ISL 2026

সুনীলের বেঙ্গালুরুর কাছে আটকে গেল মোহনবাগান! চার জয়ের পর পয়েন্ট নষ্ট সবুজ-মেরুনের

প্রথম বার অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে গিয়ে পয়েন্ট নষ্ট করল মোহনবাগান। অনেক চেষ্টা করেও বেঙ্গালুরুর জালে বল জড়াতে পারলেন না জেমি ম্যাকলারেনরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ২১:২৬
Share:

মোহনবাগান বনাম বেঙ্গালুরু ম্যাচের একটি মুহূর্ত। ছবি: এক্স।

গত বারের হারের ধাক্কা ভুলে এ বার জেতার লক্ষ্যে নেমেছিল মোহনবাগান। কোচ সের্জিয়ো লোবেরার পরিকল্পনা প্রায় কাজে এসে গিয়েছিল। কিন্তু বেঙ্গালুরুর রক্ষণ ভাঙতে পারল না মোহনবাগান। প্রথম বার অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে গিয়ে পয়েন্ট নষ্ট করল তারা। অনেক চেষ্টা করেও বেঙ্গালুরুর জালে বল জড়াতে পারলেন না জেমি ম্যাকলারেনরা। গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারলেন না দিমিত্রি পেত্রাতোস। সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হল বাগানকে। গোলশূন্য ড্র হল। চলতি আইএসএলে চার জয়ের পর প্রথম বার পয়েন্ট নষ্ট করল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।

Advertisement

প্রথমার্ধের শুরুর ১৫ মিনিট বাদ দিলে গোটা ম্যাচ জুড়ে দাপট দেখাল মোহনবাগান। মাঝেমধ্যে প্রতি আক্রমণে বেঙ্গালুরু কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও বলের দখল বাগানের পায়েই বেশি ছিল। কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে শেষ কবে বেঙ্গালুরু এতটা রক্ষণাত্মক খেলেছে তা মনে পড়ছে না। কোচ রেনেডি সিংহের পরিকল্পনা দেখে মনে হল, ঘরের মাঠে ১ পয়েন্ট পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে চেয়েছিলেন তিনি।

খেলা শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই অবশ্য এগিয়ে যেতে পারত বেঙ্গালুরু। ভাল জায়গায় বল পেয়েছিলেন রায়ান উইলিয়ামস। তাঁর শট ভাল বাঁচান বিশাল কাইথ। তখন বাগানের মাঝমাঠ থিতু হয়নি। ১৫ মিনিটের পর থেকে অনিরুদ্ধ থাপা, আপুইয়ারা খেলার দখল নিতে শুরু করলেন। চাপ বাড়াতে শুরু করল বাগান।

Advertisement

চলতি আইএসএলের বাগানের ১৪ গোলের মধ্যে সাতটিই করেছেন ম্যাকলারেন। তাই তাঁকে বোতলবন্দি করার পরিকল্পনা করেছিলেন রেনেডি। অনেকটাই সফল তিনি। ফাঁকা বল খুব একটা পেলেন না জেমি। তার মাঝেই কয়েকটি বল পেয়েছিলেন। কিন্তু গোল করতে পারেননি।

মোহনবাগানের দুই প্রান্ত সচল ছিল। এক দিকে লিস্টন কোলাসো ও অপর প্রান্তে মনবীর সিংহ বার বার আক্রমণে উঠছিলেন। কিন্তু লিস্টন আর কবে বুঝবেন, অ্যাটাকিং থার্ডে ঢুকে ঠিক কী করতে হবে। ৩০ গজ দূর থেকে শট মারতে গেলেন। আবার গোলরক্ষকের সামনে গিয়ে পাস দেওয়ার চেষ্টা করলেন। ফলে কাজের কাজটাই হল না।

নজর কাড়লেন শুভাশিস বসু। যেমন আক্রমণে সাহায্য করলেন, তেমনই রক্ষণে ভরসা দিলেন। পাশাপাশি বেঙ্গালুরুর উইলিয়ামসও ভাল খেললেন। সারা ক্ষণ দৌড়ে গেলেন। বেঙ্গালুরুর যে কয়েকটি সুযোগ তৈরি হল, তা উইলিয়ামসের পায়েই। কিন্তু সুনীল সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না। তাঁর মতো স্ট্রাইকার বক্সের মধ্যে থেকে সুযোগ নষ্ট করলেন।

প্রথমার্ধে তা-ও বেঙ্গালুরু কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল, দ্বিতীয়ার্ধ পুরোপুরি মোহনবাগানের। পুরো খেলাই প্রায় হল বেঙ্গালুরুর বক্সে। একের পর এক আক্রমণ। একের পর এক সুযোগ তৈরি। ম্যাকলারেনের শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে গেল। পেত্রাতোস গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারলেন না। আলবের্তো রদ্রিগেজ়ের শট ভাল বাঁচালেন বেঙ্গালুরুর গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিংহ সান্ধু। আলবের্তোর আর একটি শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে গেল। একটি ম্যাচে এতগুলি গোল নষ্ট করলে কী ভাবে জেতা যাবে।

মাঝে দু’টি ভাল সুযোগ পেয়েছিল বেঙ্গালুরু। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। বেঙ্গালুরুর এই হঠাৎ হঠাৎ আক্রমণ দেখিয়ে দিল, বাগানের রক্ষণে কিছুটা হলেও ফাঁক রয়েছে। তবে বেঙ্গালুরুর প্রাচীর ভাঙতে পারল না বাগান। পয়েন্ট নষ্ট করেই ফিরতে হচ্ছে লোবেরাদের। কান্তিরাভায় গিয়ে আরও এক বার হতাশ হলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকেরা।

এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট বাগানের। পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষেই তারা। তবে রবিবার নর্থইস্টের ঘরের মাঠে গিয়ে তাদের হারিয়ে দিলে বাগানকে টপকে শীর্ষে উঠবে জামশেদপুর এফসি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement