WB Assembly Elections 2026

পুনর্নির্বাচন আর ‘ব্যতিক্রম’ নয়, গুরুতর বেনিয়ম ধরা পড়লেই বুথের ভোটদানপর্ব বাতিল করে দেওয়া হবে! ঘোষণা কমিশনের

অতীতে খুব বেশি সংখ্যক বুথে পুনর্নির্বাচন দেখা যায়নি। প্রিসাইডিং অফিসারের রিপোর্টের ভিত্তিতেই কোনও বুথে পুনর্নির্বাচন করে কমিশন। এ বার কমিশন স্বতঃপ্রণেোদিত ভাবেও সেই সিদ্ধান্ত নেবে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ১৯:৫১
Share:

ভোটকেন্দ্রের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। —ফাইল চিত্র।

পুনর্নির্বাচন নিয়ে এ বার সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে ফেলছে নির্বাচন কমিশন। এত দিন ‘ব্যতিক্রমী’ কিছু ক্ষেত্রেই পুনর্নির্বাচন করা হত। এ বার সেই ধারণা পুরো বদলে দিতে চলছে কমিশন। কোথাও কোনও ভয় দেখানো বা ভোট দানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলেই সেখানে পুনর্নির্বাচন করা হবে। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে কমিশন এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখেই এগোচ্ছে। কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, “আগে রিপোল ছিল ব্যতিক্রমী। এখন সেটিকেই জরুরি ভিত্তিতে করা হবে।”

Advertisement

১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে পুনর্নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া রয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে কোন বুথে বা ভোটকেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হতে পারে, তা স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ রয়েছে তাতে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমিশনেরই।

অতীতের নানা নির্বাচনে রাজ্যের বিভিন্ন বুথে ভোটারদের ভয় দেখানো, ছাপ্পা, ভোটদানে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ তুলেছে রাজনৈতিক দলগুলি। তবে খুব বেশি সংখ্যক বুথে পুনর্নির্বাচন দেখা যায়নি। প্রিসাইডিং অফিসারের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পুনর্নির্বাচন করে কমিশন। এ বার কমিশন স্বতঃপ্রণেোদিত ভাবেও সেই সিদ্ধান্ত নেবে।

Advertisement

এ বারে কমিশনের যা দৃষ্টিভঙ্গি, তাতে কোথাও গুরুতর বেনিয়ম হয়েছে বলে যদি মনে করে কমিশন, তা হলেই কড়া পদক্ষেপ করার আভাস মিলেছে। এই অবস্থায় বুথগুলি থেকে উঠে আসা অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুনর্নির্বাচনের মধ্যে হারও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কমিশন জানাচ্ছে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৫৮ (এ) ধারায় যদি কোথাও বুথদখল হয়, তবে সেখানে ভোট বাতিল করা হবে। এবং পুনর্নির্বাচন করা হবে। একই রকম ভাবে কোথাও ভোটারদের বাধা দেওয়া হলে, সে ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বুথে ভোট বাতিল করা হবে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৩৫ (এ) ধারা অনুযায়ী, কোথাও জোর করে বুথ দখল, ভোট দিতে বাধা দেওয়া, রাস্তা আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠলে, সে ক্ষেত্রেও পুনর্নির্বাচন হবে।

এই ক্ষেত্রে কেউ যদি হুমকির কারণে ভোট দিতে যেতে না পারেন, তিনি বাড়িতে বসেও কমিশনের কাছে বা পর্যবেক্ষকের কাছে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারেন। ভোট দিতে ইচ্ছুক কোনও ব্যক্তি হুমকির মুখে বাড়ি থেকে বেরোতে না-পারলে, সে ক্ষেত্রেও কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। বলে দেওয়া হয়েছে, এ ক্ষেত্রেও ওই বুথে পুনর্নির্বাচন করা হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন এ-ও জানিয়ে দিয়েছে, কোনও ধরনের হুমকি, অশান্তি, ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলে ওয়ারেন্ট (গ্রেফতারি পরোয়ানা) ছাড়াই পুলিশ গ্রেফতার করতে পারবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement