Jal jeevan Mission

ফল প্রকাশের দিনেই জল-জীবনের বরাদ্দ

প্রকল্প নিয়ে বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের বিস্তর টানাপড়েন চলেছিল। প্রকল্পের ‘ব্র্যান্ডিং’ বা নামকরণ-প্রচার ইত্যাদি বিষয়ে কেন্দ্রের বিধি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছিল রাজ্যের বিরুদ্ধে।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ০৮:০৪
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

‘পিএম টু সিএম’—একযোগে কাজ করার বার্তা ভোট প্রচারেই দিয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঘটনাচক্রে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরেই ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পে প্রায় ২৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হয়েছে। কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সেই সিদ্ধান্ত নথিবদ্ধ হয়েছে ৩০ এপ্রিল। নবান্ন তা হাতে পেয়েছে সোমবার। সে দিনই ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল। আধিকারিকদের মতে, প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় চালু হওয়ার কথাই ছিল। সময়টা নেহাৎই ঘটনাচক্র।

কেন্দ্র জানিয়েছে, এই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের (জল জীবন মিশন-২.০) কাজ শুরু হচ্ছে শীঘ্রই। চলতি আর্থিক বছরে (২০২৬-২৭) সেই প্রকল্পে এ রাজ্যের জন্য বরাদ্দ হচ্ছে ২৭৭৫.৪৩ কোটি টাকা। প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশের মতে, অতীতে একসঙ্গে এত বড় অঙ্কের বরাদ্দ হতে দেখা যায়নি। ওই বরাদ্দের মধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ২০৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। কারণ, রাজ্য সরকার গত আর্থিক বছরে এই প্রকল্পের কাজে অগ্রিম অর্থ বরাদ্দ করেছিল। একই সঙ্গে, কেন্দ্র জানিয়ে দিয়েছে, প্রকল্পের অগ্রগতি, খরচের মান, কেন্দ্রীয় বিধি-নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, সব আগের মতোই খতিয়ে দেখা হবে পৃথক ভাবে। পাশাপাশি, দ্বিতীয় পর্যায়ের ওই কাজের পরিকল্পনা রাজ্যকে তৈরি করতে বলেছে কেন্দ্র। তার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে টাকা পাঠাবে তারা।

এই প্রকল্প নিয়ে বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের বিস্তর টানাপড়েন চলেছিল। প্রকল্পের ‘ব্র্যান্ডিং’ বা নামকরণ-প্রচার ইত্যাদি বিষয়ে কেন্দ্রের বিধি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছিল রাজ্যের বিরুদ্ধে। পরে অবশ্য রাজ্য সে সব মেনে নেয়। কিন্তু দীর্ঘদিন প্রকল্পের বরাদ্দ বন্ধ ছিল পশ্চিমবঙ্গ-সহ সব রাজ্যেই। সব রাজ্যে এই কাজ শেষ হয়নি বলে আগেই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র। তার পরেও বরাদ্দ বন্ধ থাকায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছিল রাজ্য। তবে নতুন সরকারের আগমনের সঙ্গে কেন্দ্রের বরাদ্দ ছাড়ার সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রের তথ্য বলছে, রাজ্যে প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১.৭৫ কোটি গ্রামীণ বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার কথা ছিল। তার মধ্যে সংযোগ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৯৯.৬৫ লক্ষ বাড়িতে (৫৬.৭৮ শতাংশ)। কাজের অগ্রগতির নিরিখে গোটা দেশে সব রাজ্যের ক্রমতালিকায় পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান শেষ থেকে তৃতীয়। এ বার বিপুল বরাদ্দে সেই কাজে গতি আসবে বলেই মনে করছে আধিকারিক মহল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন