Schools in West Bengal

স্কুল খোলার আগে স্কুল চত্বর পরিষ্কার করার নির্দেশ! অথচ কম্পোজ়িট গ্র্যান্টের বরাদ্দ কম, দুশ্চিন্তায় স্কুল

স্কুল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য এই কম্পোজ়িট গ্র্যান্ট খুবই জরুরি। কিন্তু, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৫ শতাংশ টাকা পাওয়া গিয়েছে। যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় স্কুল প্রধানরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ১৮:৪৩
Share:

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

গরমের ছুটির পরে, আগামী ১ জুন চালু হচ্ছে সরকারি ও সরকার পোষিত রাজ্যের সব স্কুল। তার আগে স্কুল পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন করার উপরে জোর দিল স্কুলশিক্ষা দফতর। দক্ষিণবঙ্গের একটি জেলা স্কুল পরিদর্শক সব স্কুল ও মাদ্রাসাকে ৩১ মে-র মধ্যে খাওয়ার ঘরের বাসনপত্র থেকে শুরু করে গোটা স্কুল চত্বরকে পরিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে স্কুলের প্রধানশিক্ষকদের অভিযোগ, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে ‘কম্পোজ়িট গ্র্যান্ট’-এর পরিমাণ বেশ কমেছে। তাই সরকারের কাছে তাঁদের অনুরোধ, এ বারে অন্তত এই বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হোক। না হলে স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

Advertisement

ওই নির্দেশে বলা হয়েছে যে, মিড ডে মিল যদি কোথাও মজুত থাকে, সেগুলি ভাল ভাবে দেখে নিতে হবে। প্রথমে মে মাসের ১১ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত গরমের ছুটি থাকার কথা ছিল, পরে তা বাড়িয়ে ৩১ মে করা হয়। ফলে দীর্ঘসময় ধরে স্কুল বন্ধ থাকার কারণে মিড ডে মিলের মজুত থাকা সামগ্রী কোনও ভাবে নষ্ট হয়েছে কি না, সেটা পরীক্ষা করে নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুলের সব ঘর ও শৌচালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পানীয় জলের সরবারহ ঠিক রয়েছে কি না, সেটাও ভাল ভাবে খতিয়ে দেখার নির্দেশ রয়েছে। শ্রেণিকক্ষের টেবিল বেঞ্চ থেকে শুরু করে কম্পিউটার— সবকিছুই প্রধানশিক্ষকদের নজরদারিতে সুরিক্ষিত রয়েছে কি না খতিয়ে দেখে, তার পরেই ১ জুন থেকে স্কুল চালু করার কথা বলা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের এক জেলা স্কুল পরিদর্শক জানান, সার্বিক ভাবে সব স্কুলকেই এ ভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে তবেই স্কুল চালু করার নির্দেশ দেওয়া থাকে। কোনও কোনও জেলা বিশেষ ভাবে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করছে। কিন্তু তাঁদের জেলায় মৌখিক ভাবেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

কিন্তু সমস্যা ওই ‘কম্পোজ়িট গ্র্যান্ট’ নিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী, স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ১ থেকে ৩০ জন হলে অনুদান মিলবে ১০ হাজার টাকা। পড়ুয়াদের সংখ্যা ৩১ থেকে ১০০ জনের জন্য ২৫ হাজার টাকা, ১০১ থেকে ২৫০ জনের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং ২৫১ থেকে ১,০০০ জন পড়ুয়াবিশিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ হবে ৭৫ হাজার টাকা। যে হেতু ‘পিএম সমগ্র শিক্ষা প্রকল্প’-এ ‘পিএম’ নাম নিয়েই তৃণমূল সরকারের আপত্তি ছিল, তাই এই প্রকল্প মেনে নেয়নি রাজ্য সরকার। তাই কেন্দ্রের তরফ থেকে অর্থ সাহায্য করা হয়নি বলে খবর। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৫ শতাংশ টাকা পাওয়া গিয়েছে, যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় স্কুল প্রধানরা। একটি স্কুলের প্রধানশিক্ষক বলেন, ‘‘টাকার বরাদ্দ বৃদ্ধি না হলে, এ সব কাজ হবে কী করে?’’

Advertisement

অলপোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই বলেন, ‘‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন তো করতেই হবে। কিন্তু কম্পোজ়িট গ্র্যান্ট যে ভাবে কমেছে, এটা খুবই দুশ্চিন্তার।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement