প্রতীকী চিত্র।
উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপুরে এনসিইআরটি-র জাল বইয়ের চক্র ফাঁস হয়েছে। পুলিশ প্রায় ১০ লক্ষ নকল বই উদ্ধার করা হয়েছে। যার অর্থমূল্য প্রায় ৯ কোটিরও বেশি।
মঙ্গলবার উধমসিংহনগরের পুলিশের সিনিয়র সুপারিন্টিডেন্ট পদে কর্মরত অজয় গণপতি জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ১৪ মার্চ রাতে এই অভিযান চালায় পুলিশ। রুদ্রপুরে আনন্দম রিসর্টের কাছে একটি গাড়িকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর গাড়ির চালক জানান, বই বোঝাই ওই গাড়িটি উত্তরপ্রদেশের মেরঠে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া বইয়ের বাকি নথি এবং গাড়ির কাগজপত্রেও গরমিল রয়েছে। এর পর ক্রমাগত পুলিশি জেরার পর গাড়িচালকের থেকে জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়।
চালকের তথ্যের উপর ভিত্তি করেই এর পর কিরাদপুর কোলাবা জেলার একটি গুদামে হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকে আরও বিপুল পরিমাণে এনসিইআরটি-র নকল বই উদ্ধার করা হয়। এর পর পুলিশ আধিকারিকেরা শিক্ষা দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একযোগে উদ্ধার হওয়া বইগুলি নকল কী না, তা পরীক্ষা করে দেখেন। যোগাযোগ করা হয় এনসিইআরটি-র সঙ্গেও। দিল্লিতে সংসদের কর্মকর্তারা আরও একবার খতিয়ে দেখেন নকল বইগুলি। তদন্তে দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া বইয়ে ব্যবহৃত কাগজ, বই বাঁধাই, প্রচ্ছদ কোনওটিই এনসিইআরটি-র মতো উন্নত মানের নয়। এ ছাড়া, এনসিইআরটি-র পরিবর্তে বইয়ে ‘এসিইআরটি’ জলছাপ ব্যবহার করা হয়েছে।
গণপতি জানিয়েছেন, ৯ লক্ষ ৭৪ হাজার ৮৫টি নকল বই নিয়ে ইতিমধ্যেই এনসিইআরটি-কে জমা দেওয়া হয়েছে রিপোর্ট। গুদাম পরিচালানার দায়িত্বে থাকা সন্দীপ এবং অন্যদের নামে দায়ের করা হয়েছে মামলা। ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ৩১৮ (৪) , ৩৩৬ (৩), ৩৪০ (২) ধারা এবং স্বত্বাধিকার আইন মেনে মামলা রুজু হয়েছে তাঁদের নামে। তবে এখনও তদন্ত প্রক্রিয়া পুরো সম্পূর্ণ হয়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিক। পুরো জালিয়াতি চক্র খুঁজে বের করার না করা পর্যন্ত তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে বলেও জানা গিয়েছে।