WB Assembly Elections 2026

সাংসদ পদ হারানোর পরেও অধীরের সম্পত্তি বেড়েছে, বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থীর হলফনামায় আর কী কী তথ্য?

৩৫ বছর আগে প্রথম বার বিধানসভা ভোটে লড়েছিলেন অধীর চৌধুরী। মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থেকে ১৯৯১ সালের সেই ভোটে পরাস্ত হয়েছিলেন সিপিএম প্রার্থীর কাছে। পরের বার ১৯৯৬ সালে ওই কেন্দ্র থেকেই জিতে প্রথম বার বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৫২
Share:

অধীর রঞ্জন চৌধুরী। —ফাইল চিত্র।

৩৫ বছর আগে প্রথম বার বিধানসভা ভোটে লড়েছিলেন তিনি। মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থেকে ১৯৯১ সালের সেই ভোটে পরাস্ত হয়েছিলেন সিপিএম প্রার্থীর কাছে। পরের বার ১৯৯৬ সালে ওই কেন্দ্র থেকেই জিতে প্রথম বার বিধায়ক হয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিন দশক পরে আবার বিধানসভা ভোটের ময়দানে তিনি। এ বার বহরমপুর থেকে। মাঝের সময়টায় টানা পাঁচ বার বহরমপুর থেকে লোকসভা ভোটে জিতেছেন তিনি। পেয়েছেন, কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী, লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা, প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদ। কিন্তু ২০২৪ সালে তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের কাছে হারতে হয়েছে তাঁকে। দু’বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয় বার ভোটে লড়তে নেমে বৃহস্পতিবার মনোনয়ন পেশ করেছেন অধীর। তাতেই উঠে এসেছে তাঁর সম্পত্তি এবং মামলা-সহ নানা বিষয় সংক্রান্ত তথ্য।

Advertisement

নির্বাচনী হলফনামায় অধীর জানিয়েছেন, তাঁর হাতে রয়েছে নগদ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা আর তাঁর স্ত্রী অতসীর কাছে ৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। অধীরের চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৬ লক্ষ ৪২ হাজার ৬১১ টাকার পাশাপাশি ৮ লক্ষ ১৫ হাজার ৭০৫ টাকার এসবিআই ফোলিও মিউচুয়াল ফান্ড, ৩ লক্ষ টাকার জীবনবিমা পলিসি রয়েছে। রয়েছে একটি ২২ লক্ষ ২৭ হাজার টাকার গাড়ি এবং ২৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার সোনার গয়না। সব মিলিয়ে অস্থাবর সম্পত্তির অঙ্ক ৪৮ লক্ষ ৪০ হাজার ৬০২ টাকা। অন্য দিকে, দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, এসবিআই ফোলিও মিউচুয়াল ফান্ড, জীবনবিমা পলিসি, একটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকার গাড়ি এবং ১ কোটি ৭৪ হাজার টাকার গয়না-সহ অতসীর মোট অস্থাবর সম্পত্তির অঙ্ক ১ কোটি ২৭ লক্ষ ৮৯ হাজার ৯৩৪ টাকা।

হলফনামায় অধীর জানিয়েছেন, তাঁর উপর নির্ভরশীল সন্তানের ২৭ লক্ষ ৯২ হাজার ৩২৯ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। জমি-বাড়ি-ফ্ল্যাট মিলিয়ে অধীরের স্থাবর সম্পত্তির অঙ্ক ৬ কোটি ৭৩ লক্ষ ১৫ হাজার ৫০০ টাকা। অতসীর স্থাবর সম্পত্তির অঙ্ক ৪ কোটি ৩২ লক্ষ ২৮ লক্ষ ৫০০ টাকা। ৭ লক্ষ ৯১ হাজার টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ-সহ ২৪ লক্ষ ৬২ হাজার টাকার ‘দায়’ রয়েছে অতসীর। তাঁর বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদে দু’টি এবং মালদহ জেলায় একটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলেও হলফনামায় জানিয়েছেন অধীর। তবে চার্জ গঠন হয়নি একটিতেও। সংসদে দীর্ঘদিন হিন্দি এবং ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দে বক্তৃতা করলেও অধীর পড়াশোনা করেছেন নবম শ্রেণি পর্যন্ত!

Advertisement

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের হলফনামায় অধীর জানিয়েছিলেন, তাঁর হাতে রয়েছে নগদ ২ লক্ষ ১১ হাজার টাকা আর তাঁর স্ত্রী অতসীর কাছে ৫ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা। অধীরের একটি এবং তাঁর স্ত্রীর দু’টি গাড়ি ছিল সে সময়। ২০২৪-এ অধীরের মোট অস্থাবর সম্পত্তি ছিল ৩৯ লক্ষ ৩৫ হাজার ৫৭১ টাকার। অতসীর ছিল ৬৪ লক্ষ ৪১ হাজার ১৪৪ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি। ২০২৪-এ সব মিলিয়ে অধীরের স্থাবর সম্পত্তি ছিল ২ কোটি ৭৮ লক্ষ ৪০ হাজারের। আর ৪৯ লক্ষের স্থাবর সম্পত্তি ছিল স্ত্রী অতশীর। পেশায় ‘রাজনীতিক এবং সমাজকর্মী’ অধীর হলফনামায় উল্লেখ করেছিলেন সাংসদ পদের ভাতা তাঁর মূল আয়ের উৎস। তাঁর স্ত্রী রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি বিশেষ কর্মসূচিতে পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করেন বলেও জানিয়েছিলেন অধীর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement