Mid day Meal

‘শুধু ডিমেই পুষ্টি হয় নাকি? নিরামিষ খেয়েও বাঁচে মানুষ’, মিড-ডে মিল প্রসঙ্গে বললেন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী

মঙ্গলবার স্কুলশিক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, আগামী দিনে সারা রাজ্যেই এই মিড-ডে মিলের ক্ষেত্রে ইসকনের হাতে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হতে পারে রাজ্য সরকারের তরফে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ১৪:১১
Share:

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

ডিম না খেলে অপুষ্টিতে ভুগবে পড়ুয়ারা! এমন তত্ত্ব মানতে নারাজ রাজ্যের স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট বলেন, “বহু মানুষ নিরামিষাশী। তাঁরাও পুষ্টি পান।”

Advertisement

সোমবার রাজ্য বিধানসভায় প্রথম বার বাজেট পেশ করেছে বিজেপি সরকার। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, কলকাতা পুর এলাকার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হবে ইসকনকে। তার পর থেকেই তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, ইসকনের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়ার অর্থ, পড়ুয়াদের নিরামিষ খাদ্যাভ্যাসে ঠেলে দেওয়া। বাঙালি পরিবারের সন্তানের ক্ষেত্রে তা খুব একটা পরিচিত অভ্যাস নয়। মিড-ডে মিলে কী খাওয়ানো হবে, তা স্থির করা হয় নির্দিষ্ট পুষ্টিমানের বিচারে। সেই অনুযায়ী সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে ডিম খাওয়ানো হয় পড়ুয়াদের। তা বাদ পড়লে দরিদ্র পরিবারের শিশুরা সমস্যায় পড়বে সব থেকে বেশি।

কলকাতার এক স্কুলের প্রধানশিক্ষক জানিয়েছেন, শিশুদের নিরামিষ খাওয়ানোতে অনেক রকম সমস্যা হতে পারে। তাঁদের স্কুলে সপ্তাহে দু’দিন ডিম খাওয়ানো হয়। এক দিন খিচুড়ি, এক দিন ডাল, পাঁপড়, আলুসেদ্ধ, এক দিন মটর পনির, এক দিন নিরামিষ সব্জি। ওই শিক্ষক বলেন, “পড়ুয়ারা জানতে চায় কবে কী আছে খাবারের তালিকায়। ওরা ডিমের প্রত্যাশায় বসে থাকে। ফলে এর পর অসুবিধা হতে পারে।”

Advertisement

বিজেপি সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই মিড-ডে মিল প্রকল্পের কেন্দ্রীয় নাম ‘পিএম পোষণ’ গ্রহণ করেছে। এর আগে তৃণমূল সরকারের তীব্র আপত্তি ছিল ওই নামে। সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের মু্খ্যমন্ত্রীও বলেন, “পিএম পোষণ পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে কলকাতার স্কুলগুলির জন্য মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ইসকনকে। তারাই খাওয়াবে। খেয়ে দেখুন গুণমানে ভাল। আপনার ইচ্ছা না হলে ‘হরেকৃষ্ণ’ বলবেন না।” তার পর থেকেই দুপুরের পাতে নিরামিষ খাবার নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

মঙ্গলবার স্কুলশিক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, আগামী দিনে সারা রাজ্যেই এই মিড-ডে মিলের ক্ষেত্রে ইসকনের হাতে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হতে পারে রাজ্য সরকারি তরফে। তিনি বলেন, ‘‘ডিমই একমাত্র পুষ্টির উৎস নয়। পৃথিবীর বহু মানুষ নিরামিষ খেয়ে বাঁচেন। আপাতত কলকাতা পাইলট প্রজেক্ট। যদি দেখা যায় তা সফল, তা হলে আগামী দিনে বহু এলাকায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।’’

তবে অপরিচিত খাদ্যাভ্যাসের বাইরেও উঠছে অন্য একটি প্রশ্ন। মিড-ডে মিল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বহু মহিলা। তাঁদের রোজগার হয় স্কুলের জন্য রান্না করে। কোথাও কমিউনিটি কিচেনে রান্না করেন তাঁরা। ইসকন সেই দায়িত্ব নিলে এই স্বনির্ভরগোষ্ঠীর সদস্য মহিলাদের রোজগারের পথ একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী জানান, “বাজেটে তো রাঁধুনিদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগে প্রকল্প শুরু হোক। তার পর যে সব সমস্যা দেখা দেবে, তা আলোচনা করে মিটিয়ে ফেলা হবে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement