স্কুলে চোর ঢুকে চুরি করে নিয়ে গেল ৯টি সিসি ক্যামেরা। স্টাফরুমের ৪৮টি লকার ভাঙচুর করে নিয়ে গিয়েছে কিছু টাকাপয়সা ও কাগজপত্র। খাতাপত্র ছড়িয়েছিটিয়ে ফেলা হয়েছে মেঝেতে। সবই হয়েছে, কিন্তু চোরের এই সব কাণ্ডকারখানার ছবি উঠে গিয়েছে স্কুলে লাগানো অন্য নাইট ভিশন ক্যামেরায়। তাতেই ধরা পড়েছে জামাকাপড় পরা, মুখে মাফলার জড়ানো, হাতে দস্তানা পরা চোরের ছবি!
বুধবার গভীর রাতে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে মধ্য হাওড়ার তারাসুন্দরী বালিকা বিদ্যালয়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উচ্চমাধমিক স্তরের এই বালিকা বিদ্যালয়ে দু’টি ভবন রয়েছে। মূলত রাতে স্কুলে নজরদারি ও পড়ুয়াদের উপরে নজর রাখার জন্য গত জুন মাসে ওই দু’টি ভবনে মোট ৬৪টি নাইট ভিশন সিসি ক্যামেরা লাগান স্কুল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার ভোরে স্কুলের সাফাইকর্মী কাজ করতে এসে দেখতে পান, স্কুলের কোলাপসিবল গেটের তালা ভাঙা। গেটও অনেকটা খোলা। এই দৃশ্য দেখেই ওই সাফাইকর্মী স্কুলের এক করণিককে ফোন করে খবরটা জানান। তিনি এর পর সকলকে খবর দেন। ভোর ৬টা নাগাদ খবর পেয়ে স্কুলে ছুটে আসেন স্কুল সম্পাদক পীযূষকান্তি মুখোপাধ্যায় ও প্রধান শিক্ষিকা সুস্মিতা রায়। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় ব্যাঁটরা থানায়।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানায়, ওই স্কুল থেকে মোট ৯টি ক্যামেরা চুরি হয়েছে। চোর সংখ্যায় এক জনই ছিল। স্কুলের মাঠে লাগানো কামোরায় ধরা পড়েছে রাত ১টা ২৬ মিনিটে পাশের একটি কোচিং সেন্টারের পাঁচিল টপকে ঢুকেছিল চোর। তার মুখে মাফলার জড়ানো ছিল। হাতে ছিল দস্তানা। কোমরে ছিল চওড়া বেল্ট। ভদ্রস্থ পোশাক পরা চোরটির মুখ একবারই দেখা গিয়েছে সিসি ক্যামেরায়। তা দেখেই পুলিশ ওই দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চোর যে সিসি ক্যামেরা সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল এবং তার লক্ষ্য যে ওই ক্যামেরা চুরি তা অন্য ক্যামেরায় ওঠা ফুটেজে তার কার্যকলাপ দেখে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। কারণ, রাতে চালু থাকা ক্যামেরাগুলি দেওয়াল থেকে খোলার আগে তাঁর ছবি যাতে ক্যামেরায় না এসে যায় সেই কারণে ক্যামেরার লেন্সে জোরালো টর্চের আলো ফেলে প্রত্যেকটি ক্যামেরা খোলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ৯টি ক্যামেরা খোলার পর চোর স্টাফরুমে ঢুকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ৪৮টি লকার ভাঙচুর করে। সেখান থেকে টাকাপয়সাও চুরি করে। পুলিশ জানায়, চোর যে রাত ২টো ৫৮ মিনিট পর্যন্ত স্কুলে ছিল ফুটেজে তার প্রমাণও মিলেছে। কিন্তু এর পর সে কোন দিক দিয়ে কখন পালিয়েছে তা জানা যায়নি। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বলেন, “এই ঘটনায় আমরা যথেষ্ট চিন্তিত। চোর সিসি ক্যামেরা চুরি করতে এসেছিল না আরও কোনও ক্ষতি করতে এসেছিল তা বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে কিছু কাগজপত্রও খোয়া গিয়েছে। পুলিশকে বিস্তারিত তদন্ত করার আবেদন জানিয়েছি।”