—প্রতীকী চিত্র।
যে আধিকারিককে ভোট-পর্বে জেলার আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল তাঁরই নাম। শনিবার রাতে পূর্ব বর্ধমানের রায়না বিধানসভার ২৩৯ অংশের ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ হতে দেখা যায়, তাতে বাতিলের তালিকায় ১৪৭ নম্বরে নাম রয়েছে শেখ মহম্মদ ইরফান হাবিবের। রায়নার মাধবডিহির বাসিন্দা হাবিব বীরভূম জেলার সংখ্যালঘু উন্নয়ন আধিকারিক হিসেবে কর্মরত। আপাতত কমিশনের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রশাসনে বীরভূমের ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (ল অ্যান্ড অর্ডার) হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত। এমন এক আমলার নাম বাদ যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের অন্দরেও। ইরফান হাবিব সংবাদমাধ্যমের কাছে সরাসরি মুখ খোলেননি। তবে টানা ১৬ বছর সরকারি চাকরি এবং কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পরে কী ভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেল, সে নিয়ে ঘনিষ্ঠ মহলে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বলে প্রশাসন সূত্রের দাবি।
জানা গিয়েছে, কর্মজীবনের প্রথম ছ’বছর পুলিশ সার্ভিসে ছিলেন হাবিব। পরে ডব্লিউবিসিএস (এগ্জ়িকিউটিভ) দিয়ে দশ বছর চাকরি করছেন। নামের বানানে ফারাকের জন্য এসআইআরে যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির তালিকায় তাঁর নাম ছিল। সূত্রের দাবি, শুনানিতে নথি জমা দিলেও, নাম বাদ পড়ায় তিনি বিরক্ত। ট্রাইবুনালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যদের নাম রয়েছে তালিকায়। এর আগে এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, প্রাক্তন সাংসদের নাম বাদ যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
বীরভূম জেলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কোনও নিয়ম না মেনে সংখ্যালঘুদের বাদ দেওয়া হচ্ছে।” বিজেপির বীরভূম সাংগঠমিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “নাম বাদের জন্য বিজেপি দায়ী নয়। রাজ্য সরকারের আধিকারিক হলেও, ওঁদের হাতেই তো কমিশন দায়িত্ব দিয়েছে। বাকিটা সুপ্রিম কোর্ট ও বিচার বিভাগ দেখছে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে