মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
মমতার কথায়, ‘‘এ বার ওরা চাইছে জোর করে বাংলা দখল করবে। করতে পারবে না। যাঁরা এসআইআরের সময় আপনাদের পাশে থাকেননি, তাঁদের ভোট দেবেন না।’’
মমতা বলেন, ‘‘ওরা চাইছে, গোটা দেশে একটাই পার্টি হোক। এ বার ওরা ডিলিমিটেশন বিল আনছে। আমি এখানে দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ করে বলে যাচ্ছি বিল আসছে। বাংলাটাকে টুকরো টুকরো করবে। আমি জানি না কোন রাজ্যের সঙ্গে কোন রাজ্যকে মেলাবে।’’
ছাতনার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন ছোড়েন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘২০১৪ সালের ভোটের আগে বলেছিলেন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা ঢুকবে। কোথায় গেল ১৫ লক্ষ টাকা? কোথায় গেল দু’লক্ষের চাকরি? আমি প্রশ্ন করছি, উত্তর দিন। যদি মিথ্যা কথা বলি, তবে আমার কান কেটে নেবেন। নাকখত দেব। না হলে আপনি নাকখত দিন।’’
মমতা বলেন, ‘‘আমরা প্রতারণা করি না। করব করব বলি না। যা বলেছি, করে দিয়েছি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম লক্ষ্মীর ভান্ডারের কথা। করে দিয়েছি। ভোটের আগেই টাকা বাড়িয়ে দিয়েছি। এখন বলছি, সারা জীবন আপনারা লক্ষ্মীর ভান্ডার পাবেন।’’
মমতা বলেন, ‘‘আমরা সব ধর্ম পালন করি। আমরা কখনও ভেদাভেদ করি না। আমাদের ধর্ম মানবিক। আমাদের কাউকে ধর্ম শেখাতে হবে না।’’
ছাতনার সভা থেকে মমতা বলেন, ‘‘এটা বড় দুর্নীতি। এসআইআরের নামে ওরা সর্বনাশ করেছে বাংলায়।’’
ছাতনার সভা থেকে ঝাড়গ্রামে ওআরএস ভেবে কীটনাশক খাওয়ার ঘটনা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করলেন মমতা। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, ‘‘ভোটের সময় দেখে দেখে খাবেন। বাইরে যে যা দেবে, খাবেন না।’’ তার পরেই মমতা বলেন, ‘‘আমি বাইরে কিছু খাই না। যে কোনও কিছু বাইরে খাওয়ার আগে দেখে নেবেন, ঠিক জিনিসটা খাচ্ছেন কি না। বিশেষ করে রাজনীতিক, ডাক্তার, প্রশাসনিক কর্তারা, উল্টোপাল্টা জিনিস খাবেন না। কারণ, তাঁদের কাজ ২৪ ঘণ্টার। যে কোনও সময় কাজ করতে হয়। তাঁদের যাতে কেউ বিষাক্ত খাবার দিতে না-পারে।’’
ছাতনার সভা থেকে মমতা বলেন, ‘‘নববর্ষ আসছে। নতুন ভোর আসছে। নতুন দিন আসছে। বিজেপির বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার দিন আসছে। গণতন্ত্রের বাক্সে। এ বারে ভোট অন্য রকম। আমার সকলের কাছে আবেদন থাকবে, এনআরসি-তে যাতে নাম বাদ না-পড়ে, আপনার অধিকার যাতে রক্ষা হয়, সে জন্য এ বারের ভোটটা মরণ বাঁচন লড়াই।’’
ছাতনা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী স্বপন মণ্ডলের সমর্থনে স্থানীয় শালচূড়া ফুটবল মাঠে সভা করছেন মমতা। ঘটনাচক্রে, এই ছাতনাতেও শনিবার সভা করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।