মুর্শিদাবাদের বড়ঞার বুথে ভোট কারচুপির অভিযোগ। ছবি: পিটিআই।
রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলছে। দিকে দিকে বিক্ষিপ্ত কিছু গন্ডগোলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও ইভিএমে ত্রুটি, কোথাও ভোটগ্রহণে দেরির মতো ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। তার মধ্যেই মুর্শিদাবাদের বড়ঞা বিধানসভায় ভোটের কারচুপির অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, সেখানকার একটি বুথে কোনও প্রার্থীকে ভোট দিলেই তা গিয়ে পড়ছে বিজেপি প্রার্থীর প্রতীকে! এমন অভিযোগকে ঘিরে উত্তপ্ত ওই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত গোদাপাড়া ১৮৬ নম্বর বুথ। এই অভিযোগ উঠতেই ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয় ওই বুথে। যদিও বড়ঞার নির্বাচনী পর্যবেক্ষক উজ্জ্বল সিংহ এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের ঘটনা অসম্ভব। তবুও অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এখন সেখানে ভোটদান স্বাভাবিক আছে।’’
ওই বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী প্রতিমা রজক বলেন, ‘‘এই বিধানসভা কেন্দ্রে ইভিএম মেশিনের ৪ নম্বর বোতামে বিজেপি প্রার্থীর নাম এবং ছবি রয়েছে। আজ সকালে আমরা অভিযোগ পাই, ভোটারsরা যে কোনও দলের প্রার্থীকে ভোট দিলেই সেটি গিয়ে বিজেপি প্রার্থীর প্রতীকে জমা হচ্ছে।’’ তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, বুধবার সকালে গোদাপাড়া ১৮৬ নম্বর বুথে ভোট শুরুর আগে যখন ইভিএম মেশিন পরীক্ষা করা হয়, তখন মেশিন এবং ভিভিপ্যাট সঠিক ভাবে কাজ করেছিল। কিন্তু ভোট শুরুর কিছু ক্ষণ পর থেকেই একাধিক ভোটার ওই বুথ থেকে বেরিয়ে এসে তাঁদের জানান, যে প্রতীকেই বোতাম টিপছেন তা গিয়ে জমা হচ্ছে বিজেপি প্রার্থীর খাতায়। তাঁর আরও দাবি, ‘‘আমার নামের পাশে থাকা বোতামে টিপলেও ভিভিপ্যাট থেকে বার হওয়া স্লিপে দেখাচ্ছে ভোটটি পড়েছে বিজেপি প্রার্থীর পক্ষে। আমাদের ধারণা, এর নে বড় কোনও চক্রান্ত রয়েছে।’’
এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার তৃণমূল কর্মীরা। গোদাপাড়া ১৮৬ নম্বর বুথে পৌঁছে যান বড়ঞা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী প্রতিমা। ভোটাররা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক, আধিকারিক এবং ইঞ্জিনিয়াররা ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। তাঁরা ইভিএম মেশিন, ভিপিপ্যাট পরীক্ষা করে দেখেন। প্রসঙ্গত, এ বছর বড়ঞা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রতীকে লড়ছেন সুখেন কুমার বাগদি। এই অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর পাল্টা দাবি, ‘‘হার নিশ্চিত বুঝতে পেরেই এ রকম ভুলভাল বকছেন প্রতিমা রজক। ওখানে তিনি অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করেছিলেন, নির্বাচন কমিশন তৎপর হয়ে ওঁর সেই প্রচেষ্টায় জল ঢেলে দিয়েছে। যে কোনও বোতাম টিপে বিজেপিতে ভোট যাবার দাবি হাস্যকর।’’