প্রতীকী চিত্র।
গাছ লাগাবে স্কুল পড়ুয়ারা। সে গাছের একটি নাম দেবে সে। কোনওটি তার মায়ের নামে। কোনওটির নাম হবে বাবার বা ছোট্ট বোনের, দাদার নামে। গাছ হয়ে উঠবে পরিবার। সারা বছর সে গাছের যত্ন নেবে পডুয়াই। এমন চাইছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।
গাছ কাটছে মানুষ। নিজের প্রয়োজনের পরিধি বাড়াতে বাড়াতে মানবসভ্যতা এখন হাত বাড়িয়েছে অরণ্যের দিকে। পরিবেশের দিকে নজর নেই কারও। তার ফলও মিলছে হাতেনাতে। অনেকেই মনে করছেন দ্রুত অবলুপ্তির পথে যেতে পারে সভ্যতা। কিন্তু এখনও আছে সময়। অরণ্যরক্ষাই পথ। ছোটবেলা থেকে গাছের প্রতি যত্নশীল হওয়া তাই একান্ত প্রয়োজন।
তাই গাছের প্রতি আকর্ষণ ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করতেই এই পদক্ষেপ সংসদের। শুধু চারা রোপণ করলেই তো হবে না। গাছের পরিচর্যাও করতে হবে নিয়মিত। সে কারণেই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের দিয়েই গাছ বসিয়ে, সে গাছটির নাম দিতে বলা হবে প্রিয়জনের নামে। সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “স্কুলের পড়ুয়াদের মধ্যে পরিবেশ ও গাছ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলে ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে। সে কারণেই এই ভাবনাচিন্তা। তবে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে এগোনো সম্ভব হবে না।” মনে করা হচ্ছে আগামী জুন-জুলাইয়ে বর্ষা নামার আগে এই প্রকল্প শুরু করা হতে পারে।
স্কুল থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে গাছের চারা বিতরণ করা হবে। নিজেদের বাড়ির কাছে সে গাছ বসাতে পারবে পড়ুয়ারা। আবার কোনও বড় গাছও দত্তক নিয়ে নিজের প্রিয় মানুষের নাম দিতে পারে তারা। তবে সে গাছের যত্ন করতে হবে তাদেরই। শিক্ষকেরা নজর রাখবেন পড়ুয়াদের কাজের উপর।
যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধানশিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য বলেন, “ভাল উদ্যোগ। গাছের সঙ্গে পড়ুয়াদের আবেগকে এক সুতোয় বাঁধার এই প্রয়াসে আমি খুশি। তবে শহরে স্থানের অভাব। অন্তত টবে গাছ বসিয়েও এই কাজ করা যেতে পারে।”
নদীয়ার বড়জাগুলির গোপাল অ্যাকাডেমি-র প্রধানশিক্ষক রাজকুমার হাজরা বলেন, “এই প্রকল্প বছরের পর বছর চলতে থাকুক। পরিবেশ বাঁচাতে সংসদের এই উদ্যোগ সাধুবাযোগ্য।”
উল্লেখ্য, ২০২৪-এর ৫ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ (‘এক পেড় মাকে নাম’) প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। তারও আগে ২০২২ নাগাদ পশ্চিমবঙ্গের মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছিল।
সম্প্রতি নিউটাউনে খড়গপুর আইআইটি-র এক অনুষ্ঠানে বনাঞ্চল নষ্ট করা এবং যত্রতত্র গাছ কাটার বিরুদ্ধেও আলোচনা হয়। সংসদ সভাপতিও মনে করেন, উন্নয়ন, শিল্প সব কিছুই প্রয়োজন কিন্তু পরিবেশ রক্ষা করে। শিক্ষা মহলের মত, সংসদ যে বিষয়ে ভেবেছে সেটা যদি সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত হয় তা হলে পরিবেশের ক্ষেত্রে এবং ভবিষ্যতে সকলেই তার সুফল পাবেন।