। এ প্রসঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী উপাচার্য শান্তা দত্ত দে বলেন, “সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজ ধর্ষণের ঘটনার পর আমরা তদন্ত করতে গিয়ে ফি পরিকাঠামো নিয়ে অভিযোগ পাই। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেশি ফি নেওয়া হয়। যাক কোন ভাবেই হওয়া উচিত নয়। আমরা আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করব।”
হাজরা ল কলেজে (ডিপার্টমেন্ট) আইন নিয়ে পড়তে গেলে ভর্তির সময় কোনও পড়ুয়াকে দিতে হয় ২০০০ টাকা। প্রত্যেক বছরে সেশন ফি লাগে ১৫৪৫ টাকা। অর্থাৎ বছরে খরচ ৭ হাজার ২২৫ টাকা। সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে এলএলবি-তে ভর্তির সময় দিতে হয় ৭,০৩০ টাকা । এলএলএম-এ খরচ ১২,৯৮০ টাকা। অন্য দিকে, যোগেশ চন্দ্র ল কলেজের এলএলবি-তে ১৪৪০ টাকা। এলএলএম-এ ৬,৫০০ টাকা। সেখানে সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে বছরে খরচ ৮৩১০ টাকা। এবং ভর্তির সময় দিতে হয় ২৭,৫৬০ টাকা।
কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতর গণধর্ষণের ঘটনার পরে যখন মূল অভিযুক্ত এক অস্থায়ী কর্মীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে, তখন এই দিকেও নজর দিচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিমধ্যে আইন কলেজের বিষয় একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
শুধু বর্ধিত ফি-ই নয়। ওই কলেজে অনুমোদিত আসন সংখ্যার চেয়ে বেশি পড়ুয়া ভর্তি নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। জানা গিয়েছে, ওই কলেজে অনুমোদিত আসনসংখ্যা ১২০। কিন্তু, প্রায় ১৯৮ জন পড়ুয়া ভর্তি নেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। অতিরিক্ত ৭৮ জন পড়ুয়া কোন শর্তে, কিসের বিনিময় ভর্তি হয়েছেন সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্তকারী দল।
এরই পাশাপাশি অভিযোগ উঠছে, গণধর্ষণ কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত নানা অনুষ্ঠান করেছে কলেজে। নবীনবরণ থেকে দোল, সরস্বতী পুজো বা কলেজ ফেস্ট-এর মতন অনুষ্ঠানে কলেজ ফার্ম থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে ছাত্র সংসদের নামে। অথচ, গত ৭-৮ বছর ছাত্র সংসদ গঠিতই হয়নি, বন্ধ রয়েছে নির্বাচন।