—প্রতীকী চিত্র।
তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির (এলডি) আওতায় বাদ পড়া ভোটারদের অনেকেরই গভীর উৎকণ্ঠা রয়েছে। কারণ, সর্বশেষ ভোটার তালিকায় নাম তোলার সময় প্রায় শেষ। প্রথম দফার ১৫২টি আসনে (২৩ এপ্রিল) ভোট হওয়ার আগে আজ ২১ এপ্রিল, মঙ্গলবার পর্যন্ত বাদ পড়াদের আর্জি স্বীকৃতি পেলে তাঁদের সর্বশেষ ভোটার তালিকায় নাম উঠবে বলে জানিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। এই আবহে সোমবার পর্যন্ত কার্যত লোহার দুর্গের চেহারা নিয়েছে জোকায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত বিচার বিভাগীয় ট্রাইবুনালের অফিস।
সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, “ট্রাইবুনাল যাঁদের ছাড়পত্র দেবে, তাঁদের নাম আমরা ভোটার তালিকায় উঠিয়ে দেব। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ২১ তারিখ পর্যন্ত যাঁদের নাম ট্রাইবুনালে ছাড়পত্র পাবে, তাঁদের নাম ২২ তারিখে ভোটার তালিকায় উঠে যাবে। তাঁদের জানিয়েও দেওয়া হবে। তাঁরা ২৩ তারিখ ভোট দিতে পারবেন। এ জন্য আমরা প্রস্তুত।”
কিন্তু আজ, মঙ্গলবার পর্যন্ত ক’জনের নাম আদৌ ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে? কমিশনের একটি সূত্র দাবি করেছে, ট্রাইবুনাল কী ভাবে কাজ করবে, তার সবিস্তার বিধি (এসওপি) তৈরি হয়েছে সম্প্রতি। সম্ভবত আজ, মঙ্গলবার থেকে শুনানির নোটিস পাঠানোর কাজ শুরু হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভোটার (প্রয়োজনে আইনজীবী-সহ) সেই শুনানিতে হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে পারবেন। কিন্তু নোটিস পাঠানো শুরু হলেও, তা কাছের বা দূরের জেলায় সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছতে হবে। শুনানি হবে এবং তার পরে সিদ্ধান্ত হবে, তিনি যোগ্য না অযোগ্য।সেই দিক থেকে আজ,মঙ্গলবারের মধ্যে প্রথম দফার ভোটের জন্য আদৌ কত জনের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকের মধ্যে। দ্বিতীয় দফার জন্যও হাতে রয়েছে আর মাত্র ছ’দিন। তার মধ্যেও কত জনের নিষ্পত্তি সম্ভব, তা নিয়ে চর্চা চলছে।
এ দিন ডায়মন্ড হারবার রোডের উপর কেন্দ্রের জলসম্পদ দফতরেতৈরি ট্রাইবুনালের অফিসে গিয়ে দেখা গেল, আঁটোসাটো নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে ভবনটি। অনুমতি ছাড়া লোহার ব্যারিকেড পার হয়ে মূল ফটক পর্যন্ত পৌঁছনো কার্যত অসম্ভব। স্থানীয়দের চলাফেরা জারি রয়েছে। কিন্তু দুর্গের অন্দরে কী ঘটছে, কৌতূহল নিরসনের উপায় নেই। ওই অফিস চত্বরের অদূরে অস্থায়ী চায়ের দোকানের মালিক এ দিন জানান, সকালের দিকে কিছু মানুষ আসেন খোঁজখবর করতে। কিন্তু মূল অফিসে যাওয়ার সুযোগ নেই। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেই ফিরতে হয় তাঁদের। মঙ্গলবারও কয়েক জন আইনজীবীকে দেখা গিয়েছিল ওই অফিসের সামনে। তবে তাঁরাও ঢুকতে পারেননি। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ আধিকারিকও দুপুরে বললেন, “অনুমতি থাকলে তবেই অফিসে যাওয়া যাবে। এখনও তেমন অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিচারপতিরা ভিতরেই রয়েছেন। এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।”
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানলে, প্রথম দফার আগে ট্রাইবুনালে বিবেচিত হয়ে ভোটার তালিকায় নাম ওঠার সময় শেষ হচ্ছে আজ, মঙ্গলবারে। দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনে ২৯ এপ্রিল ভোটের আগে সেই সময়সীমা রয়েছে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে এখনও পর্যন্ত ট্রাইবুনালের কাজকর্মের অগ্রগতি কত দূর এগিয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি। কমিশন সূত্রের বক্তব্য, এই ভার ট্রাইবুনালের। সার্বিক ন্যায় বিচারের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে বলে কমিশন এই কাজে ঢুকতে পারছে না। একটি ড্যাশবোর্ড তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে। সেটা হলেই বোঝা যাবে অগ্রগতি। তবে সেটা বিচারপতিদের সিদ্ধান্তের উপরে নির্ভরশীল। অর্থাৎ, এতে ফের একবার দায় ঠেলাঠেলির আভাস পাচ্ছেন অনেকেই।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে