তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁর (ডান দিকে) পাশে বাপ্পা চন্দ্রাধূর্য। —ফাইল চিত্র।
ভোটের আগে রাতে বুথে ঢুকে ভোটকর্মীদের মারধরে সপ্তাহ ঘুরতে চললেও মূল অভিযুক্ত অধরা। এরই মধ্যে বাঁকুড়ার মালিয়াড়ার সেই ঘটনাকে ‘ছোট ঘটনা’ আখ্যা দিলেন তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। অভিযুক্তকে ‘ভাল ছেলে’ বলে সার্টিফিকেটও দিলেন।
বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্রবাবু শনিবার সকালে প্রতিবেদককে ফোন করে প্রশ্ন করেন, ‘‘মালিয়াড়ার ঘটনা নিয়ে কেন লাগাতার খবর করা হচ্ছে?’’ এর পরে তিনি তৃণমূলের অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য বাপ্পা চন্দ্রাধূর্যকে ‘ভাল ছেলে’ ও ওই হামলা ‘ছোট ঘটনা’ বলে দাবি করেন। তাঁর সাফ কথা, “বাপ্পা ভাল ছেলে। ও তো পৃথিবী উল্টে দেয়নি যে গ্রেফতার করতে হবে।” তাহলে বাপ্পা ফেরার কেন? সাংসদের জবাব, “হয়তো বাইরে বেড়াতে গিয়েছে।”
গত রবিবার রাতে বড়জোড়া বিধানসভা কেন্দ্রের মালিয়াড়ায় পরীক্ষাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে প্রিসাইডিং অফিসার-সহ চার জন ভোটকর্মী প্রহৃত হন। ওই ঘটনায় প্রথমে এফআইআর নেওয়া নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ ওঠে। পরে জেলাশাসকের হস্তক্ষেপে পুলিশ নড়ে বসে। গ্রেফতার করা হয় পাঁচ জনকে। ধৃতেরা এলাকায় বাপ্পার শাগরেদ বলে পরিচিত। তবে শনিবার পর্যন্ত পুলিশ বাপ্পার নাগাল পায়নি।
এই ঘটনায় দলের নাম জড়ানোয় অস্বস্তিতে পড়েছেন বড়জোড়ার তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। জেলা নেতাদের অনেকেও চাইছেন, ঘটনার তদন্ত হোক। তৃণমূল সূত্রে খবর, বাপ্পা সাংসদ সৌমিত্রবাবুর অনুগামী হিসেবে পরিচিত। বিরোধীদের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে সৌমিত্রবাবু চুপ থাকলেও পুলিশকে সক্রিয় হতে দেখে এখন মাঠে নেমে পড়েছেন। বাপ্পাকে বাঁচাতে ‘ছোট ঘটনা’ বলে দাবি করছেন।
দলের মুখ পুড়ছে দেখে এর আগে বহু ক্ষেত্রেই তৃণমূল নেতানেত্রীরা ‘ছোট ঘটনা’র তত্ত্ব দিয়েছেন। পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ-কাণ্ডকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ছোট ঘটনা’ আখ্যা দেওয়া থেকে তার সূচনা। অনেক সময়ে আবার গোলমালে জড়িয়ে পড়া দলের নেতা-কর্মীদের ‘ভাল ছেলে’ বা ‘ভাল মেয়ে’র তকমাও দেওয়া হয়েছে। বিরোধীরা বলছেন, ‘‘ট্র্যাডিশন মেনেই সৌমিত্রবাবু ভোটকর্মীদের মারধরে অভিযুক্ত বাপ্পাকে সেই এক সার্টিফিকেট দিলেন।’’
যদিও এ সব অভিযোগ উড়িয়ে সৌমিত্রবাবু বলেন, “আমি নিজের মতামত জানিয়েছি মাত্র। আইন আইনের পথে চলবে।” জেলার এক পুলিশকর্তা বলেন, “আমরা বাপ্পা-সহ আরও কয়েক জনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছি।”