ভোট প্রচারে এসে সেই সারদাই হাতিয়ার অমিত শাহের

‘দিদি’র সরকার ক্ষমতায় এসেছিল নন্দীগ্রাম কাণ্ডকে সামনে রেখে। এ বার সারদা কাণ্ডকে হাতিয়ার করে রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। রবিবার বিজেপির রাজ্য কমিটির বৈঠকে শাসক দলকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তিনি। লক্ষ্য ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রণকৌশল ঠিক করতে রাজ্য কমিটির সঙ্গে প্রস্তুতি পর্ব সেরে নিতে শনিবারই কলকাতায় এসে পৌঁছন অমিত শাহ। নির্বাচনের জন্য বিজেপিও যে সব রকম ভাবে প্রস্তুত এ দিন সে কথা জানাতেও ভোলেননি তিনি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ১২:৫৮
Share:

রাজ্য কমিটির বৈঠকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। রবিবার সুমন বল্লভের তোলা ছবি।

‘দিদি’র সরকার ক্ষমতায় এসেছিল নন্দীগ্রাম কাণ্ডকে সামনে রেখে। এ বার সারদা কাণ্ডকে হাতিয়ার করে রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। রবিবার বিজেপির রাজ্য কমিটির বৈঠকে শাসক দলকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তিনি। লক্ষ্য ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রণকৌশল ঠিক করতে রাজ্য কমিটির সঙ্গে প্রস্তুতি পর্ব সেরে নিতে শনিবারই কলকাতায় এসে পৌঁছন অমিত শাহ। নির্বাচনের জন্য বিজেপিও যে সব রকম ভাবে প্রস্তুত এ দিন সে কথা জানাতেও ভোলেননি তিনি। এ বারের লোকসভা নির্বাচনে শতকরার হিসাবে রাজ্যে বিজেপির ফল অনেক ভাল। দলীয় সূত্রে খবর, কেন্দ্রে মোদী ক্ষমতায় আসার পর এ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে দলে যোগ দিচ্ছেন। শুধু সাধারণ মানুষই নন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি জগতের বহু ব্যক্তিত্ব ইতিমধ্যে দলে নাম লিখিয়েছেন। চৌরঙ্গি বিধানসভা উপ-নির্বাচনের বিজেপি প্রার্থী রীতেশ তিওয়ারির হয়ে প্রচারে এলেও অমিত শাহের মূল লক্ষ্য রাজ্যে বিজেপির জমি আরও শক্ত করা। সামনেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন। সেখানেও এ বার ‘দাঁত ফোটাতে’ চাইছে বিজেপি। দলের সাংগঠনিক শক্তি খতিয়ে দেখতে সে কারণেই মাঝে মধ্যেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ রাজ্যে সফর করছেন বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা। অমিত শাহের এ দিনের বক্তব্যে সারদা কাণ্ড তো ছিলই, পাশাপাশি বেকারত্ব, মহিলাদের সুরক্ষা এবং রাজ্যে বেহাল সড়ক ব্যবস্থা নিয়েও মমতাকে এক হাত নেন তিনি। শুধু তাই নয়, মোদীর পথ অনুসরণ করেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়েও রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি।

Advertisement

বৈঠকের আগে এ দিন সকাল দশটায় অমিত শাহ দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে যান পুজো দিতে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ। মন্দিরে মিনিট পনেরো সময় কাটান তিনি। মন্দিরের নিরাপত্তা নিয়েও একপ্রস্থ আলোচনা করেন। দক্ষিণেশ্বর দেবত্র এস্টেটের সম্পাদক কুশল চৌধুরী মন্দিরের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অমিত শাহের কাছে আর্জি জানান। তিনি এ বিষয়ে আশ্বাসও দেন বলে মন্দির সূত্রে খবর। কুশলবাবু জানান, দেশের যে সমস্ত ধর্মীয় স্থানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর চূড়ান্ত সতর্কাবার্তা জারি করেছে দক্ষিণেশ্বর মন্দির সেই তালিকায় রয়েছে। অথচ মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন রাজ্য পুলিশের তিন জন হোম গার্ড ও এক জন এএসআই। নিরাপত্তার দায়িত্ব যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে দেওয়া হয় অমিত শাহের মাধ্যমে সে বার্তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ দিন অমিত শাহের কর্মসূচিতে দক্ষিণেশ্বরের পাশাপাশি বেলুড় মঠ পরিদর্শনেরও কথা ছিল। দলীয় সূত্রে খবর, বিশেষ কারণে তাঁর বেলুড় মঠের কর্মসূচি বাতিল করা হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement