জাতীয় নির্বাচন কমিশন। —ফাইল চিত্র।
বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের সংশোধনাগারগুলিকে ‘স্পর্শকাতর অঞ্চল’ (সেনসেটিভ জ়োন) হিসাবে ধরে নজরদারির নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি কমিশনের নির্দেশ— জেলের প্রতিটি অংশে ‘সারপ্রাইজ় চেকিং’ (হঠাৎ তল্লাশি) করতে হবে। ওয়ার্ড, ব্যারাকে তল্লাশি চালাতে হবে।
জেলের ভিতর থেকে বন্দিদের একাংশ মোবাইলে ভোট নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে কমিশন। তাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নিয়মিত এবং ঘন ঘন চেকিং করতে হবে যাতে বাইরে যোগাযোগ আটকানো যায়। নজর রাখতে হবে ভোটে প্রভাব ফেলতে কোনও পরিকল্পনা হচ্ছে কি না। সেই সঙ্গে কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, কোনও বন্দিকে প্যারোলে মুক্তি বা অস্থায়ী ছুটি দেওয়া যাবে না। কোনও কারণে দিতে হলেও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের লিখিত অনুমতি লাগবে।
সব জেলে থাকা জ্যামারগুলির ১০০ শতাংশকে কাজ করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়ে কমিশন বলেছে, প্রতি দিন সেগুলি পরীক্ষা করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, জেলের ভিতরে কোনও মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকে। নিয়মিত তল্লাশি করে মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, চার্জার, নগদ টাকা, মদ, মাদক এবং অন্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করতে হবে। বিশেষ করে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে এবং ভোটের দিন তল্লাশি আরও কড়া করতে হবে।
ওই সব নির্দেশ পালন হয়েছে কি না সপ্তাহে দু’বার সেই বিষয়ে কমিশনে রিপোর্ট পাঠাতে হবে বলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারের (সিইও) দফতরের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, রিপোর্টে উল্লেখ করতে হবে, কতগুলি ‘সারপ্রাইজ় চেকিং’ হয়েছে, কতগুলি জ্যামার পরীক্ষা হয়েছে, কী কী জিনিস বাজেয়াপ্ত হয়েছে এবং কী পদক্ষেপ করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভাবে ভোটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই সংশোধনাগারগুলিকে এমন পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।