BJP

WB election 2021 : পতাকা-যুদ্ধে বিজেপিকে পিছনে ফেলছে শাসক তৃণমূল

দলীয় পতাকা বিক্রির যুদ্ধে অন্তত বিজেপি-কে অনেকটাই পিছনে ফেলে দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

Advertisement

চন্দন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২১ ০৬:১৩
Share:

ভোটবাজার: বিভিন্ন দলের প্রতীক আঁকা পতাকা থেকে শুরু করে ছাতা, টি-শার্ট, শাড়ি— বিকোচ্ছে সবই। শনিবার, বড়বাজারে। নিজস্ব চিত্র।

রাজ্যের ক্ষমতা কোন রাজনৈতিক দলের হাতে থাকবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২ মে পর্যন্ত। কিন্তু তার আগে, দলীয় পতাকা বিক্রির যুদ্ধে অন্তত বিজেপি-কে অনেকটাই পিছনে ফেলে দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বড়বাজারে ঘুরে দেখা গেল তেমনটাই। এ বছর দেদার বিকোচ্ছে ‘খেলা হবে’ গেঞ্জি। বিজেপি থেকে তৃণমূল— সব দলের কর্মী-সমর্থকেরাই কিনছেন সেই গেঞ্জি। পাশাপাশি, পাল্লা দিয়ে বিক্রি হচ্ছে ছাতা, শাড়ি ও টুপি।

Advertisement

এ রাজ্যে ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। আগামী ২৭ মার্চ প্রথম দফায় পুরুলিয়ার ন’টি এবং বাঁকুড়ার চারটি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। কলকাতায় ভোটগ্রহণ হবে সপ্তম ও অষ্টম দফায়। ইতিমধ্যে সব দলই নিজেদের প্রার্থী-তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে। প্রচারেও নেমে পড়েছেন প্রার্থী ও নেতা-কর্মীরা। সব দলই বিভিন্ন এলাকা ভরিয়ে তুলছে নিজেদের পতাকায় ও ফেস্টুনে। ডান-বাম-গেরুয়া— ভোটের ময়দানে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও রাজি নয় কেউ।

বড়বাজারের বিভিন্ন দোকানে অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই ছবি উধাও। সেখানে একই দোকানে পাশাপাশি বিকোচ্ছে বিজেপি-তৃণমূল এবং বামেদের পতাকা। শহর ও শহরতলি থেকে বিভিন্ন দলের কর্মী-সমর্থকেরা ভিড় করছেন সেখানে। পাশাপাশি বসেই নিজেদের দলীয় পতাকা কিনছেন তাঁরা। ব্যবসায়ীরা জানালেন, প্রতিদিনই বাড়ছে পতাকার চাহিদা। সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকেরা বড়বাজারের বিভিন্ন দোকানে পতাকা কিনতে চলে আসছেন। রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও এখান থেকে বিভিন্ন দলের পতাকা, টুপি, শাড়ি, ছাতা পাঠানো হচ্ছে।

Advertisement

লেক টাউন থেকে তৃণমূলের পতাকা কিনতে এসেছিলেন রবি গুপ্ত। তিনি বললেন, ‘‘আগেই পতাকা নিয়ে গিয়েছিলাম। আজ আবার এলাম পতাকা ও টুপি কিনতে। বিরোধীদের এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া যাবে না। তাই দলের তরফে আবার পতাকা আর টুপি কিনতে পাঠিয়েছে।’’ সোনারপুর থেকে এসেছিলেন জনা কয়েক বিজেপি সমর্থক। দলীয় পতাকা ও শাড়ি কিনে দোকান থেকে বেরোলেন তাঁরা। এক জন তো আবার নিজের মাথাতেই বেঁধে নিয়েছিলেন পতাকা। তাঁদের সঙ্গে থাকা আশুতোষ সেন বললেন, ‘‘প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই একসঙ্গে সবাই মিলে চলে এসেছি পতাকা, ছাতা আর
শাড়ি কিনতে। দরদাম করে সব
কিনলাম। দোকানে যা ভিড়, ভিতরে ঢুকতেই তো প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’’

বড়বাজারের ব্যবসায়ীরা জানালেন, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই দোকানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের ভিড় বাড়ছে। পতাকার বিক্রি সব থেকে বেশি। তবে এ বছর সুপার হিট ‘খেলা হবে’ গেঞ্জি। পতাকা যে দলেরই হোক, দাম একই। তবে আয়তন বড়-ছোট হলে সে ক্ষেত্রে দামের তারতম্য হচ্ছে। একসঙ্গে ১০০টি পতাকার দাম ৪০০ টাকা থেকে শুরু। তবে আয়তনে বড় হলে সেই দাম ৫০০ বা ৬০০ টাকা হয়ে যায়। এ ছাড়া, ‘খেলা হবে’ গেঞ্জি বিকোচ্ছে প্রতিটি ৬০ টাকা দরে। দলীয় প্রতীক আঁকা ছাতা মিলছে ৫৫ টাকায়। শাড়ির দাম ২০০ টাকা। মুরলী পোদ্দার নামে এক দোকান-মালিক বললেন, ‘‘এখন পতাকার চাহিদা খুব বেশি। তৃণমূল, বিজেপি ও সিপিএমের পতাকা, টুপি এবং শাড়ির চাহিদা ভাল। তবে এ বছর ‘খেলা হবে’ গেঞ্জি একেবারে হিট। প্রতিদিন অন্তত চারশো গেঞ্জি বিক্রি হচ্ছে। তবে আইএসএফ ও কংগ্রেসের পতাকার তেমন বিক্রি নেই।’’ আর এক ব্যবসায়ী কিষণ দাগা বললেন, ‘‘তৃণমূল ও বিজেপি-র পতাকার বেশ চাহিদা আছে। তবে লোকসভা ভোটের তুলনায় এ বছর সিপিএমের পতাকার বিক্রি বেড়েছে। প্রতি বছর ভোট হলে অন্তত আমাদের ব্যবসা মন্দ হয় না।’’

Advertisement

দলে দলে রেষারেষি বা সৌজন্যের অভাব যতই থাক, পতাকার বাজারে কিন্তু সদ্ভাবের অভাব নেই। পাশাপাশি বসেই কেনাকাটা করছেন সব দলের কর্মীরা। সেখানে অন্তত ‘আমরা-ওরা’র বিভেদরেখা নেই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement