আইএসএফের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করছেন নওশাদ সিদ্দিকী। নিজস্ব চিত্র।
বিধানসভা ভোটের মুখে বামেদের জোট-জটিলতা কাটার বদলে আরও বেড়ে গেল!
বামেদের সঙ্গে সমঝোতা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রথম পর্যায়ে ২৩টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী ঘোষণা করল ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। বামেরা আগে প্রার্থী দিয়েছে, এমন তিন আসন পাঁশকুড়া পশ্চিম, নন্দীগ্রাম ও মুরারইয়ে সোমবার প্রার্থী দিয়েছে আইএসএফ। তার পাশাপাশি, বাম শরিকদের সঙ্গে সিপিএমের আলোচনা চলছে, সেই ধরনের আসনও রয়েছে আইএসএফের তালিকায়। আইএসএফের চেয়ারম্যান ও ভাঙড়ের প্রার্থী নওসাদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, বামেদের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য তাঁরা আরও দু’দিন হাতে রাখছেন। পরবর্তী পর্যায়ের তালিকা ঘোষণা হবে কাল, বুধবার।
আইএসএফের এমন ঘোষণায় স্বভাবতই ক্ষোভ বেড়েছে বাম শিবিরে। উত্তর ২৪ পরগনায় ৭টি আসনে আইএসএফের প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে সব চেয়ে বেসি জট পেকেছে। মধ্যমগ্রাম আসন শেষ পর্যন্ত বাম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লককে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সিপিএম। ওই কেন্দ্রে আইএসএফ এ দিন প্রার্থী দিয়েছে। তার পরে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু ও সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে আলোচনা সেরে এসে ফ ব-র উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আইএসএফ মধ্যমগ্রাম না-ছাড়লে তাঁরাও দেগঙ্গায় প্রার্থী দেবেন।
রাজ্যের আরও ১৫টি আসনে এ দিনই প্রার্থী ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। বাম শরিকদের সঙ্গে যে সব আসনে সিপিএমের বোঝাপড়া সম্পূর্ণ হয়েছে, তার ভিত্তিতেই তৃতীয় তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার আসনে আরএসপি-র বদলে এ বার লড়ছে সিপিএম। মাঝে ওই আসন কংগ্রেসকে ছেড়েছিল বামেরা। কোচবিহারের সিতাই এবং কলকাতার শ্যামপুকুর ছাড়া হয়েছে ফ ব-কে। এন্টালিতে প্রার্থী কলকাতা জেলা সিপিএমের পরিচিত নেতা আব্দুর রউফ। পশ্চিম মেদিনীপুরের সুশান্ত ঘোষের পুরনো আসন গড়বেতায় সিপিএম প্রার্থী তপন ঘোষ। তবে এই তালিকাতেও আলিপুরদুয়ারে সিপিএম প্রার্থী দেওয়ায় ক্ষুব্ধ আরএসপি। নদিয়ার রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর জন্যও চাপ বাড়াচ্ছে তারা।
এই পরিস্থিতিতে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘‘বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সবাইকে নিয়েই আমরা চলতে চাই। সংসারে কিছু টানাপড়েন সব সময়েই থাকে। তবে শরিক দল হোক বা অন্য দল, বাস্তব বুদ্ধি রেখেই সিদ্ধান্ত হবে বলে আমরা আশাবাদী।’’
আইএসএফের তালিকায় অশোকনগরে তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, আমডাঙায় বিশ্বজিৎ মাইতি, মধ্যমগ্রামে প্রিয়াঙ্কা বর্মণ, বাদুড়িয়ায় কুতুবুদ্দিন ফতেহি, হাড়োয়ায় পিয়ারুল ইসলাম এবং বসিরহাট উত্তরে মুছা করিমুল্লার নাম রয়েছে প্রার্থী হিসেবে। সদ্য তৃণমূল ছেড়ে আসা আরাবুল ইসলামকে ক্যানিং পূর্ব এবং মফিদুল হক সাহজি (মিন্টু)-কে দেগঙ্গায় টিকিট দিয়েছে আইএসএফ। পাঁশকুড়া পশ্চিম কেন্দ্রে সিপিএমের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি প্রার্থী, সেখানে আইএসএফ দাঁড় করিয়েছে নিহত কুরবান শাহের ভাই আফজ়ল আলি শাহকে। নন্দীগ্রামে সিপিআইয়ের প্রার্থী শান্তি গিরি, সেই কেন্দ্রে আইএসএফের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে মহম্মদ সবে মিরাজ খানকে। বামেদের সঙ্গে সমঝোতার তবে কী পরিণতি হল? নওসাদ বলেছেন, ‘‘বিজেপি ও তৃণমূলকে হারাতে চাই। আমরা ৭ মাস ধরে আলোচনা চালিয়েছি। যেখানে বামফ্রন্ট শক্তিশালী, সেখানে আমরা তাদের সমর্থন করব এবং ষেখানে আইএসএফ পারবে বিজেপি ও তৃণমূলের সঙ্গে টক্কর দিতে, সেখানে বামেরা আমাদের সমর্থন করবে— এটাই চেয়েছি। শেষ মুহূর্তেও কথা বলেছি। তবু সমস্যা মেটানোর জন্য দু’টো দিন হাতে রাখলাম। আমরা বুধবার বাকি তালিকা ঘোষণা করব।’’ বামেদের প্রার্থী আছে, এমন তিন আসনে প্রার্থী দেওয়া প্রসঙ্গে আইএসএফের রাজ্য কার্যকরী সভাপতি সামসুর আলি মল্লিক বলেছেন, ‘‘বামেদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দু’এক দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়ে যাবে।’’
আরাবুল ও সাহজি’দের বিষয়ে নওসাদের ব্যাখ্যা, ‘‘আইএসএফ এমন একটা মঞ্চ, যেখানে নিজেকে শোধরানো যায়। আমরা সমাজের বাজে ব্যক্তিদের নিয়ে সংশোধন করব। এদের সমাজে ছেড়ে দিলে ক্ষতি হবে। আরাবুলের মতো ব্যক্তিদের আগে অনেক খারাপ জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি যদি কৃতকর্ম ভুলে ভাল পথে চলতে চান, ধর্মীয় ভাবে এবং দেশের আইন তাঁকে সংশোধনের জায়গা দিয়েছে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে