আফগানিস্তানে ক্ষমতা হস্তান্তর, নতুন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ২০:০৮
Share:

আফগানিস্তানের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন আশরাফ গনি (ডান দিকে)। সঙ্গে নতুন চিফ এগ্‌জিকিউটিভ আবদুল্লা আবদুল্লা। ছবি: এএফপি।

বিনা রক্তপাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হল আফগানিস্তানে। সোমবার কাবুলের রাষ্ট্রপতি ভবনে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন আশরাফ গনি। একই সঙ্গে শপথ নিলেন আবদুল্লা আবদুল্লাও। তিনি নতুন সরকারে চিফ এগ্‌জিকিউটিভ হিসেবে কাজ করবেন।

Advertisement

হামিদ কারজাই-এর পরে কে হবেন আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি তা নিয়ে দীর্ঘ দিন রাজনৈতিক সঙ্কট চলছিল। চলতি বছরেই আফগান প্রেসিডেন্ট পদের নির্বাচন হয়। নির্বাচনের নিয়ম অনুসারে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হতে গেলে কোনও প্রার্থীকে প্রদত্ত ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে হবে। না হলে আবার দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হবে। এ বারের নির্বাচনে প্রথম দফায় সবচেয়ে বেশি ভোট পান আবদুল্লা আবদুল্লা। দ্বিতীয় হন আশরাফ গনি। কিন্তু আবদুল্লা আবদুল্লা ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফার ভোট হয়।

দ্বিতীয় দফার ভোটগণনায় দেখা যায়, এগিয়ে আছেন আশরাফ গনি। তখন ভোটে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তোলেন আবদুল্লা আবদুল্লা। দু’পক্ষের প্রতিবাদ, মিছিল, পাল্টা-মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে কাবুল-সহ গোটা আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত স্থির হয়, কাবুলে আবার ভোটগণনা হবে। এই ভোটের অডিটের জন্য সারা দেশ থেকে কাবুলে ব্যালটবক্স নিয়ে আসা হয়। সেখানেও দেখা যায় গনিই এগিয়ে আছেন। ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকার করেন আবদুল্লা আবদুল্লা। এর পরে আমেরিকা ও রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রবল চাপে দু’প্রার্থী একত্রে যৌথ সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। গনি প্রেসিডেন্ট হলেন, আবদুল্লা চিফ এগ্‌জিকিউটিভ।

Advertisement

শপথ নেওয়ার পরে আশরাফ গনি বলেন, “আমি আপনাদের থেকে উন্নত কেউ নই। যদি আমি ভাল কাজ করি, তবে সমর্থন করবেন। ভুল করলে, ঠিক করে দেবেন।” আমেরিকায় অর্থনীতিতে প্রশিক্ষিত গনি, হামিদ কারজাই-এর মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বিশ্বব্যাঙ্কেও কাজ করেছেন। কিন্তু গনি যে সময়ে আফগানিস্তানের দায়িত্ব নিচ্ছেন তখন পরিস্থিতি যথেষ্ট সঙ্কটজনক। অর্থনীতির খারাপ অবস্থা, বিদেশি সাহায্য প্রায় বন্ধ, উন্নয়নের কাজ থমকে গিয়েছে এবং হিংসাত্মক ঘটনা ক্রমবর্ধমান। সব কিছু ছাপিয়ে গিয়েছে তালিবানের পুনরুজ্জীবন। আগামী ডিসেম্বরে মার্কিন এবং ন্যাটো-র সেনা সরে যাওয়ার পরে আফগানিস্তানের নিরাপত্তার আরও অবনতি হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। এ দিনের শপথ গ্রহণের আগেই আফগানিস্তানে পর পর বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে তালিবানেরা। এর মধ্যে পাকতিয়া-র সরকারি দফতরের হামলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

পাশাপাশি গনি ও আবদুল্লার মধ্যে সমঝোতা হলেও তা কত দিন থাকবে তা নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে। চিফ এগ্‌জিকিউটিভ আবদুল্লার ক্ষমতা প্রায় প্রধানমন্ত্রীর সমান। এতে সরকারের মধ্যেই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। তবে এই ক্ষমতার হস্তান্তরে খুশি হামিদ কারজাই। তিনি জানান, কাল গনির হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে তিনি সাধারণ নাগরিকের মতো জীবনযাপন করবেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement