লাভপুর-কাণ্ডে পুলিশ আদৌ কোনও তদন্ত করেছে কি না, বৃহস্পতিবার সেই প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত। ওই মামলায় অন্যতম মূল অভিযুক্ত বীরভূমের লাভপুরের তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। যাঁকে বুধবার বর্ধমানে মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী সভার মঞ্চে দেখা গিয়েছিল।
বিচারপতি দত্তের নির্দেশ, পুলিশ কী ভাবে চার বছর আগেকার ওই ঘটনার তদন্ত করেছে, তা তদন্তকারী অফিসারকে নিজ মুখে তাঁর এজলাসে দাঁড়িয়ে জানাতে হবে। শুক্রবারই হাইকোর্ট তলব করেছে ওই তদন্তকারী অফিসারকে। শুনানির সময় রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে এজলাসে উপস্থিতি থাকতে হবে বলেও এ দিন নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
সরকারি আইনজীবী এ দিন আদালতে একটি তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট পেশ করেন। সেই রিপোর্টে পুলিশ জানায়, তারা যে ৯ জনের জবানবন্দি নিয়েছে, তারা সবাই মনিরুলকে নির্দোষ বলেই জানিয়েছেন। বিচারপতি দত্ত জানতে চান, যে পরিবারের তিন ভাই মারা গেলেন, তাঁদের চতুর্থ জনও ঘটনাস্থলে ছিলেন। পুলিশ তাঁর জবানবন্দি নিয়েছে কি? তদন্ত রিপোর্টে অবশ্য তাঁর জবানবন্দি নেওয়ার বিষয়টির কোনও উল্লেখই নেই।
বিচারপতি দত্তের মন্তব্য, রিপোর্ট দেখে মনে হচ্ছে, কোনও তদন্তই হয়নি। যাঁর ভাইকে পিটিয়ে মারা হল, তাঁর জবানবন্দি কোথায়? কী ভাবে ওই জবানবন্দি ছাড়া রিপোর্ট তৈরি হল, তা জানতে চান বিচারপতি দত্ত। ঘটনার তদন্তকারী অফিসার এবং রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে তা শুক্রবারই আদালতকে জানাতে হবে। ২০১০ সালে সালিশি সভায় ডেকে এনে তিন ভাইকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ওঠার চার বছর পরেও মনিরুলের বিরুদ্ধে কেন চার্জশিট দেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলেছিল কলকাতা হাইকোর্ট।