ছবি: সংগৃহীত।
সরকারি চাকরি করবেন। মনে মনে সেই স্বপ্নই লালন করেছিলেন কেরলের এক বাসিন্দা। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসেছিলেন, সফলও হয়েছিলেন। কিন্তু সরকারি চাকরি করার সেই স্বপ্ন সফল হল অবসরের বয়সে এসে। সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, কেরলের মলপ্পুরম জেলার কলিকভুর বাসিন্দা আবদুল মজিদ, সরকারি চাকরির পরীক্ষায় পাশ করার প্রায় দুই দশক বছর পর নিয়োগপত্র পেয়ে হতবাক হয়ে যান। চাকরির চিঠি যখন হাতে পান তখন তাঁর অবসরের বয়স পেরিয়ে গিয়েছে।
আবদুল ২০০৫ সালে কেরলের পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) পার্ট-টাইম জুনিয়র আরবি শিক্ষক পদের জন্য পরীক্ষায় বসেন। সফল ভাবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে র্যাঙ্ক তালিকায় নাম ওঠে তাঁর। তবে দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করেও নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও চিঠিপত্র পাননি। দুর্ভাগ্যবশত, ২০০৮ সালে সেই চাকরির তালিকার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। বয়সের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় চাকরির সমস্ত আশা ত্যাগ করেছিলেন আবদুল। কিন্তু তালিকার মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮ বছর পর হঠাৎ করেই শিকে ছিঁড়ল ষাটোর্ধ্ব আবদুলের। তিনি যে পদের জন্য আবেদন করেছিলেন, সেটির একটি অ্যাডভাইস মেমো এসে পৌঁছোল তাঁর কাছে। চিঠিটি পেয়ে হতবাক হয়ে যান তিনি। সংবাদমাধ্যমে আবদুল জানান, পদটি ১৮ বছর ধরে খালি ছিল। এই দীর্ঘ বিলম্বের কারণে আমি চাকরির সুযোগটি হারিয়েছি। এখন যেহেতু আমি বয়সের সীমা পার করে ফেলেছি, তাই চাকরিটি পাওয়ার আর কোনও সম্ভাবনা নেই।”
আবদুলের ঘটনাটি সমাজমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই অস্বাভাবিক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। সরকারি টালবাহানায় প্রায় দুই দশক পর চাকরির চিঠি পাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেটাগরিকেদের একাংশ। সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার পরামর্শ আবদুলকে দিয়েছেন অনেকেই। এক নেটাগরিক ব্যঙ্গের সুরে লিখেছেন, ‘‘চাকরি কেবল বিলম্বিত হয়েছে, কিন্তু বাতিল হয়নি।”