JU English department controversy

‘এমন বিতর্কের অবকাশ আর যেন তৈরি না হয়’, বিভাগীয় প্রধান পদে ফিরে জানালেন যাদবপুরের শাশ্বতী

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫২
Share:

নিজস্ব চিত্র।

তীব্র টানাপড়েনের পর কাজে ফিরলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক শাশ্বতী হালদার। যোগ দিলেন বিভাগীয় প্রধান পদেই। তার পরই জানালেন, তিনি শুধুমাত্র নিজের কর্তব্য পালন করেছিলেন। কর্মসমিতির সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে তাঁর পরিস্থিতিটা বুঝতে পেরেছেন সে জন্য তিনি ধন্যবাদও জানিয়েছেন সহকর্মীদের।

Advertisement

গত ডিসেম্বরে ইংরেজি তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলাকালীন অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছিল পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। এমনকি দুই ছাত্রীর বিরুদ্ধে টুপি দেওয়া শীতবস্ত্রের নীচে বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে পরীক্ষায় বসার অবিযোগ উঠেছিল। সে সময় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হন বিভাগীয় প্রধান শাশ্বতী। অন্য পরীক্ষার্থীদের তল্লাশির পাশাপাশি দুই মুসলিম ছাত্রীকে আলাদা ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে কথা বলেন তিনি এবং এক মহিলা গবেষক। ওই দুই ছাত্রী নিজেরাই মাথার কাপড় সরিয়ে দেখান অধ্যাপককে। তাঁদের কাছে কোনও সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। ফলে ক্ষমা চেয়ে নেন শাশ্বতী। এই তল্লাশি কেবলমাত্র নিয়মরক্ষার, জানান সে কথাও।

সে সময় কোনও সমস্যা না হলেও জলঘোলা হয় গত ২৪ ডিসেম্বর, সমাবর্তন অনুষ্ঠানের শেষে। দুই ছাত্র পো়স্টার হাতে দাবি করেন, ওই ঘটনায় ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে, হস্তক্ষেপ করা হয়েছে পড়ুয়াদের স্বাধীনতায়। দাবি ওঠে বিভাগীয় প্রধান পদ সরিয়ে দিতে হবে শাশ্বতীকে। তথ্যানুসন্ধান কমিটির সুপারিশ মেনে তিন সপ্তাহের ছুটি নেন তিনি।

Advertisement

গত ৭ ডিসেম্বর শাশ্বতীর ছুটি মঞ্জুর করেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। কিন্তু গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ম সমিতি (ইসি‌)-র বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, যে কোনও দিন ছুটি শেষ করে নিজের কাজে ফিরতে পারেন। এর পর ২৯ জানুয়ারি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের বিভাগে যোগ দেন শাশ্বতী। যদিও তিনি ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি নিয়েছিলেন।

এ দিন শাশ্বতী হালদার বলেন, “এই ঘটনার পর যে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তাতে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। অবশেষে কাজে যোগ দিতে পেরেছি। কর্ম সমিতির সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই, তাঁরা আমার পাশে ছিলেন। ওঁরা বুঝেছেন এখানে আমি শুধুমাত্র আমার কর্তব্য পালন করেছি।” শাশ্বতীর কথায় স্পষ্ট হয়েছে পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখার পক্ষে তিনি। সম্প্রতি কর্ম সমিতির সদস্যেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কড়া বিধি প্রণয়ন করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য। কোনও পরীক্ষার্থী যদি অসদুপায় অবলম্বন করতে গিয়ে ধরা পড়েন তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে। কোনও বিতর্ক যাতে তৈরি না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখা হবে।

শাশ্বতী এ প্রসঙ্গে বলেন, “পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সুনির্দিষ্ট নিয়ম-বিধি থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। এই বিধি প্রবর্তিত হলে ভবিষ্যতে এমন অনভিপ্রেত বিতর্ক তৈরি হবে না বলেই আশা করি। আমি চাই না ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের মধ্যে এমন ঘটনা ফের ঘটে যাক।”

এ দিকে পাঁচ সদস্যের তথ্যানুসন্ধান কমিটির তাদের রিপোর্ট বৃহস্পতিবারই জমা দেবে উপাচার্যের কাছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement