NCERT Class 8 Social Science book on Judicial Corruption

স্কুলপাঠ্যে নৈতিকতার শিক্ষা! বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি প্রসঙ্গ এ বার এনসিইআরটি-র বইয়ে

বিচারপতি নির্বাচনের ‘কলেজিয়াম ব্যবস্থা’ নিয়ে মতবিরোধ, আদালত অনুমোদিত নিয়োগে বিলম্ব এবং বিচার বিভাগের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক সমালোচনার আবহ তৈরি হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫০
Share:

প্রতীকী চিত্র।

বিচারবিভাগ এবং শাসনবিভাগের সমন্বয়, তাদের দ্বন্দ্ব মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ বিচারব্যবস্থা। সেখানে খুব সহজেই দুর্নীতির অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে। তাই সচেনতা, সংবেদনশীলতার সঙ্গে প্রয়োজন নৈতিক মূল্যবোধ। এ বার স্কুলপাঠ্য বিষয়েও সেই মূল্যবোধের সংযোজন করতে চাইছে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি)।

Advertisement

বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি বা রায়দানের বিলম্ব নিয়ে নানা কথা প্রচলিত রয়েছে এ দেশে। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্র সরকার এবং বিচারবিভাগের সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিচারপতি নিয়োগ, স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক কাজে বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপের পরিধি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিচারবিভাগের সাংবিধানিক স্বাধীনতা এবং ক্ষমতার পৃথকীকরণের প্রসঙ্গও বারবার উঠে এসেছে। বিতর্ক রয়েছে সাম্প্রতিক কোনও কোনও মামলার রায় নিয়েও।

এর মধ্যেই এনসিইআরটি-র তরফে অষ্টম শ্রেণির জন্য সমাজবিজ্ঞানের নতুন বই প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ‘সমাজে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা’ শীর্ষক একটি অধ্যায় রয়েছে। সেই অধ্যায়েই রয়েছে বিচারব্যস্থায় দুর্নীতি এবং বিচার কাঠামোয় একাধিক বাধার প্রসঙ্গ। বলা হয়েছে, বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতিকে অন্যতম উদ্বেগের বিষয়। এ ছাড়া ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে আদালতে একাধিক মামলার নিষ্পত্তি না হওয়াকেও বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোন আদালতে কত মামলা এখনও অমীমাংসিত, সেই তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

Advertisement

তালিকা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে প্রায় ৮১,০০০ মামলা, হাইকোর্টগুলোতে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬২.৪ লক্ষ মামলা এবং জেলা ও নিম্ন আদালতগুলোতে প্রায় ৪.৭ কোটি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

বইয়ে বিচারে বিলম্বের কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দায়ী করা হয়েছে পর্যাপ্ত বিচারকের অভাব, জটিল আইনি প্রক্রিয়া এবং আদালতের উপযুক্ত পরিকাঠামোকে। বইয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিচারব্যবস্থা নিয়ে ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ‘সেন্ট্রালাইডজ়ড পাবলিক গ্রিভান্স রিড্রেস অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম’-এর মাধ্যমে প্রায় ১,৬০০-র বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

একই প্রসঙ্গে বইয়ে উদ্ধৃত করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিআর গবই-এর কথাও। দুর্নীতির জন্য যে বিচারব্যস্থার উপর জনগণের আস্থা ভঙ্গ হতে পারে, তাঁর ওই বক্তব্যের কথাও উঠে এসেছে বইয়ে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তিনি বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে দ্রুত কঠোর এবং স্বচ্ছ পদক্ষেপ করা জরুরি বলে জানিয়েছিলেন।

এই প্রসঙ্গে আইনজীবীদের একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কপিল সিবালের দাবি, অন্য ক্ষেত্রগুলি বাদ দিয়ে শুধু মাত্র বিচারব্যবস্থার দুর্নীতির কথা উল্লেখ করা সমর্থনযোগ্য নয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement