প্রতীকী চিত্র।
দেরিতে পাওয়া যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিকের মডেল প্রশ্নপত্র। তা নিয়েই ক্ষোভ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের চতুর্থ সেমেস্টার শুরু হতে চলেছে। হাতে বাকি মাত্র দু’সপ্তাহ বাকি। এই পরিস্থিতিতে কবে পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নেবে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
এ বারই প্রথম সেমেস্টার পদ্ধতিতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে পড়ুয়ারা। তৃতীয় সেমেস্টার ওএমার শিট-এ পরীক্ষা দিলেও চতুর্থ তথা চূড়ান্ত সেমেস্টারে থাকবে ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন। ফলে নতুন ধাঁচে প্রশ্নপত্র নিয়ে খানিক ধোঁয়াশা রয়েছেই। এই অবস্থায় প্রস্তুতির বিষয়ে জোর দিয়ে চেয়েছিল স্কুলগুলিও।
যদিও শিক্ষা সংসদের দাবি, শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রশ্ন পেতেই সময় লেগেছে। প্রায় সাত লক্ষ পরীক্ষার্থীর জন্য ২৭ জানুয়ারি থেকে সংসদের পাঁচটি আঞ্চলিক অফিস থেকে বই বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। যেখানে ২২টি বিষয় মডেল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হচ্ছে। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব প্রিয়দর্শনী মল্লিক বলেন, “দ্রুততার সঙ্গেই মডেল প্রশ্নপত্র পড়ুয়াদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছেয় সমস্ত প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর তা বাছাই করতে খানিকটা সময় লেগেছে।”
যদিও অনেকেই দাবি করছেন এসআইআর-এর কাজে শিক্ষকদের ব্যস্ততার কারণেই এই বিলম্ব। ভবানীপুর মিত্র ইনস্টিটিউশনে প্রধান শিক্ষক রাজা দে বলেন, “এই মডেল প্রশ্ন বিতরণ করতে অনেকটাই দেরি করে ফেলল। টাকা দিয়ে বই কিনে এখন লাভ হবে না।” বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ মোট ৬৩টি বিষয় পড়ায়। তার মধ্যে ১৬টি বৃত্তিমূলক বিষয়। মডেল প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে শুধু মাত্র মূল বিষয়গুলির জন্য। শিক্ষা সংসদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, শীঘ্রই বৃত্তিমূলক প্রশ্নপত্র পাওয়া যাবে। তবে ১০-১২টি বিষয়ে কোনও প্রশ্ন ছাপানো হয়নি, কারণ ওই বিষয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা নগণ্য। এই বিষয়ের প্রশ্নপত্রের পিডিএফ অনলাইনে আপলোড করা হবে।
শিক্ষকদের একাংশ মনে করছেন প্রশ্ন না ছাপিয়ে আরও আগেই তা অনলাইনে আপলোড করা উচিত ছিল। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি চন্দন গোড়াই বলেন, “আমরা শিক্ষা সংসদের কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলাম যাতে সমস্তটা অনলাইনে পিডিএফ আকারে আপলোড করা হোক। তাহলে এই সমস্যা হত না।”