অপ্টোমেট্রিস্ট হওয়ার খুঁটিনাটি। ছবি: সংগৃহীত।
চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে, প্রয়োজন চশমার! পছন্দ মতো চশমার ফ্রেমে এ বার বসিয়ে নিতে হবে যথোপযুক্ত উত্তল কাচটি। সেই কাচ কতখানি জোরালো হবে, অর্থাৎ, কত ‘পাওয়ার’ তা স্থির করে দেন অপ্টোমেট্রিস্ট।
অপ্টোমেট্রিস্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ, কিন্তু তিনি চক্ষু চিকিৎসক নন। এই পেশায় নিযুক্ত হতে হলে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ার প্রয়োজন হয় না। তা হলে কী ভাবে নিযুক্ত হওয়া যায় এই পেশায়?
যোগ্যতা
অপ্টোমেট্রিস্ট হতে হলে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান বিভাগ রাখতেই হবে। গণিত, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, গণিতে ৫৫ শতাংশ নম্বর-সহ উত্তীর্ণ হওয়া প্রয়োজন। এর পর চার বছরের ব্যাচেলর অফ অপ্টোমেট্রি কোর্স করতে হয়। এই ব্যাচেলর কোর্সের মধ্যে এক বছরের ইন্টার্নশিপের জন্য বরাদ্দ থাকে। স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি করারও সুযোগ রয়েছে এই বিষয়ে। তা ছাড়াও এ বিষয়ে ডিপ্লোমাও করা যায়।
কোথায় কোথায় পড়ানো হয়?
অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা মেডিকেল কলেজ, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ, রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব অফথালমোলজি। এ ছাড়াও রাজ্য এবং ভারত জুড়ে আরও অনেক সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে এই বিষয়ে পড়ানো হয়।
কী কাজ করতে হয়?
চোখের পাওয়ার পরীক্ষা করা, চশমা বা কন্টাক্ট লেন্সের সঠিক প্রেসক্রিপশন দেওয়ার কাজ করে থাকেন। অপ্টোমেট্রিস্টরা অপারেশন না করলেও, আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে চোখের জটিল রোগ শনাক্ত করতে পারেন। রোগীর চোখ ছানি অস্ত্রোপচারের উপযুক্ত কি না তা-ও পরীক্ষা করতে পারেন। চোখের রক্তচাপ মাপতে পারেন অপ্টোমেট্রিস্টরা।
পেশাগত সুযোগ কী কী?
সরকারি হাসপাতালে চাকরির সুযোগ থাকে। রাজ্যের জেলা হাসপাতাল বা মহকুমা হাসপাতালগুলিতে অপ্টোমেট্রিস্ট পদে কর্মী নিয়োগ করা হয়। ন্যাশনাল হেলথ মিশনের অধীনে গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগ করা হয়। ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ফর কন্ট্রোল অফ ব্লাইন্ডনেস-এ প্রকল্প ভিত্তিক কাজের সুযোগ থাকে। এ ছাড়াও বেসরকারি সংস্থা, হাসপাতাল এবং চশমার দোকানেরও চাকরির সুযোগ রয়েছে।