থানার সামনে বসে বিক্ষোভ বিজেপি নেতা-কর্মীদের —নিজস্ব ছবি।
ভোটের আবহে আবার অশান্ত কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের চান্দামারি এলাকা। বিজেপির এক পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়িতে লুট করে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানার সামনে বিক্ষোভ পদ্মশিবিরের। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
বিজেপির দাবি, শনিবার চান্দামারি অঞ্চলের পঞ্চায়েত সদস্য মহেশ্বর বর্মণের বাড়িতে দলীয় প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বসুর সমর্থনে একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সেই খবর পেয়ে শুক্রবার গভীর রাতে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা মহেশ্বরের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালানোর পাশাপাশি বৈঠকের জন্য তৈরি করা প্যান্ডেল লন্ডভন্ড করে দেয়। এমনকি, আসবাবপত্র লুট করে। শনিবার দুপুরে এ নিয়ে কোচবিহারের কোতোয়ালি থানায় বিক্ষোভ দেখান বিজেপির নেতা-কর্মী এবং সমর্থকরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ঘটনায় জড়িত তৃণমূলের লোকজনকে গ্রেফতার করতে হবে।
এর মধ্যে কোচবিহারে জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে গিয়ে দেখা করে অভিযোগ জানিয়ে আসেন। বিজেপির কোচবিহার জেলার সভাপতি অভিজিৎ বর্মণ, বিজেপির কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বসু এবং বিজেপি নেতা বিরাজ বসু। পঞ্চায়েত সদস্য মহেশ্বরের অভিযোগ, ‘‘রাতে যখন হামলা হয়, আমি বাড়িতে ছিলাম না। ছেলে আর স্ত্রী ছিল। দুষ্কৃতীরা গেট ভাঙতে না পেরে দেওয়াল টপকে বাড়িতে ঢুকে লুটপাট, ভাঙচুর চালায়। আমার স্ত্রীর উপর অত্যাচার করে। রাত ৩টে থেকে সাড়ে ৩টের মধ্যে আবার আমার বাড়ির সামনে গিয়ে বোমাবাজি করে হুমকিও দিয়ে যায়।’’ পুরো ঘটনার জন্য তিনি চান্দামারি অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতিকে দায়ী করেন। উল্লেখ্য, এলাকায় এখন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। তার মাঝে এমন অশান্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
অন্য দিকে, কোচবিহারে তৃণমূলের দক্ষিণের প্রার্থী তথা শাসকদলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের দাবি, ‘‘সম্পূর্ণ সাজানো ঘটনা। গুছিয়ে মিথ্যা মামলা যে হতে পারে, সে নিয়ে আগেই আমরা অনুমান করেছিলাম। সেটাই সত্যি হল। এ সব করে কোন লাভ হবে না। কোচবিহারের ন’টি আসনে জিতবে তৃণমূল।’’